ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট নিয়ে উত্তেজনা নতুন নয়। কিন্তু সেই আবহকে কাজে লাগিয়ে ভুয়ো খবর ছড়ানো হয়েছিল বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন ভারতের প্রাক্তন অলরাউন্ডার ইরফান পাঠান (Irfan Pathan)। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের একটি সংবাদমাধ্যম এমন একটি সম্পূর্ণ মিথ্যা খবর প্রকাশ করেছিল, যেখানে বলা হয়েছিল বাবর আজম তাঁকে সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকার করেছেন। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনও ঘটনাই ঘটেনি।
জিয়োহটস্টারের অনুষ্ঠান ‘চিকি সিঙ্গলস’-এ ইরফান (Irfan Pathan) বলেন, সামাজিক মাধ্যমে ট্রোলিং এবং ভুয়ো তথ্য ছড়ানো এখন নিত্যদিনের ঘটনা। সেই প্রসঙ্গেই তিনি(Irfan Pathan) পুরনো একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন। ইরফানের (Irfan Pathan)কথায়, ‘ট্রোলিং আর ভুয়ো তথ্য রোজই ছড়ায়। আমাদের প্রতিবেশী দেশের একটি সংবাদমাধ্যম একবার খবর প্রকাশ করেছিল যে আমি বাবর আজমের সাক্ষাৎকার নিতে গিয়েছিলাম। আর বাবর নাকি বলেছিলেন, ‘ও আমাদের দেশকে ট্রোল করে, তাই আমি ওকে সাক্ষাৎকার দেব না।’ পুরো ঘটনাটাই ছিল মিথ্যা। কেউ একজন অন্য একটি ছবিতে ফটোশপ করে আমার মুখ বসিয়ে দিয়েছিল’।
এরপরেই আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন ভারতের প্রাক্তন তারকা (Irfan Pathan)। তিনি (Irfan Pathan)জানান, যে ছবিটি ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটি আদৌ তাঁর ছিল না। ‘আসল ছবিতে ছিলেন বাংলাদেশের এক তরুণ সাংবাদিক। জীবনে প্রথমবার মাঠে গিয়ে তিনি(Irfan Pathan) বাবরের সাক্ষাৎকার চেয়েছিলেন, কিন্তু পাননি। সেই সাংবাদিকের শরীরে আমার মুখ বসিয়ে গল্পটা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। খবরটি ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ দেখেছিল এবং সবাই বিশ্বাসও করেছিল যে ছবিতে আমিই আছি’।
তবে এত কিছুর পরেও কেন তিনি (Irfan Pathan) প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করেননি, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইরফান। বলেন (Irfan Pathan), ‘এমন ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই ঘটে। প্রতিদিন আমাদের নামে বা কোনও না কোনও ক্রিকেটারের নামে মিথ্যা কথা ছড়ানো হয়। যদি প্রত্যেকটার জবাব দিতে শুরু করি, তা হলে নিজের জীবনটাই আর বাঁচতে পারব না’।
আরও পডুন: বিবিয়ানোর সঙ্গে সতীর্থ হতে নারাজ, ভারতের অনূর্ধ্ব-১৫ দলের দায়িত্ব ছাড়ছেন রঞ্জিত বাজাজ
২০০৩ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন ইরফান (Irfan Pathan)। ব্যাট ও বল— দু’দিকেই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন তিনি (Irfan Pathan)। অবসরের পর ধারাভাষ্যকার এবং ক্রিকেট বিশ্লেষক হিসেবেও পরিচিত মুখ। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর দাবি, সামাজিক মাধ্যমের যুগে ভুয়ো খবর এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে অনেক সময় মানুষ যাচাই না করেই তা বিশ্বাস করে ফেলেন।




