নিজস্ব স্যাটেলাইট নির্ভর দিকনির্ণয় ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগোল ভারত। শুক্রবার মহাকাশে নতুন কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠাল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)। এর ফলে আমেরিকার জিপিএসের উপর নির্ভরতা কমবে এবং দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়বে। অন্ধ্রপ্রদেশের সতীশ ধওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে জিএসএলভি রকেটের মাধ্যমে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয় এনভিএস-০৩।
GSLV-F18/NVS-03 Mission: Watch highlights of the journey from lift-off to spacecraft separation. Mission details: https://t.co/wtZ6TmjUhc #GSLVF18 #NVS03 #ISRO #NavIC https://t.co/wstykeeMK9
— ISRO (@isro) October 31, 2026
শনিবার সকালে ইসরোর বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ভাতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানীদের নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনা ক্ষমতা দেশকে গর্বিত করছে। তাঁর কথায়, নিজস্ব স্যাটেলাই নির্ভর নেভিগেশন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এই অভিযান। এনভিএস-০৩-এর উন্নত প্রযুক্তি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশের আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষও এর সুফল পাবেন।
রাস্তা খোঁজা, মানচিত্রে নির্দিষ্ট জায়গার অবস্থান জানা কিংবা সঠিক সময় নির্ধারণ—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই স্যাটেলাই নির্ভর নেভিগেশন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। এত দিন এই ধরনের পরিষেবার ক্ষেত্রে আমেরিকার জিপিএসের উপর নির্ভরতা ছিল যথেষ্ট। সেই নির্ভরতা কমাতেই ভারতের নিজস্ব ‘নাভিক’ ব্যবস্থাকে আধুনিক করে তোলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এনভিএস-০৩ উপগ্রহে রয়েছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি রুবিডিয়াম পারমাণবিক ঘড়ি। এর সাহায্যে এল১, এল৫ এবং এস—তিনটি ব্যান্ডে সঙ্কেত পাঠানো সম্ভব হবে। বিশে, করে এল১ ব্যান্ড সাধারণ স্মার্টফোন ও স্মার্টওয়াচের চিপের সঙ্গে মিল রয়েছে। ফলে নাভিক ব্যবস্থআর মাধ্যমে সাধারণ ব্যবহারকারীরা আরও নির্ভুল অবস্থান-সংক্রান্ত তথ্য পেতে পারেন। পাশাপাশি সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রও এই উপগ্রহের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
শুধু নেভিগেশন নয়, দেশের নিজস্ব সময় গণনা ব্যবস্থাকেও আরও নির্ভুল করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত। আমেরিকার জিপিএসের উপর নির্ভরতা কমাতে নিজস্ব ভূ-ভিত্তিক সময় নির্ধারণ পরিকাঠামো তোলা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই গুয়াহাটি, ভুবনেশ্বর, বেঙ্গালুরু, আহমাদাবাদ এবং ফরিদাবাদের পাঁচটি রিজিওনাল রেফারেন্স স্ট্যান্ডার্ড ল্যাবরেটরিতে জাতীয় সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পৃথক সেকেন্ডারি টাইম-স্কেল তৈরি করা হয়েছে। নতুন উপগ্রহের মাধ্যমে এই ব্যবস্থার নির্ভুলতা আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেখুন:




