ভর দুপুরে যখন অন্ধকার নেমে এল ইডেনের আকাশে, তখন বাংলা শিবির আরো অন্ধকারে ঢাকা। ১৪৩ রানে অল আউট হয়ে গেলে তো সেটাই স্বাভাবিক।
মহারাষ্ট্রের কাছে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে সকাল থেকেই ধস নামে বাংলার ব্যাটিংয়ে। গোটা দুটো সেশনও ব্যাট করতে পারেনি তারা। তার মধ্যেই শেষ বাংলার ইনিংস। ১৪৩ রানে অলআউট।
গত তিন ম্যাচে জিতলেও বাংলার ব্যাটিং নিয়ে চিন্তা মরসুমের শুরু থেকেই। রবিবার বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা আশা করেছিলেন, ইডেনের ভাল উইকেটে তাঁর দলের ব্যাটাররা নিশ্চয়ই ভালো পারফরম্যান্স দেখাবেন। কিন্ত সেই উইকেটই তাদের কাল হয়ে উঠল।
মাত্র ১৮ রানের মাথায় তিন উইকেট হারায় বাংলা। চতুর্থ উইকেট চলে যায় ৩৭ রানে। অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরন মাত্র ১০ রান করে খোঁচা দিয়ে ফিরে যান রাজবর্ধন হঙ্গরগেকরের বলে। প্রদীপ ধাধের বলে কভারে ক্যাচ তুলে আউট হন অঙ্কুর পাল। চার নম্বরে নামানো হয়েছিল সূরজ সিন্ধু জায়সওয়ালকে। সেই সিদ্ধান্তও কাজে দেয়নি। শূন্য রানেই প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান তিনি। সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ও ফের ব্যর্থ। তনয়ের ইনসুইং ডেলিভারি ছাড়তে গিয়ে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান তিনি।
প্রদীপ ধাধের বলে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সুমন্তও। অদ্ভুত আউট হন শাহবাজ আহমেদ। হঙ্গরগেকরের বলে কট ও বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। লাঞ্চে বাংলার রান ছিল ১০১-৭।
লাঞ্চের পর মিনিট চল্লিশ চলে বাংলার ইনিংস। একদিক দিয়ে যখন আউটের মিছিল চলছিল, তখন অন্য দিকে দাঁড়িয়ে থেকে অভিষেক পোড়েল হাফ সেঞ্চুরি করেন। ৫৪ রান করে সিদ্ধেশ বীরের বলে অঙ্কিত বাওনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান।
প্রদীপ্ত প্রামাণিকও গুরুত্বপূর্ণ ৩১ রান করে বীরের বলেই দিগ্বিজয় পাটিলের হাতে ক্যাচ তুলে ফিরে যান। শেষমেশ বাংলা অলআউট হয় ১৪৩ রানে।

মহারাষ্ট্রের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটার অঙ্কিত বাওনে বিকেলে ইডেন ছাড়ার সময় বলে গেলেন, ‘উইকেট পেসারদের সাহায্য করেছে। পিচে হাল্কা ঘাস আছে রোল করা। এই ঘাস কাজে লেগেছে আমাদের। তবে আবহাওয়া ঠিক না হলে এই উইকেটই অন্যরকম হয়ে যেতে পারে’। দশটির মধ্যে আটটি উইকেটই নেন পেসাররা।
একই অস্ত্রে পাল্টা দিতে শুরু করেছে বাংলাও। জবাবে আগুনে বোলিং শুরু করেন মহম্মদ শামি। সপ্তম ওভারে পৃথ্বী শ-এর অফস্টাম্প ছিটকে দেন ভারতীয় পেসার। দিনের শেষে ইডেন থেকে বেরনোর সময় পৃথ্বী বলে গেলেন, ‘বলটা এমন ভাবে ঢুকেছে যে, বুঝতেই পারিনি। শামি ভাই যে কোনো উইকেটই ভয়ঙ্কর’। তাঁর বলেই এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরে যান দিগ্বিজয়।
ইডেন থেকে ফেরার পথে নিজের গাড়িতে উঠতে উঠতে শামি বলেন, ‘এই উইকেটে গতি, বাউন্স আছে। কাল ঠিক সময়ে খেলা শুরু হলে দেখে নেব’। কয়েকদিন আগে এই শামিই হোম অ্যাডভান্টেজ না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এদিন তাঁর কথা শুনে মনে হল ইডেনের এই ‘স্পোর্টিং উইকেট’ নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট।
শামি দ্বিতীয় উইকেট পাওয়ার পরই ইডেনে আলো এত কমে যায় যে, আর খেলা চালানো সম্ভব হয়নি। দুপুর ১.৫২-তেই খেলা বন্ধ হয়ে যায়। তখন মহারাষ্ট্র ২১-২। বিকেল সাড়ে তিনটেয় আম্পায়াররা এ দিনের মতো খেলা মুলতুবি করে দেন। আরো দশ ওভার খেলা হলে শামি এই উইকেটে, এই আবহাওয়ায় কী করতেন কে জানে?
মঙ্গলবার আবহাওয়া ঠিকঠাক থাকলে, নির্ধারিত সময়ে খেলা শুরু হলে এবং সকালে আকাশ একটু মেঘলা থাকলে সোমবার সকালের রিপ্লে দেখার সম্ভাবনা আছে।
দিনের শেষে বাংলার কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্লা বিশেষ কিছুই বললেন না। দলের ব্যাটিংয়ে স্বাভাবিক ভাবেই হতাশ লক্ষ্মী বোধহয় কালকের দিনটার জন্য অপেক্ষা করছেন।
বিকেলে বাংলার সাজঘরে ঢুকে একপ্রস্থ পেপটক দিয়ে গেলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সেখান থেকে বেরনোর সময় আবার তাঁর সঙ্গে দেখা দিল্লি ক্যাপিটালসের ক্রিকেটার পৃথ্বীর সঙ্গেও। তাঁকেও উজ্জীবিত করলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। সৌরভের ভোকাল টনিকে কে বেশি উজ্জীবিত হল, সে কালই বোঝা যাবে।




