• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 2 July, 2026

নাতি-পোষ্যের প্রাণ বাঁচাতে চিতাবাঘের সঙ্গে লড়ে গেলেন ঠাকুমা, দার্জিলিংয়ে ধুন্ধুমার

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পাহাড়ের রানী দার্জিলিংয়ে দেবিকার সাহসিকতা নিয়েই জোর চর্চা শুরু হয়েছে

নাতি-পোষ্যের প্রাণ বাঁচাতে চিতাবাঘের সঙ্গে লড়ে গেলেন ঠাকুমা, দার্জিলিংয়ে ধুন্ধুমার

Leopard Attack Photo-SNS

টানটান একঘণ্টার লড়াই। না, কোনও মানুষের সঙ্গে নয়। সরাসরি চিতাবাঘের সঙ্গে লড়াই এক বৃদ্ধার। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই বাস্তবে ঘটেছে। আর এই লড়াই করে নাতি এবং পোষ্যের প্রাণ বাঁচালেন ঠাকুমা। নিজের জীবন বাজি রেখে এমন অসম লড়াই করে নিজে ক্ষতবিক্ষত হয়েও নাতি ও পোষ্যের প্রাণ বাঁচানো বিরল ঘটনা। দার্জিলিংয়ের বৃদ্ধার এই লড়াই সাহসিকতা নিয়ে রীতিমতো চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দার্জিলিংয়ের দেবিকা শেরপার কথা এখন মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে।

ওই ক্ষিপ্ত চিতাবাঘের সঙ্গে টানা একঘণ্টার এই লড়াইকে কুর্ণিশ না জানিয়ে থাকতে পারছেন না কেউ। নিজে ক্ষতবিক্ষত হয়েও বৃদ্ধা দেবিকা দুজনের প্রাণ বাঁচিয়ে এখন দার্জিলিং জেলা হাসপাতালের বিছানায় চিকিৎসাধীন। সেখানে শুয়ে কষ্ট করে বলছেন সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা। বনদপ্তরের কাছে দেবিকা দাবি করেছেন, ওই চিতাবাঘকে ধরে বাকি মানুষদের জীবন বাঁচাতে। কারণ হামলাকারী ওই চিতাবাঘ যে কোনও মুহূর্তে আবার লোকালয়ে চলে আসতে পারে। বুধবার সন্ধ্যার এই ঘটনা এখন আলোড়ন ফেলে দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পাহাড়ের রানী দার্জিলিংয়ে দেবিকার সাহসিকতা নিয়েই জোর চর্চা শুরু হয়েছে। অনেকেই তাঁর বাড়িতে এসে খোঁজখবর নিয়েছেন. তবে দেবিকা এখন হাসপাতালে থাকায় তাঁর সঙ্গে দেখা হয়নি কারও। দেবিকার বয়ান অনুযায়ী, খাওয়াদাওয়া শেষ করে সন্ধ্যায় দরজা বন্ধ করে ঘুমোতে যাওয়ার সময় আচমকা বাড়ির বাইরে চলে আসে ক্ষিপ্ত চিতাবাঘ। দেবিকার আট বছরের নাতি এবং পোষ্য কুকুর চিতাবাঘের সামনে পড়ে যায়। তখন তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে হিংস্র চিতাবাঘ। তাদের বাঁচাতে পাল্টা ঝাঁপিয়ে পড়েন বৃদ্ধা দেবিকা। প্রায় একঘণ্টা ধরে চলে তুমুল লড়াই। চিতাবাঘের আঘাত শরীর ক্ষতবিক্ষত করে দিলেও নিজের নাতি আর পোষ্যের জীবন বাঁচাতে সফল হন তিনি। দেবিকার রণমূর্তির সামনে টিকে থাকতে না পেরে রণে ভঙ্গ দেয় চিতাবাঘ।

এই লড়াই করে রীতিমতো অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধা দেবিকা। নাতি তখন ভয়ে সিঁটিয়ে ছিল। তবে চিৎকার করতেই লোকজন এসে জড়ো হন। তারপর সকলে মিলে দেবিকা শেরপাকে দার্জিলিং জেলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। দেবিকার ডান-হাত ভেঙে গিয়েছে। মাথায় এবং বাঁ-হাত রক্তাক্ত হয়েছে। ঠাকুমাকে এই অবস্থায় দেখে কাঁদতে থাকে নাতি। গোটা ঘটনার বিবরণ হাসপাতালে শুয়ে দেন বৃদ্ধা ঠাকুমা দেবিকা। শুধু তাঁর শান্তি এই দেখে নাতি ও পোষ্য নিরাপদে আছে।  বনদপ্তর সূত্রে খবর, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। চিতাবাঘটি অত্যন্ত ক্ষিপ্ত। তাকে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।