• facebook
  • twitter
  • youtube
Saturday, 27 June, 2026

রিষড়ায় ভাড়াবাড়ি থেকে গৃহবধূর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার, মেট্রোয় আত্মঘাতী স্বামী, নেপথ্যে কি পরকীয়া?

মাঝরাতে ওই বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা গিয়েছিল। শনিবার সকাল পর্যন্ত বাড়ির ভিতর থেকে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়

রিষড়ায় ভাড়াবাড়ি থেকে গৃহবধূর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার, মেট্রোয় আত্মঘাতী স্বামী, নেপথ্যে কি পরকীয়া?

হুগলির রিষড়ায় এক ভাড়াবাড়ি থেকে ৩২ বছরের এক গৃহবধূর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় আলোড়ন ছড়িয়ে পড়েছে। মৃতার নাম মনিকা সরকার। ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ ছিল তাঁর স্বামী দীপঙ্কর সরকার। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে খুনের ঘটনা বলেই মনে করছে। অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। আর তার মধ্যেই শনিবার দুপুরে বেলগাছিয়ায় মেট্রোর লাইনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন দীপঙ্কর। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই স্ত্রীকে খুন করে দীপঙ্কর আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন বলে মনে করছে পুলিশ। রিষড়া তিন নম্বর গভর্মেন্ট কলোনিতে এখন এই ঘটনা নিয়ে চর্চা তুঙ্গে উঠেছে। কারণ রক্তে ভেসে যাচ্ছে খাট। আর পাশে শুয়ে কন্যাসন্তান। এমন দৃশ্য সত্যিই বিরল। এই ঘটনা সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠছে, পরকীয়ার জন্যই কি খুন? তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত বধূর নাম মণিকা ওঝা। বিয়ের পর মণিকা সরকার হন। রিষড়ার তিন নম্বর গভর্নমেন্ট কলোনি প্রাথমিক স্কুলের পাশের একটি ভাড়াবাড়িতে ৬ বছরের মেয়েকে নিয়ে থাকতেন মনিকা। তাঁর স্বামী কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকলেও কদিন আগে তিনি রিষড়ায় ফিরেছিলেন। শুক্রবার রিষড়ার বাড়িতে আসেন দীপঙ্কর। রাতে ঝগড়া হয় দুপক্ষের মধ্যে। সেই শব্দ শুনতে পান প্রতিবেশীরা। শনিবার সকালে অনেকক্ষণ সাড়া না পেয়ে গেটের তালা ভেঙে ঘরে ঢোকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তখনই তাঁরা দেখতে পান বিছানায় বধূর গলাকাটা দেহ পড়ে আছে। পাশে শুয়ে তাঁর ৬ বছরের মেয়ে। তখন খবর দেওয়া হয় রিষড়া থানায়। পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে খবর, শুক্রবার মাঝরাতে ওই বাড়ি থেকে চিৎকারের শব্দ শোনা গিয়েছিল। শনিবার সকাল পর্যন্ত বাড়ির ভিতর থেকে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। তখন তাঁরা গেটের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখেন, বিছানায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন মনিকা। তাঁর পাশেই ঘুমিয়ে ছিল ৬ বছরের কন্যা। এই বিষয়ে বধূর ভাই সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘সকালে ফোন এল। বলল দিদির গলা কেটে দিয়ে চলে গিয়েছে। এখন শুনছি, গতকাল ওর স্বামী এসেছিল। এখন ফোন করা হচ্ছে। ফোনটা সুইচ অফ। দিল্লিতে কাজ করত দিদির স্বামী। মাঝেমধ্যে এখানে আসত। দিদির সঙ্গে ঝামেলা ছিল বলেও কোনওদিন শুনিনি।’

তাছাড়া প্রাথমিক তদন্তে নেমে পুলিশ ঘরে একটা শাড়ি ঝুলন্ত অবস্থায় পায়। তা থেকে অনুমান করা হচ্ছে, প্রথমে শ্বাসরোধ করে এবং পরে গলা কেটে খুন করা হয়েছে মণিকাকে। কিন্তু কী কারণে খুন? নেপথ্যে কি পরকীয়া সম্পর্ক? খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। আর বিজেপি নেত্রী পম্পা অধিকারী বলেছেন, ‘প্রথমে দরজায় ধাক্কা দেওয়া হয়। কেউ দরজা খোলেনি। পাশেই বাপের বাড়ি। মেয়েটির মা আসে। দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকা হলে দেখা যায়, মেয়েটির গলাকাটা দেহ পড়ে রয়েছে। পাশে মেয়ে শুয়ে আছে। সিলিং-এ কাপড় ঝুলতেও দেখা গিয়েছে। রাতে ওঁর স্বামী এসেছিল। সে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে নাকি অন্য কেউ করেছে, সেটা নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। মহিলার স্কুটিও নিয়ে চলে গিয়েছে।’