• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 1 July, 2026

বিধানচন্দ্র রায়কে সম্মান জানিয়ে হাসপাতালের নামবদল, তৃণমূলকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

চিকিৎসক দিবসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক

বিধানচন্দ্র রায়কে সম্মান জানিয়ে হাসপাতালের নামবদল, তৃণমূলকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর

বিধাননগর সাব ডিভিশনাল হাসপাতালের নাম বদল করে ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সল্টলেকে ময়ূখ ভবনে জাতীয় চিকিৎসক দিবসের অনুষ্ঠান থেকে এই ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। আর এখানেই বিধানচন্দ্র রায় ও জ্যোতি বসুর কথা তুলে এনে বিদায়ী তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তোপ দাগলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিধাননগর সাব ডিভিশনাল হাসপাতালের নতুন নাম রাখা হচ্ছে ‘ডাঃ বিধানচন্দ্র রায় মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল’। রাজ্যের অন্যতম প্রখ্যাত চিকিৎসক তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়কে সম্মান জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে জাতীয় চিকিৎসক দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল-সহ অনেকে। এখানে দাঁড়িয়েই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘২০০৬ সালে নির্বাচনে জেতার পরে সরকারি লাইব্রেরি থেকে ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের ভাষণ পড়েছি। এখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর একটা কথা মনে পড়ছে। প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, যেখানেই আমি শুরু করতে যাচ্ছি, সেখানেই ডাঃ রায় শুরু করে দিয়ে গিয়েছেন। আর আমার অবস্থা, আমি যেখানেই শুরু করতে যাচ্ছি সেখানে দেখছি ধ্বংসলীলা।’ আগের তৃণমূল সরকারকে এভাবেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

অন্যদিকে চিকিৎসক দিবসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং প্রশাসনের একাধিক আধিকারিক। ওই মঞ্চ থেকেই এখনকার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং আগের সরকারের ভূমিকা নিয়ে সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর তোপ, ‘রাজ্যের হাসপাতালের এই বেহাল দশা, এটা কি কাম্য ছিল? মেধায় পশ্চিমবঙ্গ যে কোনও দেশকে টেক্কা দিতে পারে। কিন্ত আগের সরকারের আমলে যা হয়েছে, তাতে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে অযথা বিভাজন তৈরি হয়েছিল! চিকিৎসা ক্ষেত্রে এই আমরা-ওরার দরকার ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের বদলে রাজনৈতিক বিভাজনের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল।’

তাছাড়া শুভেন্দু অধিকারী একদিকে যেমন ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়ের প্রশাসনিক এবং মানবিক দিকটি তুলে ধরেছেন, অপরদিকে আগের সরকারের জমানার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর দুর্বলতা সামনে এনে বিজেপি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, ‘সমাজের সংকটের সময় চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীরাই মানুষের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে ওঠেন। তাঁদের সম্মান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। বাংলায় এত অবহেলিত চিকিৎসা ব্যবস্থা কাম্য ছিল না।’ এদিন মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পরিষেবায় চালু করা হল ‘জননী’ পোর্টাল। সঠিক সময়ে সঠিক স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করতেই এই পোর্টাল চালু করা হয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলিতে নজরদারির জন্য স্বাস্থ্য ভবনের কন্ট্রোল রুম উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী।