দিল্লিতে খুন করে নন্দীগ্রামে গা-ঢাকা দিয়েছিল কুখ্যাত গ্যাংস্টার। তবে শেষরক্ষা হলো না। কারণ দিল্লি এসটিএফের টিম নন্দীগ্রামে এসে খুঁজে বের করল কুখ্যাত গ্যাংস্টারকে। ধৃত ওই গ্যাংস্টারের নাম ওয়াসিম আক্রম ওরফে লম্বু। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার নন্দীগ্রাম থানার সহযোগিতায় কুখ্যাত এই গ্যাংস্টারকে গ্রেপ্তার করল দিল্লি পুলিশের এসটিএফ। এই গ্যাংস্টারের বিরুদ্ধে শুধু খুনের অভিযোগ নয়, ১২৫টিরও বেশি মামলা দিল্লি পুলিশের রেকর্ডে আছে বলে সূত্রের খবর। এখন কার সহযোগিতায় নন্দীগ্রামে ওয়াসিম আক্রম ওরফে লম্বু গা-ঢাকা দিয়েছিল সেটা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, খুন-সহ একশোর বেশি মামলা রয়েছে ওয়াসিমের বিরুদ্ধে। গা-ঢাকা দিয়েছিল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে। যাতে পুলিশের নাগালের বাইরে থাকা যায়। সোমবার নন্দীগ্রাম থানার পুলিশের সহযোগিতায় অভিযুক্তকে চৌরঙ্গী এলাকা থেকে পাকড়াও করল দিল্লি পুলিশ। এই নিয়ে আলোড়ন পড়ে যায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা এলাকায়। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অফিসাররা ওয়াসিমের খোঁজে নন্দীগ্রামে আসেন। নন্দীগ্রাম থানার পুলিশের সঙ্গে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাঁরা অভিযুক্তকে পাকড়াও করেন।
খুন, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্ষণ, চুরি, পুলিশের উপর হামলা-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এই কুখ্যাত গ্যাংস্টারের বিরুদ্ধে। সুতরাং ওয়াসিমের গ্রেপ্তার দিল্লি পুলিশের কাছে বড় সাফল্য বলেই মনে করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৮ বছরে ১২৫টি অপরাধের মামলা হয়েছে ওয়াসিম আক্রমের বিরুদ্ধে। তার মধ্যে ৩৫টি গুরুতর মামলা দায়ের হয়। এমনকী দিল্লিতে একটি খুনের মামলাও রয়েছে। দীর্ঘদিন পালিয়ে বেড়াচ্ছিল এই গ্যাংস্টার। ওয়াসিমকে ‘পলাতক’ ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনস্থ পুলিশ। বিহারের দ্বারভাঙ্গার বাসিন্দা ওয়াসিম আক্রম। তবে গত কয়েকমাস ধরে দিল্লির জাহাঙ্গীরপুরী এলাকায় থাকছিল সে। সেখানেই খুনের পাশাপাশি একের পর এক অপরাধ করে সে বলে নাম উঠে আসে। তখন থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছিল এই কুখ্যাত গ্যংস্টার।
তাছাড়া নন্দীগ্রাম থানার পুলিশের সহযোগিতায় কেন্দামারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার চৌরঙ্গী বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় ওয়াসিম আক্রমকে। দিল্লি পুলিশের বিশেষ দল অভিযুক্তের ‘লোকেশন ট্র্যাক’ করে নন্দীগ্রামে পৌঁছয়। এখানেই শেষ নয়, কেউ যাতে সন্দেহ না করে তার জন্য এই কুখ্যাত গ্যাংস্টার নন্দীগ্রামের এক যুবতীকে বিয়েও করে ফেলে। সেই সূত্রে শ্বশুরবাড়িতে থাকতে শুরু করে ওয়াসিম। এদিন গ্রেপ্তার করার পরে হলদিয়া আদালতে হাজির করা হয় ধৃতকে। ওয়াসিমকে রিমান্ডে নিয়ে দিল্লি যেতে চায় পুলিশ। সেটা আদালতে আবেদন করা হয়েছে।




