• facebook
  • twitter
Sunday, 31 May, 2026

‘বিজেপির কাজ নয়, তৃণমূল বনাম তৃণমূলের লড়াই’, অভিষেকের ঘটনায় পাল্টা দাবি শমীকের

অতীতের রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের উপর ব্যাপক হামলা ও অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল

সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিক্ষোভ ও হামলার মুখে পড়ার ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক নেই। তাঁর মতে, এটি কোনও রাজনৈতিক দলের পরিকল্পিত আক্রমণ নয়, বরং তৃণমূলের অভ্যন্তরেই দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা অসন্তোষের প্রকাশ।
তিনি বলেন, এই ধরনের হিংসাত্মক ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং বিজেপি সবসময়ই এর বিরোধিতা করে এসেছে। তাঁর কথায়, ‘যা ঘটেছে তা কোনও সভ্য সমাজে কাম্য নয়। আমরা সব ধরনের হিংসার বিরুদ্ধে। তবে এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। এটা সম্পূর্ণভাবে তৃণমূলের ভিতরের দ্বন্দ্ব এবং নিজেদের মধ্যেই তৈরি হওয়া অসন্তোষের ফল।’
তিনি আরও দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার মধ্যে থেকেও নিজেদের সংগঠনের ভিতরে ভারসাম্য রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। শমীকের মতে, যারা এতদিন দলে থেকেও নিজেদের বঞ্চিত বলে মনে করেছেন, তারাই এখন সেই জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, ‘যাঁরা এতদিন দলের মধ্যে থেকেও উপেক্ষিত ছিলেন, যাঁদের কথা শোনা হয়নি, তাঁদেরই ক্ষোভ আজ এই ঘটনার রূপ নিয়েছে।’
বিজেপির রাজ্য সভাপতি আরও বলেন, তিনি বহুদিন ধরেই বলে আসছেন যে তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে তার ভিত হারাচ্ছে। তাঁর দাবি, দলের ভিতরে ভাঙন এবং অভ্যন্তরীণ বিরোধ ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে, যার ফলেই এই ধরনের অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও মূল সমস্যা দলের ভিতরেই।
এছাড়াও তিনি দাবি করেন, পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত, কিন্তু কিছু পদক্ষেপের কারণে তা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাঁর বক্তব্য, রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আগেই তাঁরা মানুষের ক্ষোভ ও সম্ভাব্য অশান্তি নিয়ে সতর্ক করেছিলেন। শমীকের মতে, জনরোষ আরও বড় আকার নিতে পারত, যা প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমে কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
অতীতের রাজনৈতিক হিংসার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের উপর ব্যাপক হামলা ও অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময়ের তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি আলাদা হলেও, রাজনৈতিক সহিংসতার ইতিহাসকে অস্বীকার করা যায় না বলেই তাঁর মত।
দলের অবস্থান স্পষ্ট করে শমীক ভট্টাচার্য জানান, বিজেপি কোনও ধরনের আইনভঙ্গ বা হিংসাত্মক কার্যকলাপকে সমর্থন করে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, দলের কেউ যদি এই ধরনের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তবে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি দলবদলু রাজনীতিকদের নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান, যাতে সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় থাকে। তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক দক্ষতার প্রশংসা করেন এবং  রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকর প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে মত প্রকাশ করেন।

Advertisement

Advertisement