বিদেশে গা ঢাকা দিয়ে আছে পাথর ব্যবসায়ী বীরভূমের টুলু মণ্ডল। আর তাঁকে অবিলম্বে ভারতে ফিরতে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার দেশের সর্বোচ্চ আদালত সময় বেঁধে দিয়ে জানিয়ে দিল, আগামী ১৭ নভেম্বর তারিখের মধ্যে তাঁকে দেশে ফিরে তদন্তকারীদের মুখোমুখি হতে হবে। এই স্বস্তি দিয়ে আদালত এও স্পষ্ট করেছে যে, আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কঠোর পদক্ষেপ করতে পারবে না রাজ্য পুলিশ। টুলু মণ্ডলে আসল নাম মহম্মদ নাজিবুদ্দিন। সুতরাং আগামী ১৩ দিনের মধ্যে দেশে ফিরতে হবে বীরভূমের ‘পাথরসম্রাট’ টুলু মণ্ডলকে।
আগামী ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁকে কিছু করা যাবে না বলে যে রক্ষাকবচ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট তাতে টুলু মণ্ডল দেশে ফিরবেন বলেই মনে করা হচ্ছে। পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের বিরুদ্ধে রাজস্ব তছরুপ, ভুয়ো রসিদ তৈরি-সহ নানা অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশ। ভুয়ো রসিদ চক্রে অভিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত ভূমি আধিকারিকও। তৃণমূল জমানায় পাথর ব্যবসায়ী হিসেবে টুলু মণ্ডল বড় বড় সরকারি প্রকল্পের বরাত পেতেন। তদন্তে ইতিমধ্যেই সিউড়ি আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। সেখানে মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম আছে টুলুর। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই টুলু পলাতক। টুলু এখন দুবাইয়ে গা-ঢাকা দিয়ে আছেন। ভুয়ো রসিদ বানিয়ে কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব তছরুপের অভিযোগ রয়েছে পাথরসম্রাট টুলুর বিরুদ্ধে।
সুপ্রিম কোর্টে গতকাল শুনানির সময় টুলু মণ্ডলের আইনজীবী মুকুল রোহতগী দাবি করেন, তাঁর মক্কেল কোনও অপরাধী নন। তিনি ‘দাউদ ইব্রাহিম’ও নন। তিনি দুবাইয়ে বৈধভাবে পরিবার নিয়ে ব্যবসা করছেন। আইনি সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি মিললেই টুলু মণ্ডল দেশে ফিরবেন এবং তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন। আর বুধবার রাজ্য সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, টুলু মণ্ডল যদি দেশে ফেরেন, তবে টানা তিন সপ্তাহ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও গ্রেপ্তারির মতো কড়া পদক্ষেপ করা হবে না। তবে ভারতে ফেরার পর তিনি যাতে কোনওভাবেই তথ্যপ্রমাণ নষ্ট অথবা প্রত্যক্ষদর্শীদের প্রভাবিত করতে না পারেন সেই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট আইনি শর্ত আরোপ করতে হবে।
তাছাড়া রাজ্যের এই বক্তব্য এবং নিশ্চয়তা পর্যালোচনার পর সুপ্রিম কোর্ট টুলু মণ্ডলকে ১৭ নভেম্বরের সময়সীমা বেঁধে দেয়। আদালতের এই সুরক্ষার মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৭ ডিসেম্বর। রাজ্যের বক্তব্য শোনার পরই টুলুকে রক্ষাকবচ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। কিন্তু টুলু কি ফিরবেন? সেটা সময়ই বলবে।




