• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 29 June, 2026

বিধানসভায় গুন্ডাদমন বিল পেশ, কেন এমন উদ্যোগ? ব্যাখ্যা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অশান্ত হয়ে উঠেছিল জঙ্গিপুরের সামশেরগঞ্জ, সুতি, ধুলিয়ানের মতো এলাকা

বিধানসভায় গুন্ডাদমন বিল পেশ, কেন এমন উদ্যোগ? ব্যাখ্যা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

Image: IANS

বিধানসভায় গুন্ডাদমন বিল সোমবার পেশ করল বিজেপি সরকার। ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিজ’ বিল পেশ হলো। তৃণমূলের জমানায় রাজ্যে লুটপাট এবং দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি বহু তৃণমূল নেতা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের তাক লাগানো প্রতিপত্তি দেখে চোখ কপালে উঠেছে বাংলার মানুষের। বিদ্যুৎ গতিতে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে ওঠার অভিযোগও রয়েছে অনেকের বিরুদ্ধে। এই আবহে বিধানসভায় পেশ হল ‘পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬’। এটাই ‘গুন্ডাদমন বিল’। বিধানসভায় গুন্ডাদমন বিল পেশ করেন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা। কেন এমন বিল আনতে হলো? তার ব্যাখ্যা অবশ্য দিয়েছেন মু্খ্যমন্ত্রী।

এদিকে এদিন বিধানসভায় উপস্থিত ছিলেন ওয়াকফ হিংসার বলি চন্দন দাস এবং হরগোবিন্দ দাসের পরিবার। গুন্ডাদমন বিলের উপর আলোচনার সময় তাঁরা উপস্থিত বিধানসভার গ্যালারিতে বসে ছিলেন। বিধানসভায় গুন্ডাদমন বিল পেশের পরে বক্তব্য রাখতে উঠে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘এই বিল কেন দরকার, তার উদাহরণ গ্যালারিতে বসে আছেন। গ্যালারিতে বসে আছেন হরগোবিন্দ দাসের স্ত্রী, তাঁর পরিবার। মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান, সামশেরগঞ্জ, মোথাবাড়ি। সবাই হাততালি দিয়ে স্যালুট করুন এই পরিবারকে।’ তখনই অধিবেশন কক্ষে থাকা বিজেপি বিধায়করা উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান ওই পরিবারকে।

অন্যদিকে ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অশান্ত হয়ে উঠেছিল জঙ্গিপুরের সামশেরগঞ্জ, সুতি, ধুলিয়ানের মতো এলাকা। ওই হিংসায় বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে গিয়ে খুন করা হয় হরগোবিন্দ দাস ও চন্দন দাসকে। তারপর দুষ্কৃতীরা পলাতক ছিল। পরে গ্রেপ্তার এবং সাজা হয়েছে। তৎকালীন বিরোধী দলনেতা আজকের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরিবারের পাশে দাঁড়ান। তাঁদের নিয়ে আসেন কলকাতায়। এই বিলের স্বপক্ষে বিধানসভায় রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ বলেন, ‘যাঁরা মনে করেন সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করা কোনও অপরাধই নয়, তাদের ভুল ভাঙার সময় এসেছে। ১৫ বছর ধরে লুট, সন্ত্রাস, রাহাজানি হয়েছে। সিএএ, ওয়াকফ নামে বাংলায় নৈরাজ্য হয়েছে। শাহাজাহানদের মতো গুন্ডাদের পোষা হতো। কোটি কোটি টাকার বিছানায় ঘুমোতেন তৃণমূলের নেতারা। গরিবের টাকা যাঁরা শোষণের চেষ্টা করবেন, তাঁদের শাস্তি দেওয়ার জন্যই এই বিল অত্যন্ত দরকার। সরকারি সম্পত্তির দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস পাবে না আর। এই বিলের মাধ্যমে পুলিশকে টেবিলের তলা থেকে বের করে গুন্ডাদের টেবিলের তলায় ঢোকানোর সময় এসেছে।’

তাছাড়া বিধানসভায় গুন্ডাদমন বিল পেশের সময় বিধানসভা গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন মৃতদের পরিবারের সদস্যরা। তাঁদেরকে সামনে রেখে বিজেপি কাঁথির বিধায়ক অরূপকুমার দাসের বক্তব্য, ‘তৃণমূল দুষ্কৃতীদের সোশালাইজেশন করে গিয়েছে। এই জঙ্গলরাজ যাতে আর না চলে তার জন্য এই বিল। তৃণমূল আমলে গুন্ডারা থানায় ঢুকলে, পুলিশ টেবিলের তলায় লুকিয়েছে। পাবলিক ধরে নিয়েছিল এটা নর্মাল। তা প্রতিরোধ করতে এই আইন আনা দরকার।’