অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল সোমবার বিধানসভায় পেশ করা হয়নি। তাই নিয়ে নানা কথা উঠতে শুরু করে। আদৌ এই বিল আসবে কিনা তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন অনেকে। এই আবহে বিধানসভায় দাঁড়িয়েই সব গুঞ্জনে জল ঢেলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর তাতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল আসবে। আর তা এই রাজ্যে কার্যকরও হবে। এই বিষয়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, পশ্চিমবঙ্গে এবার থেকে সকলের জন্য একটিই সাধারণ আইন বলবৎ হবে, ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা আলাদা আইনের দিন শেষ হতে চলেছে। এই বিল পাশের বিষয়ে তাঁদের সরকার সম্পূর্ণ সংকল্পবদ্ধ।
এদিকে আগস্ট মাসেই রাজ্য বিধানসভায় পেশ হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল। সোমবার তিনটি বিল পেশ করে এই কথাই জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ইউসিসি বিল আনতে বিশেষ কমিটি তৈরি করা হচ্ছে। তার নেতৃত্বে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনাপ্রসাদ দেশাই। এই কমিটিতে বিভিন্ন পেশার পাঁচজন সদস্য থাকবেন। আগামী ২ জুলাই মন্ত্রিসভায় খসড়া বিলটি আসবে অনুমোদনের জন্য। তারপর চার সপ্তাহ প্রস্তুতির কাজ চলবে। সেটা শেষ হলে আগস্ট মাসের গোড়ায় অর্থাৎ বাদল অধিবেশনে পেশ হবে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, তাঁদের দলের পথপ্রদর্শক শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শকে সামনে রেখেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। সোমবার এই ঘোষণা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমরা এই রাজ্যে ইউসিসি বিল আনব। গুজরাত, উত্তরাখণ্ড, অসমের পর। তাতে সব সম্প্রদায়ের জন্য এক আইন কার্যকর হবে। আলাদা আলাদা ধর্মের ভিত্তিতে আলাদা কোনও আইন হবে না। শুধু আদিবাসী, জনজাতিরা এটার বাইরে থাকবে। আপনারা বিচলিত হবেন না। যদি কোনও আপত্তি থাকে, তবে তা জানানোর সুনির্দিষ্ট জায়গা আছে। আগামী ২ তারিখে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবিত বিলের খসড়া অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে।’
তাছাড়া যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হচ্ছে, সেখানে চেয়ারম্যান সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনাপ্রসাদ দেশাই। বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য সরকার। সদস্যদের মধ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার, একজন আইনি বিশেষজ্ঞ, একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং একজন সমাজকর্মী থাকবেন। প্রশাসনিক দপ্তরের একজন অতিরিক্ত সচিবও থাকবেন। বিধানসভায় এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘চার সপ্তাহ পর কমিটির সুপারিশ মেনে বিল পেশ হবে। আপনাদের কারও এই নিয়ে কিছু বক্তব্য থাকলে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা দেশাইয়ের কাছে নিজেদের বক্তব্য জানাবেন। তবে শুনে রাখুন, আমাদের সংকল্পপত্রে ছিল, পশ্চিমবঙ্গে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি লাগু হবে। সেটা হবেই। আগামী আগস্ট মাসের ‘ক্রান্তি মাসে’ কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ হাতে পাওয়ার পরই বিধানসভায় ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বিল’ পেশ করা হবে এবং তা দ্রুত সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করা হবে।’




