চোরবাগানেরর দুর্গাপুজোর ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার কালীপুজো (Kalipuja )সতর্ক কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্ত নিশ্চিত করতে সতর্ক। আসন্ন কালীপুজোকে (Kalipuja ) কেন্দ্র করে শহরের সমস্ত পুজো কমিটির জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে লালবাজার। কলকাতার পুলিশ (Kolkata Police) কমিশনার অজয় নন্দ জানিয়েছেন, মণ্ডপে প্রবেশের রাস্তার তুলনায় বেরোনোর রাস্তা অন্তত দ্বিগুণ চওড়া করতে হবে। পাশাপাশি, জরুরি পরিস্থিতিতে দর্শনার্থীদের দ্রুত ও নিরাপদে বের করে আনার জন্য প্রতিটি পুজো কমিটিকে আগাম পরিকল্পনা তৈরি রাখতে হবে।
পুলিশের নির্দেশ, পুজো মণ্ডপে মাইকে কোনও ঘোষণা করতে হলে তা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই করতে হবে। প্রয়োজন হলে পুলিশকর্মীদের উপস্থিতিতেই এই ঘোষণা করতে হবে। কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে কীভাবে দ্রুত দর্শনার্থীদের নিরাপদে বের করে আনা হবে, তার জন্য প্রতিটি পুজো কমিটিকে বিকল্প পরিকল্পনা বা কন্টিনজেন্সি প্ল্যান তৈরি রাখতে বলা হয়েছে। পুলিশ চাইলে সেই পরিকল্পনা জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কমিটিকে।
এ বছর কলকাতা জুড়ে মোট ৩,৪৪২টি কালীপুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। সেই উপলক্ষে সোমবার শহরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করে কলকাতা পুলিশ। সেখানেই নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত একাধিক নির্দেশের কথা জানানো হয়। আগামী ১০ থেকে ১২ নভেম্বরের মধ্যে প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পন্ন করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে।
চোরবাগানের দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে জন্য বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে পুলিশ (Kolkata Police)। ওই ঘটনায় বৃষ্টির কারণে প্রায় হাজারখানেক দর্শনার্থী মণ্ডপের ভিতরে আশ্রয় নিলে অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হয়। তার জেরেই ঘটে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনা। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে কালীপুজোর সময় বৃষ্টি শুরু হলে মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে লালবাজার। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পরেই ফের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া যাবে।
শুধু ভিড় নিয়ন্ত্রণ নয়, শব্দবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রেও কড়া নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব সবুজ বাজি পোড়ানো যাবে। লাউডস্পিকার ও সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের অনুমতি থাকবে দু’টি নির্দিষ্ট সময়ে—সকাল ৭টা থেকে ১১টা এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রায় উচ্চ শব্দের বাজি পোড়ানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি, ডিজে ব্যবহারের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে লালবাজার।
দেখুন:




