• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 14 October, 2026

ইভিএমের আকাল কাটাতে পুরনো তথ্য মুছতে নির্দেশ হাইকোর্টের, পুরভোটের জট কাটল!

কমিশনের বক্তব্য, ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিট আলাদা করা সম্ভব নয়। নতুন করে যন্ত্রটি ব্যবহার করতে গেলে আগের তথ্য মুছে ফেলতেই হবে। সেই তথ্য অন্য কোনও ইলেকট্রনিক যন্ত্রে ডাউনলোড করে রেখে দেওয়ার ব্যবস্থাও নেই। কমিশনের দাবি, এই সমস্যার প্রভাব পড়ছে রাজ্যের ১০৮টি পুরসভার উপর।

ইভিএমের আকাল কাটাতে পুরনো তথ্য মুছতে নির্দেশ হাইকোর্টের, পুরভোটের জট কাটল!

Calcutta High Court Photo-SNS

ভোট আসন্ন। অথচ ভোটযন্ত্রের জোগান নিয়েই সংশয়! নভেম্বর-ডিসেম্বরে পুরভোট করাতে প্রয়োজনীয় ইভিএম কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল জট। অন্য রাজ্য থেকেও ইভিএম আনার সুযোগ নেই। এই পরিস্থিতিতে পুরনো ভোটযন্ত্র ফের ব্যবহারের পথ খুলতে কলকাতা ও কাঁথির পুরনো ইভিএমের তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। কলকাতা পুরসভার তিনটি ওয়ার্ড এবং কাঁথি পুরসভা বাদে সংরক্ষিত ইভিএমের তথ্য মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগে ও বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ।

নভেম্বর-ডিসেম্বরে নির্বাচন করাতে কমিশন প্রস্তুত বলে আদালতে জানানো হয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত ইভিএম না থাকলে ভোট পরিচালনা কীভাবে সম্ভব, সেই প্রশ্নেই তৈরি হয়েছিল আইনি জট। আগের একাধিক নির্বাচনের ইভিএম এখনও সংরক্ষিত থাকায় সেগুলি পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে পুরনো তথ্য মুছে ফেলা যাবে কি না, তা নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

কমিশনের বক্তব্য, ইভিএমের কন্ট্রোল ইউনিট আলাদা করা সম্ভব নয়। নতুন করে যন্ত্রটি ব্যবহার করতে গেলে আগের তথ্য মুছে ফেলতেই হবে। সেই তথ্য অন্য কোনও ইলেকট্রনিক যন্ত্রে ডাউনলোড করে রেখে দেওয়ার ব্যবস্থাও নেই। কমিশনের দাবি, এই সমস্যার প্রভাব পড়ছে রাজ্যের ১০৮টি পুরসভার উপর।

শুনানিতে কমিশনের আইনজীবী সপ্তাংশু বসু বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন। এরপরেই প্রধান বিচারপতি কমিশনকে সংক্ষিপ্ত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। কেন কন্ট্রোল ইউনিট আলাদা করা যায় না? কেন পুরনো তথ্য মুছে ফেলা জরুরি এবং কেন সেই তথ্য অন্যত্র সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়? হলফনামায় তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

এদিকে, ইভিএমের তথ্য মুছে ফেলার প্রশ্নের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও ফরেন্সিক অডিট নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের বিষয়টিও। ওই সংক্রান্ত একটি মামলায় শীর্ষ আদালতের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ রয়েছে। তবে সেই স্থগিতাদেশের পরিধি কতটা, তা নিয়েও শুনানিতে আলোচনা হয়।

রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য আদালতে জানান, সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র কাঁথি পুরসভার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অন্য পুরসভাগুলির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক্তিয়ার হাইকোর্টের রয়েছে। মামলাকারীর আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ও জানান, তাঁর মক্কেলের ইভিএম ফেরত দেওয়া নিয়ে আপত্তি নেই। তাঁর বক্তব্য, তিনি চান নির্বাচন হোক।

আরও পড়ুন: পুজোর আনন্দ মাটি হবে বৃষ্টিতে! উত্তর-দক্ষিণে আবহাওয়ার বড় আপডেট

সব মিলিয়ে ভোটযন্ত্রের অপ্রতুলতা মেটাতে পুরনো ইভিএম ফের ব্যবহারের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করল হাইকোর্ট। তবে কন্ট্রোল ইউনিটের তথ্য সংরক্ষণ ও মুছে ফেলার প্রযুক্তিগত দিক নিয়ে কমিশনের ব্যাখ্যা আদালতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সেই ব্যাখ্যা হলফনামায় জমা পড়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ স্পষ্ট হবে।