• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 4 November, 2026

রবীন্দ্র সরোবরের জল পরিশুদ্ধ করে গ্লাসে পান করানোই লক্ষ্য, সেই সরোবরেই ছটপুজো ফেরানোর ভাবনা অগ্নিমিত্রার

পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে রবীন্দ্র সরোবরে ফের ছটপুজোর অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এবং দূষণ রোধের

রবীন্দ্র সরোবরের জল পরিশুদ্ধ করে গ্লাসে পান করানোই লক্ষ্য, সেই সরোবরেই ছটপুজো ফেরানোর ভাবনা অগ্নিমিত্রার

Image: SNS

পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে রবীন্দ্র সরোবরে ফের ছটপুজোর অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছে রাজ্য সরকার। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এবং দূষণ রোধের শর্তে সরোবর চত্বরে ছটপুজো চালু করার ইঙ্গিত দিয়েছেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। মঙ্গলবার তিনি জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের ধর্মীয় আবেগ ও পুজোর প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই এই ভাবনাচিন্তা চলছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে জাতীয় পরিবেশ আদালতের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় রাজ্য।

কিছুদিন আগেই রবীন্দ্র সরোবরের জল পরিশোধনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি ছিল, এমনভাবে জল পরিশুদ্ধ করা হবে যে তা গ্লাসে করেও পান করা যাবে। এবার সেই সরোবরেই ছটপুজো ফেরানোর পক্ষে সওয়াল করলেন তিনি। অগ্নিমিত্রার কথায়, “আগে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো করতে দেওয়া হত না। আমরা এবার অনুমতি দেওয়ার কথা ভাবছি। কেন করতে দেব না? সেখানকার মানুষ কোথায় ছটপুজো করবেন?”

উল্লেখ্য, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ঘিরে সরব হয়েছিল বিজেপি। অন্যদিকে, তৃণমূলের যুক্তি ছিল, সরোবরের সংবেদনশীল বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় জাতীয় পরিবেশ আদালতের কড়া নির্দেশ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর চলেছে।

তবে এবার সেই পরিস্থিতি বদলানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। তাঁর বক্তব্য, ছটপুজোর অনুমতি দেওয়া হলেও পরিবেশের কোনও ক্ষতি হতে দেওয়া হবে না। পুজো শেষে সরোবর চত্বর পরিষ্কার করার জন্য প্রশাসনের পাশাপাশি পুজো কমিটি ও পরিবারের স্বেচ্ছাসেবকদেরও দায়িত্ব দেওয়া হবে। মন্ত্রীর কথায়, “পাহারার জন্য আমাদের লোকজন থাকবেন। পুজো কমিটি এবং পরিবারের স্বেচ্ছাসেবকরাও থাকবেন। পুজো শেষ হলেই তাঁরা সমস্ত সামগ্রী সরিয়ে জায়গাটি পরিষ্কার করে দেবেন।”

ছটপুজোর রীতির প্রসঙ্গ টেনে অগ্নিমিত্রা আরও বলেন, এই পুজোয় জলে বিশেষ কিছু ফেলা হয় না। মূলত জলে নেমে অর্ঘ্য দেওয়া এবং প্রদীপ জ্বালানোই প্রধান রীতি। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রীও রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো ফের চালু করার পক্ষে। সেই লক্ষ্যেই জাতীয় পরিবেশ আদালতের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। আলোচনার মাধ্যমে কোনও গ্রহণযোগ্য সমাধান বেরিয়ে আসবে বলেও আশাবাদী তিনি। একই সঙ্গে পূর্বতন সরকার ছটপুজো বন্ধ করে হিন্দুদের ধর্মীয় আবেগে আঘাত করেছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন মন্ত্রী।

প্রসঙ্গত, জাতীয় পরিবেশ আদালতের নির্দেশ মেনে রবীন্দ্র সরোবরের দূষণ রুখতে আগে থেকেই কড়া ব্যবস্থা নিত কলকাতা মেট্রোপলিটন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ছটপুজোর সময় সরোবর চত্বর কার্যত নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হত। প্রবেশপথগুলি টিন ও বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হত। মোতায়েন থাকত বিশাল পুলিশ বাহিনী। এমনকী, প্রতিমা বা পুজোর সামগ্রী নিয়ে আসা গাড়িকেও সরোবর সংলগ্ন রাস্তায় ঢুকতে দেওয়া হত না। সেই কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেই এবার রবীন্দ্র সরোবরে ছটপুজো ফেরানোর উদ্যোগের কথা জানাল রাজ্য সরকার। তবে পরিবেশ আদালতের অনুমতি ও শর্ত কী হবে, এখন সেটাই দেখার।