• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 15 October, 2026

অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা পেলেন হেলথ কার্ড, দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে বিশেষ উপহার মিলল

নতুন হেলথ কার্ডের মাধ্যমে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারবেন তাঁরা। তাতে খরচ লাগবে না। ওষুধের উপরও মিলবে ৫০ শতাংশ ছাড়

অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা পেলেন হেলথ কার্ড, দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে বিশেষ উপহার মিলল

Anganwadi Workers Photo-SNS

গ্রামবাংলায় সারা বছর তাঁরা কাজ করে থাকেন। স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখা থেকে শুরু করে যে কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে নিজেদের জীবন বাজি রেখে কাজ করে যান তাঁরা। শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা গ্রামবাসীদের ভরসা তাঁরা। হ্যাঁ, তাঁরা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। অনেকে তাঁদের অঙ্গনওয়াড়ি দিদি বলেই জানেন। যাঁরা মানুষের দুয়ারে গিয়ে খোঁজ নেন, শরীর স্বাস্থ্য কেমন আছে? এই প্রশ্ন তাঁদের মুখে শুনে অনেকেই নিজেদের কথা জানান। আর পান সহজ সমাধান। সরকারি স্তরের চিকিৎসা পরিষেবা মানুষের কাছে তাঁরাই পৌঁছে দেন। কিন্তু তাঁদের কেউ জিজ্ঞাসা করেন, আপনারা কেমন আছেন? এইটা কেউই জানতে চান না। কিন্তু তারপরও মুখে হাসি নিয়ে কাজ করে যান তাঁরা।

এবার তাঁদের বিশেষ উপহার দিল জগন্নাথ গুপ্ত ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স। তাঁদের বেতন রাজ্য সরকার বাড়িয়েছে। এবার তাঁদের জন্য নিয়ে আসা হয়েছে হেলথ কার্ড। যে কার্ড ব্যবহার করে বিনামূল্যে তাঁরা চিকিৎসা করাতে পারবেন। দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে এটাই তাঁদের কাছে বড় উপহার। মানুষের কাছে তাঁরাই তো জলজ্যান্ত দশভুজা। বোধনের ঠিক আগে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হল হেলথ কার্ড। এই অঙ্গনওয়াড়ি দিদিরাই তো বছরভর ব্যস্ত থাকেন অন্যের দেখভালে। শরীর কেমন আছে? এই প্রশ্ন করে জেনে নেন মানুষের স্বাস্থ্যের খুঁটিনাটি। সেই মতো ব্যবস্থাও করে দেন। অথচ নিজেদের যত্ন নেন না তাঁরা। এবার এই অঙ্গনওয়াড়ি দিদিরাও চিকিৎসা করাতে পারবেন হেলথ কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে।

নতুন হেলথ কার্ডের মাধ্যমে হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে পারবেন তাঁরা। তাতে খরচ লাগবে না। ওষুধের উপরও মিলবে ৫০ শতাংশ ছাড়। হাসপাতালে ভর্তি হলে লাগবে না বেডের ভাড়াও। বৃহস্পতিবার কলকাতায় কার্শিয়াং, দুই মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা থেকে এসেছিলেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। গ্রামীণ এলাকার মানুষের স্বার্থে নিরলস কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ১০ জন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে সংবর্ধনা জানাল জগন্নাথ গুপ্ত ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স। ৫২ জনের হাতে তুলে দেওয়া হল হেলথ কার্ড। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নাট্যকার কৌশিক সেন।

তাছাড়া অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের জন্য নানা উদ্যোগ নিয়ে থাকে রাজ্য সরকার। কিন্তু এবার বিশেষ উদ্যোগ নিল জগন্নাথ গুপ্ত ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্স। এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান কৃষ্ণকুমার গুপ্ত জানান, উৎসবের মরশুমে সমাজের প্রতি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের দায়বদ্ধতা অপরিসীম। তাই তাদের অবদানকে জনসমক্ষে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ। বাড়ি বাড়ি ঘুরে গর্ভবতী স্তন্যদায়ী মায়েদের পুষ্টি সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া থেকে শুরু করে ঝুঁকিপূর্ণ অন্তঃসত্ত্বাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো এবং প্রয়োজনে পড়াশোনাও শেখান খুদেদের। কাজের চাপে তারা ঠাকুর দেখার সুযোগ পান না। এবার তাদের জন্য আয়োজন করা হয় পুজো পরিক্রমারও।