• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 27 October, 2026

প্রায় ১২ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, ভোর ৫ টায় খনি থেকে উদ্ধার ১২ শ্রমিক, রাত জেগে বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি

খনির ভিতরে যাতায়াতের জন্য শ্রমিকরা ডুলি ব্যবহার করে থাকেন। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় ইঞ্জিন ঘরে ডুলি আটকে যায়।  এর ফলে প্রায় ২০০ ফুট গভীর খনির মাঝপথে আটকে পড়েন ১২ জন শ্রমিক

প্রায় ১২ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই, ভোর ৫ টায় খনি থেকে উদ্ধার ১২ শ্রমিক, রাত জেগে বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি

Image: SNS

টানা ১২ ঘণ্টা ধরে খনির ভিতরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়লেন শ্রমিকরা (ECL Workers)। অবশেষে আজ ভোর ৫টায় জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হল পাণ্ডবেশ্বরের কুমারডিহি কোলিয়ারিতে আটকে থাকা ১২ জন শ্রমিককে (ECL Workers)। গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটা থেকে আজ ভোর পর্যন্ত খনির ২০০ ফুট নিচে প্রাণ হাতে আটকে ছিলেন তাঁরা। সারারাত উৎকণ্ঠা, আতঙ্ক আর  অপেক্ষার পর ভোরের আলো ফুটতেই ফিরলো স্বস্তি।
খনির ভিতরে যাতায়াতের জন্য শ্রমিকরা ডুলি ব্যবহার করে থাকেন। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় ইঞ্জিন ঘরে ডুলি আটকে যায়।  এর ফলে প্রায় ২০০ ফুট গভীর খনির মাঝপথে আটকে পড়েন ১২ জন শ্রমিক।  এঁদের মধ্যে ৮জন কর্মী নামছিলেন এবং ৬ জন উপরে উঠছিলেন।
অন্ধকার, গুমোট খনির ভিতরে একটু নড়াচড়াও ছিল বিপজ্জনক। খনির বাইরে থেকে  আটকে পড়া শ্রমিকদের আশ্বস্ত করা হচ্ছিল ।  রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছিল উৎকণ্ঠা । পরিবারের লোকজন খনির মুখে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। গোটা পাণ্ডবেশ্বরের ঘুম উড়ে গিয়েছিল গতকালের ঘটনায়।
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি। সারারাত তিনি খনির কাছেই ছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলে ইসিএল-এর উচ্চপদস্থ আধিকারিক, কোলিয়ারি এজেন্ট মধুসূদন সিং, ম্যানেজার সহ জেলা প্রশাসনের কর্তা ও পুলিশ।  বিশেষজ্ঞ টিম এনে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় মেরামত করে ভোর ৫টার দিকে একে একে সবাইকে খনির বাইরে বের করে আনা হয়।
কোলিয়ারি সূত্রে খবর, আপাতত সকলেই সুস্থ আছেন। শারীরিক পরীক্ষার জন্য  কলকেই দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। শ্রমিকরা প্রাণে বাঁচলেও, ইসিএল-র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গেল। কয়েক মাস আগেই যে ড্রাম মেরামত হয়েছিল, সেই ড্রামই কীভাবে ফেঁসে গেল? ঠিকাদারের কাজে কি গাফিলতি ছিল?বিধায়ক জিতেন্দ্র তিওয়ারি জানিয়েছেন, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া উচিত এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, তার জন্য কোলিয়ারির সমস্ত যন্ত্রের সুরক্ষা পরীক্ষা করা জরুরি। শ্রমিকদের নিরাপত্তায় স্থায়ী সমাধান চাইছে শ্রমিক মহল।
দেখুন: