নামখানায় তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে ব্যারেল ব্যারেল ডিজেল বাজেয়াপ্ত

তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও সুপারি উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার উত্তেজনা ছড়াল নামখানায়।

Published by SNS | Kolkata | May 31, 2026 2:05 pm

তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল ও সুপারি উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার উত্তেজনা ছড়াল নামখানায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, তল্লাশি চালিয়ে তৃণমূল নেতা নজরুল ইসলামনের বাড়ি থেকে প্রায় ৪০ ব্যারেল ডিজেল এবং কয়েক বস্তা সুপারি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

ঘটনার জেরে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। নজরুল ইসলামের গ্রেফতারের দাবিতে তাঁরা ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অবরোধ তুলে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার বিকেলে নজরুল ইসলামের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হলে বিপুল পরিমাণ ডিজেল উদ্ধার হয়। এত পরিমাণ জ্বালানি কেন এবং কী উদ্দেশ্যে সেখানে মজুত রাখা হয়েছিল, তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি কয়েক বস্তা সুপারিও উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত নেতা পলাতক বলে জানা গিয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বাংলাদেশগামী ও বাংলাদেশ থেকে আসা পণ্যবাহী জাহাজ থেকে চুরি করা ডিজেল এনে ওই বাড়িতে মজুত রাখা হত। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা এখনও সরকারি ভাবে নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

এদিকে নজরুল ইসলামের খোঁজ না মিললেও তাঁর দাদা আনারুল মোল্লাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে ফ্রেজারগঞ্জ এলাকার তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি Prosenjit Jana-কেও আটক করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, পুলিশি অভিযানের সময় প্রসেনজিৎ জানা ওই বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ, উদ্ধার হওয়া সামগ্রী অন্যত্র সরানোর উদ্দেশ্যেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। পুলিশ পৌঁছে যাওয়ার পর তিনি বেরোতে না পেরে বাড়ির শৌচালয়ে লুকিয়ে পড়েন। পরে পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দাদের।