রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই আবহেই শুক্রবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিজেপির ‘সঙ্কল্প পত্র’ প্রকাশ করেছেন। আগামী ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে এই ইস্তাহারকে সামনে রেখে রাজ্যে পরিবর্তনের ডাক দিয়েছে গেরুয়া শিবির। এই ইস্তাহারে মোট ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি রাখা হয়েছে। বিজেপির দাবি, ‘সোনার বাংলা’ গড়ার লক্ষ্য নিয়েই এই পরিকল্পনা।
তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে চলা উন্নয়ন ও জনমুখী প্রকল্পকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই এই ইস্তাহার সামনে আনা হয়েছে। অমিত শাহ দাবি করেন, ‘মানুষ পরিবর্তন চাইছে’। যদিও শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, বাস্তবে রাজ্যের মানুষ উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুফল পাচ্ছেন। ফলে বিজেপির এই প্রতিশ্রুতিগুলি শুধুই নির্বাচনী কৌশল।
Advertisement
ইস্তাহারে অনুপ্রবেশ রুখতে কঠোর পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগ তুলে শ্বেতপত্র প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব অভিযোগ নতুন নয়। বারবার এই ইস্যু তুলে ভোটের ময়দানে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। চাকরির ক্ষেত্রে এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বেকার যুবকদের জন্য ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার কথা বলা হয়েছে। যদিও অর্থনৈতিক দিক থেকে এই প্রতিশ্রুতি কতটা বাস্তবসম্মত, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
Advertisement
মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ, মাসিক ভাতা, মহিলা পুলিশ বাহিনী গঠন— এসব প্রতিশ্রুতিও রাখা হয়েছে। তবে তৃণমূলের দাবি, রাজ্যে ইতিমধ্যেই ‘কন্যাশ্রী’, ‘রূপশ্রী’সহ একাধিক প্রকল্প সফলভাবে চলছে, যা সারা দেশে প্রশংসিত। কৃষকদের জন্য ধান, আলু ও আম চাষে সহায়তা এবং মৎস্যজীবীদের জন্য বিশেষ প্রকল্পের কথাও বলা হয়েছে। শিল্পক্ষেত্রে চা বাগান ও পাটশিল্প উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ইস্তাহার মূলত ভোটের আগে মানুষের মন জেতার প্রচেষ্টা। তবে শেষ পর্যন্ত রাজ্যের মানুষ উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকেই প্রাধান্য দেবেন বলেই মত তাদের।
Advertisement



