• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 20 June, 2026

‘সত্যকে কখনও চিরতরে চেপে রাখা যায় না’, রাজ্যবাসীকে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শুভেচ্ছা মুখ্যমন্ত্রীর

এই দিনটি নিয়ে নানা অনুষ্ঠান রয়েছে রাজ্যে। রবিবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। সেই অনুষ্ঠানে কলকাতায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী

আজ রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’। রাজ্যে সরকার বদলের পরই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার। রাজ্যের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে স্কুলগুলিতেও এই দিনটি পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৩ জুন থেকে ৬ জুলাই পর্যন্ত স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় স্মারক বক্তৃতা, সেমিনার, প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা এবং বিতর্কসভা হবে। শ্যামাপ্রসাদের রচনা ও বক্তৃতার অংশবিশেষ পাঠ, তাঁর জীবন এবং অবদান কেন্দ্রিক প্রদর্শনী আয়োজনেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই দিনটিতে রাজ্যবাসীকে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে নিজের মত ব্যক্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এদিকে এই দিনটি পালনের কারণও তুলে ধরেছেন তিনি। শনিবার রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সকালেই তিনি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গবাসীকে। দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সেখানে সমাজমাধ্যমে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লেখেন, ‘দীর্ঘ কয়েক দশক পর, এই প্রথমবার ভারত কেশরী ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মহান আদর্শে অনুপ্রাণিত আমাদের রাষ্ট্রবাদী সরকার পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির প্রকৃত ও ঐতিহাসিক ঘটনাক্রমকে পূর্ণ মান্যতা দিয়ে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ সরকারিভাবে পালন করতে চলেছে।’

অন্যদিকে এই ২০ জুন তারিখটি নিয়ে বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই দিনটির মাহাত্ম্য তুলে ধরেছেন তিনি সকলের সামনে। ফেসবুক পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, ‘ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের প্রতি বাঙালি চিরঋণী। আজকের এই বিশেষ দিনে আমরা আমাদের মহান রাষ্ট্রনায়ককে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করব, যাঁর দূরদর্শিতা না থাকলে আজ ভারতের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ নামক কোনও রাজ্যের অস্তিত্বই থাকত না। অখণ্ড বাংলাকে যখন সম্পূর্ণভাবে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করার এক ভয়ঙ্কর নীলনকশা তৈরি হয়েছিল, তখন তার বিরুদ্ধে বজ্রকঠিন প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তাঁর অবিচল নেতৃত্ব, অদম্য আন্দোলন এবং দূরদর্শী ভাবনার ফলেই পাকিস্তানের গ্রাস থেকে মুক্ত করে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ‘পশ্চিমবঙ্গ’ রাজ্যটি গঠন করা সম্ভব হয়েছিল।’

তাছাড়া এই দিনটি নিয়ে নানা অনুষ্ঠান রয়েছে রাজ্যে। রবিবার আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। সেই অনুষ্ঠানে কলকাতায় থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার রাতে তিনি থাকবেন লোকভবনে। এই আবহে পশ্চিমবঙ্গ দিবস আগের সরকার পালন করতে দেয়নি বলেও জানিয়ে দিলেন। আর তাই শুভেন্দু অধিকারী লিখলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বিগত সরকার শুধুমাত্র নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক রক্ষা এবং নির্লজ্জ তোষণের রাজনীতি চরিতার্থ করার জন্য এই পবিত্র দিনটির গুরুত্বকে সম্পূর্ণ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। ইতিহাসের পাতা থেকে বাঙালির এই আত্মপরিচয়ের লড়াইকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করা হয়, যাতে মানুষ নিজের শিকড় এবং পশ্চিমবঙ্গ সৃষ্টির নেপথ্যের প্রকৃত নায়কদের ভুলে যান। কিন্তু সত্যকে কখনও চিরতরে চেপে রাখা যায় না। আমাদের সরকার সেই ঐতিহাসিক ভুলকে সংশোধন করে আজ বাংলার প্রকৃত ইতিহাসকে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।’