বন্দে মাতরম’ গেয়ে শুরু, আর গান শেষ হতেই অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি —এভাবেই শেষ হল সংসদের বাদল অধিবেশন। বৃহস্পতিবার লোকসভার শেষ দিনের অধিবেশন শুরু হয় জাতীয় গানের ছয়টি স্তবক গাওয়ার মধ্য দিয়ে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ শাসক ও বিরোধী শিবিরের প্রায় সব সাংসদই সেই সময় কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। ‘বন্দে মাতরম’ শেষ হওয়ার পরই লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা অধিবেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি ঘোষণা করেন।
জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণমন’-র পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’-কেও সমমর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্তের পর এই প্রথম সংসদের অধিবেশন জাতীয় গান দিয়ে শুরু হল। সরকারি অনুষ্ঠানেও জাতীয় সঙ্গীতের আগে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই আবহেই বাদল অধিবেশনের শেষ দিন সংসদে বিশেষ গুরুত্ব পেল বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গান।
তবে ‘বন্দে মাতরম’-এর আবহ শেষ হতেই সংসদ চত্বর ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজনৈতিক স্লোগানে। মকর দ্বারের সামনে শাসক ও বিরোধী সাংসদদের পৃথক বিক্ষোভ ঘিরে শুরু হয় স্লোগান-যুদ্ধ। এক দিকে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের বিরুদ্ধে সরব ছিল বিরোধী জোট, অন্য দিকে পাল্টা স্লোগান দেন এনডিএর সাংসদরা।
বাদল অধিবেশনের অধিকাংশ দিনই বিরোধীদের বিক্ষোভে সংসদের কাজ ব্যাহত হয়েছে। দিল্লির ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের ভূমিকা, রাম মন্দিরের অনুদান-সহ একাধিক ইস্যুতে আলোচনার দাবিতে সরব ছিলেন বিরোধীরা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আলোচনার প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত সেই বিতর্ক আর হয়নি। ফলে ‘বন্দে মাতরম’-এর সুরে শুরু হলেও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের আবহেই শেষ হল বাদল অধিবেশন।




