আয়কর হানা রাসবিহারীর বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়িতে। শুক্রবার ভোর ৫টা থেকে আয়কর দপ্তরের আধিকারিকেরা তল্লাশি অভিযান শুরু করে। মনোহরপুকুর রোডে তাঁর বাসভবনে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি নির্বাচনী কার্যালয়েও অভিযান চালানো হয়। খবর অনুযায়ী, তল্লাশির সময় দেবাশিস কুমার বাড়িতেই উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান চলাকালীন এক আইনজীবী স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে বিধায়কের বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেন এবং তল্লাশির ‘গাইডলাইন’ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁকে ভিতরে ঢুকতে দেননি এবং গেট থেকেই ফিরিয়ে দেন। এলাকায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি থাকলেও বড় ভিড় চোখে পড়েনি।
Advertisement
এই তল্লাশির নির্দিষ্ট কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সম্প্রতি ইডি জমি দখল সংক্রান্ত মামলায় দেবাশিস কুমারকে একাধিকবার তলব করেছিল। তাঁকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়।
Advertisement
মনোহরপুকুর রোডে দেবাশিসের বাড়ির অদূরেই রয়েছে তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়। এই দুই জায়গাতেই তল্লাশি চলছে। পাশাপাশি মতিলাল নেহরু রোডে দেবাশিসের একটি পার্টি অফিসও রয়েছে। মতিলাল নেহরু রোডে অবস্থিত পার্টি অফিসে তল্লাশি চালাতে গেলে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। রয়েছে। এটি দেবাশিস কুমারের ওয়ার্ডের মধ্যে হলেও বিধানসভা কেন্দ্র হিসেবে বালিগঞ্জের মধ্যে পড়ে।
তৃণমূলের কর্মীদের দাবি, এই পার্টি অফিস থেকেই বালিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তল্লাশির খবর পেয়েই তৃণমূল কর্মীরা সেখানে জড়ো হয়। তাঁদের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ নথি ‘চুরি’ করে বিরোধীদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। বিজেপি প্রার্থী স্বপন দাশগুপ্তের বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে, ‘ফাইল চুরি হচ্ছে কেন স্বপন দাশগুপ্ত জবাব দাও!’
পার্টি অফিসের গেটের সামনে এখনও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছেন। আয়কর দপ্তরে আধিকারিকেরা ভিতরে রয়েছেন। পার্টি অফিসে দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে ডেকে পাঠিয়েছেন আধিকারিকেরা। না জানিয়ে তালা ভেঙে ভিতরে ঢোকার অভিযোগ করেছেন বিক্ষোভরত তৃণমূল কর্মীদের একজন। যদিও শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যান আয়কর আধিকারিকরা।
উল্লেখ্য, চলতি মাসেই কমপক্ষে তিন বার ইডি তলব করে তৃণমূল নেতাকে। প্রথমে ১ এপ্রিল, তার পরে ৩ এপ্রিল এবং ৯ এপ্রিল সিজিও কমপ্লেক্সে ইডির দপ্তরে তাঁকে ডেকে পাঠানো হয়। ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখিও হয়েছিলেন দেবাশিস। সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি। যা বলার দলই বলবে জানান। তবে ইডির এই তলবে নির্বাচনে যে কোনও প্রভাব পড়বে না, সে বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বিদায়ী বিধায়ক তথা রাসবিহারীর প্রার্থী।
ঘটনাচক্রে, বৃহস্পতিবার আলিপুরদুয়ারের সভা থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও দলীয় কর্মীদের সম্ভাব্য গ্রেপ্তারির সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক করেছিলেন।গত রবিবার পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের সভায় গিয়েও তিনি বলেন, ‘অনেককে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা হবে।‘
Advertisement



