• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 10 August, 2026

হাফ ডজন গোলে জিতে ডুরান্ড কাপের শেষ আটে সবুজ-মেরুন, সুযোগ নষ্ট তার চেয়েও বেশি

মাঝমাঠের কাছ থেকে বল নিয়ে একের পর এক প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে বক্সের দিকে এগিয়ে যান তিনি। তার পর ঠান্ডা মাথায় ডান পায়ের শটে বল পাঠান গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে। ৪-০। প্রথম ৪৫ মিনিটেই ম্যাচের ফয়সালা কার্যত হয়ে যায়।

হাফ ডজন গোলে জিতে ডুরান্ড কাপের শেষ আটে সবুজ-মেরুন, সুযোগ নষ্ট তার চেয়েও বেশি

Photo: X

যাদের মোহনবাগান হারিয়েছিল আট গোলে, সেই সাউথ ইউনাইটেডকে ইস্টবেঙ্গলও হারিয়েছিল একই ব্যবধানে। অথচ যাদের ইস্টবেঙ্গল হারিয়েছিল আট গোলে, তাদের মোহনবাগান ছ’গোলের বেশি দিতে পারল না। এই দিক থেকে মোহনবাগান পিছিয়ে রইলেও ডুরান্ড কাপের নক আউট পর্বে পা রাখার ব্যাপারে এগিয়েই রইল সবুজ-মেরুন বাহিনী।

শনিবার সিআইএসএফ প্রোটেক্টর্সকে ৬-০-য় হারিয়ে শেষ আটে জায়গা পাকা করে ফেলল তারা। তবে ‘এ’ গ্রুপ থেকে তাদের প্রতিবেশী ও চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাবও যে শেষ আটে উঠবে, এমন সম্ভাবনা উজ্জ্বল হলেও এখনও নিশ্চিত হয়নি। এটা নিশ্চিত হতে আরো কয়েক দিন লাগবে।

৭৫ শতাংশ বল দখলে রেখে প্রথমার্ধেই চার গোল—মোহনবাগানের দাপট সেখানেই স্পষ্ট। শেষ পর্যন্ত ৬-০। তিন ম্যাচে তিন জয়। গ্রুপ ‘এ’-র এক নম্বর দল হিসাবে কোয়ার্টার ফাইনালে মোহনবাগান। আর সাহাল? হ্যাটট্রিকের সঙ্গে একটি অ্যাসিস্ট। এমন ম্যাচের পরে ম্যাচের সেরা কে, তা নিয়ে বোধহয় কোনও প্রশ্নই নেই।

গত মরসুমে ১৩ গোল করা ম্যাকলারেন এ মরসুমে গোলের খাতাও খুলে ফেলেন। এ সব নিয়ে আনন্দে মাতার অনেক কিছুই আছে সবুজ-মেরুন সমর্থকদের। কিন্তু তাঁরা যে গোল মিসের প্রদর্শনি দেখেন এদিন, তা নিয়ে চিন্তিত হবেন বই কি।

ম্যাচের পরিসংখ্যান বলছে এ দিন ২৫টি গোলের সুযোগ তৈরি করেছে তারা। মোট শটের সংখ্যা ছিল ২৯টি। তার মধ্যে গোলের লক্ষ্যে শট ছিল মাত্র ১০টি এবং গোল হয় ছ’টি। বোঝাই যাচ্ছে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও পারফেকশনের ধারকাছ দিয়ে খুব কমই যাচ্ছে গ্রিক কোচ প্যানাগিওতিস দিলম্পেরিসের দল।

এ দিন ম্যাচটা যেন শুরুই হয় শুধু গোল হওয়ার জন্য। প্রথমার্ধে চার গোল। তার মধ্যে একাই তিনটি সাহালের। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দু’টি। কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে কার্যত একপেশে ফুটবল খেলে সবুজ-মেরুন বাহিনী। ডুরান্ড কাপের গ্রুপ ‘এ’-তে তিনটি ম্যাচে তিনটি জয় নিয়ে গ্রুপে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করল তারা। গ্রুপ পর্বে ১৫ গোল করেছে মোহনবাগান, এখন পর্যন্ত একটিও হজম করেনি তারা। বিশাল কয়েথের ক্লিন শিটের সংখ্যা তিন।

