• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 7 June, 2026

সম্পত্তির লোভে দিল্লির অধ্যাপিকাকে খুন বর্ধমানের দম্পতির

সন্দেহ এড়াতে অভিযুক্তরা নিজেদের সন্তানকেও সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণী অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়। দীর্ঘ তদন্তের পর দিল্লি পুলিশ বর্ধমান থেকে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, দেবস্মিতার সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করে বর্ধমান থেকে প্রায় ১৪০০ কিলোমিটার দূরে দিল্লি গিয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছে। সন্দেহ এড়াতে অভিযুক্তরা নিজেদের সন্তানকেও সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ।

গত বৃহস্পতিবার পূর্ব দিল্লির বসুধারা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টে নিজের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হয় দেবস্মিতার রক্তাক্ত দেহ। তাঁর দিদি দেবারতি পাল বারবার ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে ফ্ল্যাটে গিয়ে দেখেন দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। এরপরে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকতেই মেঝেতে বোনের নিথর দেহ তিনি পড়ে থাকতে দেখেন।

জানা গিয়েছে, মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন এবং হাতের শিরা কাটা ছিল। তবে ঘর থেকে কোনও মূল্যবান সামগ্রী বা গয়না খোয়া যায়নি। প্রথম থেকেই তদন্তকারীদের সন্দেহ ছিল এটা সাধারণ চুরি বা ডাকাতির ঘটনা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

দেবস্মিতা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শিবাজী কলেজের অধ্যাপিকা ছিলেন। দিল্লিতে তিনি একাই থাকতেন। পারিবারিক সূত্রে বর্ধমানে তাঁর একটি বাড়ি রয়েছে। সেই বাড়িতেই ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন ধৃত দম্পতি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই বাড়ি দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরেই পরিকল্পনা করছিলেন অভিযুক্তরা। বাড়ি খালি করার জন্য দেবস্মিতা তাঁদের উপর চাপ সৃষ্টি করছিলেন বলেও অভিযোগ।

জানা গিয়েছে, আবাসনের সিসিটিভি ফুটেজ দেখেই বর্ধমানের দম্পতিকে চিহ্নিত করা হয়। ফুটেজে দেখা গিয়েছে, মুখে মাস্ক পরে এক দম্পতি সিঁড়ি দিয়ে সাততলার ফ্ল্যাটে উঠছেন। প্রায় আধ ঘণ্টা পর তাঁরা পোশাক বদলে বেরিয়ে আসেন। নিচে অপেক্ষারত একটি গাড়িতে চেপে তাঁরা এলাকা ছেড়ে বেরিয়ে যান। সেই গাড়ির চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করেই পুলিশ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পায়।

প্রথম দিকে প্রায় ২০০ জনের যাতায়াত খতিয়ে দেখে ১৩ জনকে সন্দেহভাজনের তালিকায় রেখেছিল পুলিশ। দেবস্মিতার প্রাক্তন স্বামীও পুলিশের নজরে ছিল । এরপর চার রাজ্যে অভিযান চালিয়ে শেষপর্যন্ত রবিবার বর্ধমান থেকে অভিযুক্ত দম্পতিকে দিল্লি পুলিশের বিশেষ দল গ্রেপ্তার করে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ খুনের নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে আরও তথ্য জানার চেষ্টা করছে।