• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 6 November, 2026

সাদা বলের ক্রিকেটের প্রস্তুতিতে থাকবেন সৌরভ, মুস্তাকে ভাল খেলে বাংলাকে ছন্দে ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ অভিমন্যুর

অভিমন্যুর সামনে এখন দু'টি চ্যালেঞ্জ। ব্যক্তিগত ভাবে বড় রান করে ভারতীয় নির্বাচকদের নজরে ফেরা এবং অধিনায়ক হিসাবে বাংলাকে

সাদা বলের ক্রিকেটের প্রস্তুতিতে থাকবেন সৌরভ, মুস্তাকে ভাল খেলে বাংলাকে ছন্দে ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ অভিমন্যুর

Abhimanyu Iswaran Photo-SNS

প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু চলতি রঞ্জি ট্রফিতে ব্যাট হাতে এখনও পর্যন্ত সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি বাংলার অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণ।

আট ইনিংসে সংগ্রহ মাত্র ২৩০ রান। গড় ৩২.৮৫। একটি মাত্র হাফ সেঞ্চুরি। মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাংলার ১০ উইকেটে হারের পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে অভিমন্যুর ফর্ম নিয়ে। তবে নিজের পারফরম্যান্সের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অন্য যুক্তি তুলে ধরলেন তিনি। জানালেন, সব সময় বড় রান করাটাই আসল নয়, ম্যাচের পরিস্থিতিতে করা গুরুত্বপূর্ণ রানও সমান মূল্যবান।

বৃহস্পতিবার রঞ্জি ট্রফির গ্রুপ ম্যাচে মহারাষ্ট্রের কাছে হারের পর অভিমন্যু বলেন, ‘আমি বলতে চাই না যে এই মরসুমে অনেক রান করেছি। সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে দু’ইনিংস মিলিয়ে ৫৬ ও ৩০ করেছিলাম। সেই ম্যাচে দুই দলের গড় রান ছিল প্রায় ১৪০। আমার কাছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। কত রান করলাম, সেটা সব সময় বড় কথা নয়। গুরুত্বপূর্ণ রান করাটাই আসল।’

সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে ম্যাচটির উদাহরণও দিয়েছেন বাংলার অধিনায়ক। প্রথম ইনিংসে বাংলা করেছিল ১৮৪ রান। সার্ভিসেসের ইনিংস শেষ হয় ১২২ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলা তোলে ১৪৬। জয়ের জন্য ২০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সার্ভিসেস শেষ হয়ে যায় ১৪৮ রানে। ৬০ রানে ম্যাচ জেতে বাংলা। সেই ম্যাচে অভিমন্যুর ৫৬ ও ৩০ রানের ইনিংস দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।

দিল্লি ও কেরলের বিরুদ্ধেও নিজের অবদানের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। অভিমন্যুর কথায়, “দিল্লির বিরুদ্ধে ৩৪ রানে আউট হয়েছিলাম এবং অপর ইনিংসে ৩৪ রানে অপরাজিত ছিলাম। অবশ্যই বড় রান করতে পারিনি। ভাল সুযোগও নষ্ট করেছি। কেরলের বিরুদ্ধেও ৪৭ রানে আউট হয়েছিলাম। বড় রান করতে না পারলেও ওই ইনিংসগুলিও গুরুত্বপূর্ণ ছিল’। কেরলের বিরুদ্ধে ৫৯ বলে ৪৭ রান করেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে সেটিই ছিল বাংলার সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর।

তবে পরিসংখ্যান যে তাঁর পক্ষে খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়, তা অস্বীকার করেননি অভিমন্যু। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১২০ ম্যাচে ৮৭৯৪ রান রয়েছে তাঁর। গড় ৪৬-এর বেশি। রয়েছে ২৭টি শতরান। সর্বোচ্চ ২৩৩। এত ভাল রেকর্ড থাকা সত্ত্বেও এখনও ভারতের হয়ে টেস্ট অভিষেক হয়নি ৩১ বছরের এই ওপেনারের।

