দশেরার চেনা ছবিতে যুগ যুগ ধরে চলে আসা রাবণ, কুম্ভকর্ণ আর মেঘনাদের কুশপুতুল পোড়ানোর তালিকায় এবার আচমকা ঢুকে পড়ল এক নতুন চরিত্র। উত্তর-পশ্চিম দিল্লির পীতমপুরায় রামলীলার মঞ্চে দশাননের বিশালাকার কাঠামোর ঠিক পাশেই এ বার আগুনে ভস্মীভূত করা হবে আস্ত একটি ৩০ ফুট লম্বা ‘আরশোলা’র কুশপুতুল। আয়োজক সংস্থা শ্রী কেশব রামলীলা কমিটির এই নজিরবিহীন ঘোষণায় রাজধানীর রাজনৈতিক করিডোরে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে। কমিটির দাবি, ‘স্বচ্ছ ভারত’ ও ‘স্বচ্ছ দিল্লি’ অভিযানের বার্তা দিতেই নোংরা ও আবর্জনার প্রতীক হিসেবে আরশোলার প্রতিকৃতি পোড়ানোর সিদ্ধান্ত। এই ঘটনাকে নেহাত সমাপতন বলে মানতে নারাজ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। কারণ, রাজধানীতে যখন ককরোচ জনতা পার্টি (Cockroach Janta Party-CJP) নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাজপথের আন্দোলনে, ঠিক তখনই রামলীলার ময়দানে এই আয়োজন।
রামলীলা কমিটির সভাপতি তথা বিজেপি বিধায়ক অশোক গয়াল অবশ্য কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধির অভিযোগ পত্রপাঠ খারিজ করে দিয়েছেন। সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে তিনি জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের সঙ্গে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিক্ষোভের কোনও যোগ নেই, সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক। তাঁর যুক্তি, আরশোলা হল নোংরা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও বর্জ্যের জীবন্ত প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর স্বচ্ছতা অভিযানের ভাবনাকে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতেই এই প্রতীকী দাহের আয়োজন করা হয়েছে।
STORY | Delhi Ramlila to burn 30-foot ‘cockroach’ effigy alongside Ravan A 30-foot-tall “cockroach” effigy will go up in flames alongside those of Ravan, Kumbhkaran, and Meghnad at a Ramlila in the national capital this year. READ: https://t.co/URjtxQYxBz https://t.co/OwoOJ8NRaa
— Press Trust of India (@PTI_News) October 15, 2026
বিজেপি বিধায়ক অরাজনৈতিক তকমা দিলেও রাজধানীর বর্তমান পরিস্থিতিতে এই ব্যাখ্যা হজম করা কঠিন। কারণ গত কয়েকদিন ধরেই ধরে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন বিতর্কে দিল্লি পুলিশের মাথাব্যথার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই সিজেপি। দলের আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকের আহ্বানে দিল্লির রাস্তায় ছাত্র-যুবদের দফায় দফায় জমায়েত হয়েছে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার মতো মুখপাত্ররা আপাতত তিহাড়ের কুঠুরিতে বন্দি। এমনকি লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটও এই মঞ্চের পাশে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবারই কনট প্লেসের বুকে তেরঙা হাতে বড় সমাবেশের ডাক দিয়েছে তারা। ঠিক এই উত্তপ্ত আবহেই দশেরার মেলায় রাবণের সঙ্গে একই সারিতে আরশোলার বিশাল কুশপুতুল দাঁড় করিয়ে দেওয়াকে মোক্ষম রাজনৈতিক কটাক্ষ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, দশেরার সন্ধ্যায় নিয়মমাফিক তিন রাক্ষস বধের পাশাপাশি আতশবাজির আগুনে ছাই হয়ে যাবে এই ৩০ ফুটের কাঠামোটিও। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবের মঞ্চকে ব্যবহার করে বিরোধীদের এভাবে পুড়িয়ে ভস্ম করে দেওয়ার প্রতীকী কৌশল নতুন দিল্লির রাজনীতিতে যে বিতর্কের আরও বারুদ মজুত করল, তাতে সন্দেহ নেই।




