বুধবার রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক এবং সামাজিক ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে চালু হলো অন্নপূর্ণা যোজনা। আনুষ্ঠানিক সূচনা এদিন নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়াম থেকে করা হলো। আর এখান থেকেই স্পষ্ট কথা বলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্য সরকার এই টাকা তাঁদের দিচ্ছেন যাঁদের প্রকৃত প্রয়োজন আছে এবং যাঁরা এই দেশের নাগরিক। এই প্রকল্পে যাতে কোনও দুর্নীতি না হয় তার জন্য কড়া ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এমনকী যাতে প্রত্যেক মহিলা পান তার জন্য অনলাইনে আবেদনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এবার এই প্রকল্পের টাকা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
এদিকে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্য সরকারের দাবি, ইতিমধ্যেই ১ কোটি ৬০ লক্ষেরও বেশি মহিলা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র জন্য ফ্যামিলি লেভেল ডেটা কালেকশন ফর্ম জমা দিয়েছেন। সেগুলি পরীক্ষা করা হয়ে গিয়েছে। তাই ওইসব তথ্য পোর্টালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ঝাড়াই বাছাই করা হয়েছে। তারপর ডিজিটাল ভেরিফিকেশনও হয়ে গিয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে বলেন, ‘প্রথমে প্রায় ২৭ লক্ষ আবেদনপত্রের তথ্য মিলেছিল। পরে দীর্ঘ যাচাই-বাছাইয়ের পর ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদনকারীর তথ্য আপলোড করা হয়েছে। এটা কোনও ব্যক্তি বা দলের টাকা নয়, এটা সরকারের টাকা। সুতরাং উপযুক্ত মানুষই এই সুবিধা পাবেন, এটাই আমরা বিশ্বাস করি।’
অন্যদিকে এদিন অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করেছে বলেই খবর। এই বিষয়টি নিশ্চিত করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদনকারীর মধ্যে ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে। বাকি প্রায় ১ কোটি ৩০ লক্ষের মধ্যে যাচাই করে বুধবার দুপুর ১টা থেকে ১ কোটি ৯ লক্ষ ৯২ হাজার ৩৭৮ জনের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো শুরু হয়েছে। পাহাড়ি এলাকার ১ লক্ষ ২২ হাজার ৬২৮ জন মহিলাও এই প্রকল্পের আওতায় টাকা পেয়েছেন।’
তাছাড়া এই টাকা পেয়ে যথেষ্ট খুশি মহিলারা। যাঁরা পাননি বলে অভিযোগ ছিল তাঁদের অনেকেই এবার পেয়ে গিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। তার মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে শরণার্থী হয়ে আসা এবং সিএএ-তে আবেদন করা ব্যক্তিরা, অথবা যাঁদের নাম ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে, তাঁদের আবেদন চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই ভাতা বন্ধ করা হবে না। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ক্ষেত্রে ২৭ লক্ষ এমন নাম পাওয়া গিয়েছিল, যারা ভারতীয় নন। আবার কেউ কেউ এখানে থাকেন না। কারও তিন জায়গায় নাম ছিল। ১০ লক্ষ পুরুষের অ্যাকাউন্টেও টাকা গিয়েছে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা কি পুরুষদের অ্যাকাউন্টে যাওয়া উচিত? মাত্র দেড় মাসের সরকার। প্রধানমন্ত্রী যে গ্যারান্টি দিয়েছিলেন, সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের দিকেই আমরা অনেকটা এগিয়ে গিয়েছি।’




