ছত্তীশগড়ের বিলাসপুরে দুর্গাপুজোয় (Durga Puja) অভিনব উদ্যোগ। দুর্গাপুজোর (Durga Puja) মণ্ডপ সাজানো হয়েছে খাতা, বই, পেন, পেন্সিল এবং স্কুলব্যাগের বিভিন্ন স্টেশনারি সামগ্রী দিয়ে। তবে মণ্ডপসজ্জার এই অভিনব ভাবনার পিছনে রয়েছে মহৎ উদ্দেশ্য। পুজো মিটলে এই সমস্ত সামগ্রী বিলি করা হবে আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক পরিবারের শিশুদের মধ্যে, যাতে তারা পড়াশোনা করতে পারে।
আয়োজকদের তরফে জানানো হয়েছে, প্রতিমা বিসর্জনের কয়েক দিন পর একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেখানেই শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হবে মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহৃত খাতা, বই, পেন, পেনসিল এবং স্কুলব্যাগ।
আরও পড়ুন: শরৎ এল রে: মহাষ্টমীতে বেলুড় মঠে কুমারী পুজো, পুণ্যার্থীদের ঢল
পুজো কমিটির এক সদস্য আইএএনএস-কে জানিয়েছেন, গত ৫৮ বছর ধরে তাঁদের কমিটি এখানে দুর্গাপুজোর (Durga Puja) আয়োজন করে আসছে। এ বার মণ্ডপসজ্জায় একেবারে নতুন ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে। কমিটির সদস্যরাই বিভিন্ন স্টেশনারি সামগ্রী দিয়ে মণ্ডপটি সাজিয়েছেন।
কমিটির আরও এক সদস্য বলেন, ‘এবারের থিম স্টেশনারি ওয়ার্ল্ড’। মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহৃত সমস্ত সামগ্রী বিসর্জনের দিন বিভিন্ন এলাকার শিশুদের মধ্যে বিলি করা হবে।‘ মণ্ডপের অভিনব সাজসজ্জা দেখে মুগ্ধ দর্শনার্থীরাও। তাঁদের মতে, এই উদ্যোগ শুধু সৃজনশীলতার পরিচয় নয়, বরং শিশুদের শিক্ষার প্রসারে একটি প্রশংসনীয় পদক্ষেপ।
এক দর্শনার্থীর কথায়, ‘প্রতি বছরই এখানে নতুন থিম থাকে। এ বার থিম স্টেশনারি ওয়ার্ল্ড। এমনকি দেবী দুর্গার (Durga Puja) সাজসজ্জাতেও ব্যবহার করা হয়েছে স্টেশনারি সামগ্রী। এই ধরনের মণ্ডপ তৈরি করা যথেষ্ট কঠিন হলেও শিল্পীরা অত্যন্ত সুন্দরভাবে দেবীকে সাজিয়েছেন। গোটা মণ্ডপই খাতা-কলম-সহ নানা শিক্ষার উপরকরণ দিয়ে সাজানো। আমাদের শহরে এমন মণ্ডপ সত্যিই বিরল। একটি শিশুর ভবিষ্যৎ শিক্ষার সঙ্গে জড়িত। তাই এই উদ্যোগকে দেবীর আশীর্বাদ হিসেবেই দেখা যায়।‘
সাধারণত ফুল, আলো ও নানা শিল্পকর্মী দিয়ে দুর্গাপুজোর (Durga Puja) মণ্ডপ সাজানো হয়। তবে বিলাসপুরের মাসানগঞ্জের এই পুজোমণ্ডপে এ বার বিশেষভাবে নজর কেড়েছে শিক্ষার প্রসার এবং অসহায় শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে। প্রতিমা বিসর্জনের পর মণ্ডপসজ্জার সামগ্রী শিশুদের হাতে তুলে দেওয়ার এই উদ্যোগ উৎসবের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তুলবে বলে মনে করছেন আয়োজকেরা।
দেখুন: আধুনিক আবাসনে বাঙালিয়ানা, সিদ্ধা ইডেন লেকভিলের পুজোর থিম ‘আমার শিকড়ে বাংলা’




