• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 30 June, 2026

কণ্ঠস্বর মামলায় হাইকোর্টে বেকায়দায় অভিষেক, মামলা গেল ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে

কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ সংক্রান্ত মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনে তাৎক্ষণিক কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল না তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ। বিচারপতি মামলাটি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে দেন।

কণ্ঠস্বর মামলায় হাইকোর্টে বেকায়দায় অভিষেক, মামলা গেল ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে

প্রতীকী চিত্র

আরও বেকায়দায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ কোনও অন্তবর্তীকালীন নির্দেশ দিলেন না। এর ফলে হাইকোর্টে স্বস্তি মিলল না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ সংক্রান্ত মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনে তাৎক্ষণিক কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল না তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চ। বিচারপতি মামলাটি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে দেন। তিনি পরবর্তী শুনানির জন্য উপযুক্ত বেঞ্চ নির্ধারণ করেন। নিম্ন আদালতের নির্দেশে হাইকোর্ট এই মুহূর্তে হস্তক্ষেপ করতেও অস্বীকার করেছে।

শুনানিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষের আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, এ বিষয়ে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তখন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘তদন্তে সহযোগিতা না করে কেন সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে আসা হয়েছে।’ জবাবে অভিষেকের আইনজীবী বলেন, ‘নিম্ন আদালতের নির্দেশ যথার্থ নয়। আদালত নির্দেশ দিলে আমার মক্কেল তদন্তে যোগ দিতে পারেন।’

এর প্রেক্ষিতে বিচারপতি বলেন, ‘বিষয়টি অন্য বেঞ্চে উত্থাপন করা যেতে পারে।’ একই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন নির্দেশ জারি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অভিষেকের আইনজীবীর দাবি, তদন্তে অসহযোগিতা করলে তবেই কঠোর পদক্ষেপের প্রশ্ন উঠতে পারত। কিন্তু তার আগেই নিম্ন আদালতের নির্দেশ জারি হয়েছে।

শুনানিতে রাজ্যের পক্ষে অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, এফআইআর খারিজের আবেদনও করা হয়েছে। তার জবাবে সব্যসাচী ভট্টাচার্য বলেন, ‘নিম্ন আদালত কোন ভিত্তিতে এই নির্দেশ দিয়েছে, সেটিই তাঁদের মূল প্রশ্ন।’ বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘হাইকোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ বহাল রয়েছে।’ এখন মূল প্রশ্ন গ্রেপ্তার করা হবে কি না। এ সময় রাজ্যের কৌঁসুলি কল্লোল মণ্ডল বলেন, ‘বিষয়টির মূল প্রশ্ন সেটিই।’

পরে আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা নিয়ে তাঁদের আপত্তি নেই, তবে ম্যাজিস্ট্রেট কী ভিত্তিতে সন্তুষ্ট হলেন, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এর জবাবে বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘তদন্তে সহযোগিতা করলে তদন্তকারী আধিকারিকরা কী পদক্ষেপ নেবেন, তা নিয়ে আদালতের এই পর্যায়ে মন্তব্য করার সুযোগ নেই। নিম্ন আদালতের নির্দেশ একটি বিচারিক আদেশ এবং তদন্তকারী আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে এই মুহূর্তে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই।’

সেই সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেল নিয়মিত তদন্তে সহযোগিতা করছেন। তাঁকে যেন সুরক্ষা দেওয়া হয়। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ জানতে চান, তিনি ঠিক কী ধরনের সুরক্ষা চাইছেন? বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় রক্ষাকবচ রয়েছে এবং মূল মামলা এখনও বিচারাধীন।

আদালতের নির্দেশ, মামলাটি রিলিজ করা হচ্ছে এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠানো হবে। কোন বেঞ্চে এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন।