রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য নেতৃত্ব। কলকাতার মুরলিধর সেন লেনের দলীয় দপ্তরে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার জানিয়ে দিলেন, ‘শুধু অন্য দল থেকে এসে নিজেকে বিজেপি বললেই দলে জায়গা পাওয়া যাবে না।’
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘যাঁরা অতীতে দুর্নীতি, হিংসা বা সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের কোনওভাবেই দলে নেওয়া হবে না। বিজেপি নিজের আদর্শ ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে কোনও আপস করবে না।’ এই মন্তব্যের মাধ্যমে দল যে আগত নেতাদের বিষয়ে কড়া অবস্থান নিচ্ছে, তা পরিষ্কার হয়েছে।
Advertisement
মুখপাত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি এবং মাদকচক্রের সঙ্গে যুক্ত লোকজন বিজেপির নাম ও পতাকা ব্যবহার করে নিজেদের কর্মী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তিনি এই প্রবণতার তীব্র নিন্দা করে জানান, ‘এই ধরনের ব্যক্তিদের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই।’ একই সঙ্গে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশে আপাতত সব ধরনের নতুন সদস্য গ্রহণ প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
Advertisement
আসন্ন পুরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের রণকৌশল সম্পর্কেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তাঁর কথায়, বিজেপি নিজের শক্তির উপর ভরসা করে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে এবং নির্বাচনে লড়বে। ‘যাঁরা বছরের পর বছর মানুষের সম্পদ লুট করেছেন, তাঁরা বিজেপির পতাকা হাতে নিলেই পবিত্র হয়ে যাবেন না,’— এই মন্তব্য করে বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচার চলছে। প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিরপেক্ষতা জরুরি। তবে দলের কর্মীদের শান্ত ও সংযত থাকার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের দায় বিজেপির উপর চাপানোর চেষ্টা চলছে। অনেক ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে উস্কানি দিয়ে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়েও প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘এই ধরনের মন্তব্য পরাজয় মেনে নিতে না পারার হতাশা থেকেই আসছে।’ সবশেষে তিনি জানান, বিজেপি সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মেনে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের সেবায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
Advertisement