২০১৮ থেকে ভারত ‘এ’ দলের নিয়মিত সদস্য ছিলেন তিনি। ২০২৫-এ ইংল্যান্ড সফরের ভারতীয় টেস্ট দলেও জায়গা পেয়েছিলেন। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিরুদ্ধে দুই ইনিংসেই শূন্য করার পর ভারত ‘এ’ দল থেকেও বাদ পড়েন। ইরানি কাপের দলেও জায়গা হয়নি তাঁর।

নিজের উপর প্রত্যাশার চাপ রয়েছে বলেও মেনে নিয়েছেন বাংলার অধিনায়ক। তবে সেই চাপকে ইতিবাচক ভাবেই দেখছেন তিনি। অভিমন্যু বলেন, ‘নিশ্চয়ই প্রত্যাশা থাকবে। প্রত্যাশা না থাকলে কোনও কিছুই করা যায় না। তবে আমি জানি, খুব তাড়াতাড়ি একটা বড় রান পাব’।

মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাংলার ব্যাটিং বিপর্যয় নিয়েও মুখ খুলেছেন তিনি। টানা তিনটি ম্যাচ জিতে ভাল ছন্দে ছিল বাংলা। কিন্তু মহারাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সেই ছন্দ ধরে রাখতে পারেনি দল। অভিমন্যু বলেন, ‘আমরা অনেক ভুল করেছি, সেটা মানছি। কিন্তু এমনটা হয়। ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে। পর পর তিনটি ম্যাচ ভাল খেলার পরে এই ম্যাচে আমরা নিজেদের মান অনুযায়ী খেলতে পারিনি। কিন্তু খারাপ খেললে সেটা বুঝতে হবে যে আমরা কতটা খারাপ খেলেছি। এই বিষয়টা মেনে নেওয়া খুব জরুরি। যে জায়গাগুলোয় ভুল হয়েছে, সেগুলো শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করব’।

সামনেই সাদা বলের ক্রিকেট। প্রথমে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি, তার পরে বিজয় হাজারে ট্রফি। ফলে রঞ্জি ট্রফির পরবর্তী পর্বের আগে কিছুটা বিরতি পাবে বাংলা। সেই সময়টা কাজে লাগাতে চান অভিমন্যুরা।

তিনি বলেন, ‘টানা তিনটি ম্যাচ জেতার পরে আমাদের ভাল ছন্দ তৈরি হয়েছিল। তবে এ বার ফরম্যাট বদলাচ্ছে। সামনে সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি, তার পরে বিজয় হাজারে ট্রফি। মাঝে আমরা কিছুটা বিরতি পাব। লাল বল ও সাদা বলের ক্রিকেটের জন্য আমাদের আলাদা খেলোয়াড় রয়েছে। ফলে সেই বিরতিটাও কাজে লাগবে। প্রথম তিনটি ম্যাচে আমরা ভাল খেলেছিলাম। আবার সেই ছন্দে ফেরার চেষ্টা করব’।

মুস্তাক আলি ট্রফির ম্যাচ খেলতে দীপাবলীর পর বুধবার মুম্বই উড়ে যাবে বাংলা দল। এই দল ঘোষণা হয়ে গেল বৃহস্পতিবার। এই দলেরও অধিনায়ক অভিমন্যু। দলে বেশ কয়েকজন নতুন মুখও এসেছেন, যাঁরা সাদা বলের বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত।

মুস্তাকের অনুশীলন শুরু হচ্ছে শনিবার থেকে। সোমবার ও মঙ্গলবার শেষ দুদিনের অনুশীলনে হাজির থাকবেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও।

জাতীয় টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা মুস্তাক আলি ট্রফিতে বাংলার গ্রুপে রয়েছে কর্নাটক, চণ্ডীগড়, ঝাড়খণ্ড, মিজোরাম, বরোদা, উত্তর প্রদেশ ও রাজস্থান। প্রথম ম্যাচ কর্নাটকের বিরুদ্ধে, ১৪ নভেম্বর।

অভিমন্যুর সামনে এখন দু’টি চ্যালেঞ্জ। ব্যক্তিগত ভাবে বড় রান করে ভারতীয় নির্বাচকদের নজরে ফেরা এবং অধিনায়ক হিসাবে বাংলাকে আবার জয়ের পথে ফিরিয়ে আনা। শুধু গুরুত্বপূর্ণ রান নয়, এ বার বড় ইনিংসও চাইছেন তাঁর ভক্তরা।