বন্দে মাতরম গানটি পুরো গাওয়া হবে নাকি দুটি স্তবক? এই নিয়ে রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে জোর চর্চা চলছে। পক্ষে বিপক্ষে বহু মতামত পড়ছে। গানের প্রথম দুটি স্তবকের পরিবর্তে সম্পূর্ণ অংশ পরিবেশনের আইনি প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে উঠেছে। এই আবহে প্রবীণ অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর একটি মন্তব্য করেছেন। সেটি নিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষ দেশে গানের পরবর্তী অংশগুলির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করতেই শর্মিলা ঠাকুরের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে বিজেপি। অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতের পর এবার রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সরাসরি শর্মিলা ঠাকুরকে নিশানা করলেন। আর সেটাও শর্মিলার নাতির নাম নিয়ে।
এদিকে দেশের বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও জানিয়ে দিয়েছেন, দুটি স্তবকই গাওয়া হবে। সেটি কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। তা নিয়েও পাল্টা আক্রমণ ধেয়ে এসেছিল দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পক্ষ থেকে। কিন্তু কদিন আগে বন্দে মাতরম গানটি পরিবেশনের বিষয়ে প্রবীণ অভিনেত্রী মন্তব্য করেন যে, ভারতবর্ষে এক ও অদ্বিতীয় ঈশ্বরে বিশ্বাসী এমন বহু ধর্মাবলম্বী মানুষ রয়েছেন, যাঁদের পক্ষে ‘বন্দে কালী’ বা ‘বন্দে দুর্গা’র মতো দেবদেবী কেন্দ্রিক পংক্তিগুলি গ্রহণ করা কঠিন হতে পারে। তাই দেশপ্রেম এবং মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপক প্রথম দুটি স্তবকই সর্বজনগ্রাহ্য বলে তিনি মনে করেন। শর্মিলা ঠাকুরের এই মন্তব্যের পরই কঙ্গনা রানাওয়াত তাঁকে ‘হিন্দু-মুসলিম মানসিকতার ঊর্ধ্বে’ ওঠার পরামর্শ দেন। আর এবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ পরামর্শ দিলেন শর্মিলা ঠাকুরকে। তা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা।
অন্যদিকে বন্দে মাতরম গোটা গানটি অনেকে না জানলেও গাইতে কারও আপত্তি নেই। বরং এতদিন দুটি স্তবক গাওয়া হতো বলেই সেটি বেশিরভাগ মানুষের হৃদয়ে, মননে রয়েছে। কিন্তু গোটা গান গাইতে আপত্তি কোথায়? এমন প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে। কারণ শর্মিলা ঠাকুর দুটি স্তবকের পক্ষে মন্তব্য করে বসেছেন। তার জবাবে শমীক ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘শর্মিলা ঠাকুর তাঁর ব্যক্তিগত মতামত বলতেই পারেন। কিন্তু যে আক্রমণকারী তৈমুর ভারতে এসে মন্দির ধ্বংস করেছিল, সাধারণ মানুষকে হত্যা এবং ধর্মান্তরিত করেছিল, সেই একই নাম রয়েছে ওঁর নিজের বাড়িতেও। উনি নিজের নাতির নাম রেখেছেন তৈমুর আলি খান। তাই ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে উনি যত কম কথা বলেন ততই মঙ্গল।’
তাছাড়া সইফ আলি খান এবং করিনা কাপুর তাঁদের বড় ছেলের নাম রেখেছেন ‘তৈমুর’। এই নাম রাখার পর থেকেই চরম কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন বলিউড অভিনেতা-অভিনেত্রী। যদিও করিনা কাপুর এই নামকরণের বিষয়ে স্পষ্ট করেছিলেন, ‘তৈমুর’ শব্দের অর্থ লোহা বা ইস্পাত এবং সন্তানের ভবিষ্যৎ দৃঢ়তার কথা ভেবেই এই নামকরণ করা হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলতে থাকা সেই নাম বিতর্ককেই এবার ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে রাজনৈতিক বিবাদে তুলে এনে পরামর্শ দিলেন শমীক ভট্টাচার্য।




