কলকাতা হাইকোর্টে তৃণমূল কংগ্রেসের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ সংক্রান্ত মামলার শুনানি ছিল বৃহস্পতিবার। এদিন শুনানিতে হাইকোর্টের বিচারপতি জানিয়েছেন, অবসরপ্রাপ্ত দুই বিচারপতির নেতৃত্বে অ্যাকাউন্টগুলি খুলে ন্যূনতম কাজ করার অনুমতি দিতে চায় হাইকোর্ট। কিন্তু এক্ষেত্রে কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে না।
এদিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি ছিল। আজ তৃণমূলের আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি জানান, অভিযোগ হওয়ার পরের দিনই তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে গেল। এর জন্য ২৪ ঘণ্টা সময়ও লাগেনি। পুলিশ দিয়ে যে একটা সক্রিয় রাজনৈতিক দলকে সরানো যায়, এটা তারই প্রমাণ।
এরপরেই বিচারপতি জানান, ২৮ জুন সন্ধ্যা ৬টায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। আর ঠিক তার পরের দিন সকালে ব্যাঙ্কের তরফে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার কথা জানানো হয়। অভিযোগ দায়েরের সময় নিয়ে কোর্ট চিন্তিত। বিচারপতির দাবি, অভিযোগ জানানোর আগে তৃণমূলের যে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে, তা নিয়ে কোনও অপরাধের অভিযোগ ওঠেনি। কিন্তু তারপরেও পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পরেই দ্রুত অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিল কেন?
আদালতের সেই প্রশ্নের পরে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা জানান, পুলিশের তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। একটা দলের একাধিক নেতা ভিন্ন বয়ান দেওয়ার ফলে কে তৃণমূলে রয়েছেন, সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তাই পুরো দিকটা খতিয়ে না দেখে অ্যাকাউন্ট চালুর নির্দেশ দেওয়া ঠিক নয় বলে তিনি জানিয়েছেন।
হাইকোর্টের তরফে জানানো হয়েছে, ব্যাঙ্ককে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে তারা কীসের জন্য অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করেছে। সেই সঙ্গে অ্যাকাউন্টে কত টাকা রয়েছে সেটাও ব্যাঙ্ককে জানাতে হবে বলে আদালতের তরফে জানানো হয়েছে। আগামী বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, সোমবার তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট চালু করার দাবিতে মামলার শুনানির আবেদন করা হয়েছিল। আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যর বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেইদিনই জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন করেছিলেন। যদিও কলকাতা হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, সব পক্ষকে নোটিস দেওয়ার পরে সোমবার বা মঙ্গলবার শুনানি করা হতে পারে। তবে কেন্দ্রের সলিসিটার জেনারেলের আবেদনে শুনানি পিছিয়ে গেল বলে জানা গিয়েছিল।
রাজ্য সরকারের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। বৃহস্পতিবার অর্থাৎ আজ এই মামলার শুনানি করার আর্জি জানান সলিসিটর জেনারেল।




