• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 8 July, 2026

‘মুখ্যমন্ত্রীর কাজে আমি খুশি’, প্রভাসের এনকাউন্টার নিয়ে শুভেন্দুর প্রশংসায় নির্যাতিতার বাবা

রবিবার বারুইপুর গণধর্ষণ-খুন কাণ্ডে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল গোটা রাজ্য। তারপর ৬ সদস্যের সিট গঠনের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

‘মুখ্যমন্ত্রীর কাজে আমি খুশি’, প্রভাসের এনকাউন্টার নিয়ে শুভেন্দুর প্রশংসায় নির্যাতিতার বাবা

CM Suvendu Adhikari Photo-ANI

বারুইপুরে নাবালিকা গণধর্ষণ-খুনের ঘটনায় দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনার পর নির্যাতিতার পরিবারকে সুবিচারের আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি। এবার তা বাস্তবায়িত হতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল শোকস্তব্ধ পরিবার। এখনও পর্যন্ত চার অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে প্রশাসন। তবে তার মধ্যেই পুলিশের হেপাজত থেকে পালানোর চেষ্টা করতেই এনকাউন্টার করে মারা হয়েছে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে। প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক কড়া পদক্ষেপে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা করেছেন নির্যাতিতা নাবালিকার বাবা। মুখ্যমন্ত্রীকে নিজের ‘দাদা’ সম্বোধন করে রাজ্য সরকার ও পুলিশের ভূমিকায় সম্পূর্ণ আস্থাশীল বলেও জানিয়েছেন।

এদিকে বারুইপুর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় চার অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর মণ্ডল, আনন্দ সর্দার ও কবীর মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনকাউন্টারে মৃত্যু হয়েছে প্রভাস মণ্ডলের। একদিন আগেই নবান্ন থেকে বারুইপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গিয়ে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই সাক্ষাতের ১২ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই ঘটল মূল অভিযুক্তের এনকাউন্টার। আর এই খবর পেয়ে নিহত নাবালিকার বাবা সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী আমার দাদা, আমার পুরো ভরসা আছে। দাদার কাজে আমি খুশি। পুলিশও খুব ভাল কাজ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী আমাকে কথা দিয়েছিলেন যে, দোষীদের একজনকেও রেয়াত করা হবে না। দাদার ওপর আমার পূর্ণ ভরসা রয়েছে। ওঁর এই পদক্ষেপে আমি অত্যন্ত খুশি। পুলিশও অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ভাল কাজ করেছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমার মেয়ে নিশ্চিতভাবেই বিচার পাবে এবং দাদা তাঁর কথা রাখবেন।’

অন্যদিকে রবিবার বারুইপুর গণধর্ষণ-খুন কাণ্ডে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল গোটা রাজ্য। তারপর ৬ সদস্যের সিট গঠনের নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফোনে কথা বলেন নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে। তার কয়েকঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয় তিন অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল, দিবাকর মণ্ডল, আনন্দ সর্দারকে। মঙ্গলবার নিজে বারুইপুর যান শুভেন্দু অধিকারী। নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। আশ্বাস দেন সুবিচার মিলবেই। ঠিক তার ১২ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই এনকাউন্টারে শেষ করে দেওয়া হয় অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে। নির্যাতনের পুনর্নিমাণের সময় প্রভাস পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। তখনই আত্মরক্ষায় গুলি চালান পুলিশ অফিসার অর্ঘ্য মণ্ডল। আর বেশি রাতেই গ্রেপ্তার হয় চতুর্থ ‘ধর্ষক’ কবীর মোল্লাকে। প্রভাসের এনকাউন্টারে মৃত্যুর খবর পেয়ে তার মা এবং স্ত্রীও পুলিশের এই পদক্ষেপকে ‘ঠিক হয়েছে’ বলে উল্লেখ করেছেন।

তাছাড়া এই এনকাউন্টার নিয়ে নানা মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হলেও নিহত নাবালিকার পরিবার এবং অপরাধীর পরিবারের পক্ষ থেকে সমর্থন পেয়েছে পুলিশ ও রাজ্য সরকার। বুধবার নির্যাতিতার বাবার কথায়, ‘মুখ্যমন্ত্রী আমার দাদা। দাদা আমাকে কথা দিয়েছিলেন দোষীরা কেউ ছাড় পাবে না। দাদার উপর আমার পুরো ভরসা আছে। দাদার কাজে আমি খুশি। পুলিশও খুব ভাল কাজ করেছে। আমার মেয়ে বিচার পাবে, আমার বিশ্বাস দাদা কথা রাখবেন।’ আর অপরাধীর মা এবং স্ত্রীর মন্তব্য, ‘ও বরাবরই নোংরা প্রকৃতির ছেলে ছিল। কারও কোনও কথা শুনত না। দিনরাত নেশা করত এবং কোনও কাজকর্মও করত না। একটা ছোট্ট নিষ্পাপ মেয়ের সঙ্গে ও যে জঘন্য এবং পাশবিক অত্যাচার করেছে সেটার জন্য এই শাস্তিই প্রাপ্য ছিল। একদম ঠিক হয়েছে।’