এ দিনের ম্যাচের নায়ক বলে যদি কেউ থেকে থাকেন, তা হলে তিনি সহাল আব্দুল সামাদ। প্রথমার্ধেই হ্যাটট্রিক করে ম্যাচের রং বদলে দেন এই মিডফিল্ডার। শুধু গোল নয়, দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর করা দুর্দান্ত ‘নো-লুক’ পাস থেকেই আসে জেমি ম্যাকলারেনের গোলও।

শুরু থেকেই আক্রমণে ঝড় তুলেছিল মোহনবাগান। নবম মিনিটে শুভাশিস বোসের দূরপাল্লার শট কোনও মতে সামলান সিআইএসএফ গোলরক্ষক। তবে আর বেশিক্ষণ দূর্গ রক্ষা করতে পারেননি তিনি। ১৭ মিনিটে নিজেদের অর্ধ থেকে দেজান দ্রাজিচের দুর্দান্ত ডিফেন্স-চেরা পাস। ডান দিক দিয়ে ছুটে এসে টেকচাম অভিষেক সিং শট নেন। বল ডিফ্লেক্ট হয়ে পৌঁছয় লিস্টন কোলাসোর কাছে। নিজে শট না নিয়ে নিঃস্বার্থ ভাবে সাহালের দিকে বল বাড়িয়ে দেন লিস্টন। কাছ থেকে গোল করতে ভুল করেননি সাহাল।

দু’মিনিট পরেই আবার গোল। এ বার মনবীর সিংহের বাড়ানো বল ধরে ডান দিক দিয়ে ঢুকে পড়েন দ্রাজিচ। সেখান থেকে তাঁর নিখুঁত ক্রস। গোলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা সাহালের কাজটা ছিল শুধু বল জালে পাঠানো। সেটাই করলেন। ১৯ মিনিটে ২-০।

এর পর গোলের জন্য আর বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। ২৪ মিনিটে অভিষেকের ডান দিকের ক্রস নিয়ন্ত্রণ করে দারুণ দক্ষতায় বল জালে পাঠান মনবীর। মোহনবাগান তখন ৩-০ এগিয়ে।

আর ৩৭ মিনিটে আসে সহালের হ্যাটট্রিক। মাঝমাঠের কাছ থেকে বল নিয়ে একের পর এক প্রতিপক্ষকে কাটিয়ে বক্সের দিকে এগিয়ে যান তিনি। তার পর ঠান্ডা মাথায় ডান পায়ের শটে বল পাঠান গোলরক্ষকের নাগালের বাইরে। ৪-০। প্রথম ৪৫ মিনিটেই ম্যাচের ফয়সালা কার্যত হয়ে যায়।

বিরতির পর চারটি পরিবর্তন করেন দিলমপেরিস। নামেন আশিস রাই, অ্যালেক্স সাজি, কিয়ান নাসিরি এবং অভিষেক ধনঞ্জয় সূর্যবংশী। দ্বিতীয়ার্ধে মোহনবাগানের দলে আর কোনও বিদেশি নামেননি। যাঁকে দেখার আশায় মাঠে গিয়েছিলেন সমর্থকেরা, সেই মিগুয়েল ফিগেরাকে রিজার্ভ বেঞ্চে নামাননি কোচ।

মনবীর একাধিক বার গোলের কাছাকাছি পৌঁছলেও ব্যবধান বাড়াতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত ৬৮ মিনিটে পঞ্চম গোল। এ বারও নায়ক সাহাল। তাঁর অসাধারণ ‘নো-লুক’ থ্রু পাসে বল পেয়ে যান পরিবর্ত হিসেবে নামা জেমি ম্যাকলারেন। গোলরক্ষককে সামনে পেয়ে কোনও ভুল করেননি অস্ট্রেলীয় স্ট্রাইকার। বল গোলে পাঠিয়ে দেন দু’পায়ের ফাঁক দিয়ে।

এর পাঁচ মিনিট পরেই ৬-০। লিস্টন ও অভিষেকের দারুণ বোঝাপড়া। বক্সে অভিষেকের নিখুঁত দৌড়। তার পর গোলের ওপর দিকে উঠে যাওয়া নিখুঁত শটে সিআইএসএফের জালে ছ’নম্বর গোল।

শেষ দিকে সিআইএসএফ দু’এক বার সান্ত্বনার গোলের চেষ্টা করলেও গৌরব দাসের ফ্রি-কিক এবং গুরুপাল সিংহের শট সামলাতে হয় মোহনবাগান গোলরক্ষককে। তবে ততক্ষণে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সবুজ-মেরুনের হাতে।