• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 9 October, 2026

বইমেলায় আসতে চান তসলিমা, চান বাংলায় থাকতে ও ঘুরে বেড়াতে

নতুন সরকারের আমলে বাংলা ভাল আছে, দাবি লেখিকা তসলিমা নাসরিনের। এবার কলকাতা বইমেলায় আসতে চান তিনি। শুধু বইমেলায়

বইমেলায় আসতে চান তসলিমা, চান বাংলায় থাকতে ও ঘুরে বেড়াতে

দীর্ঘদিনের দূরত্ব ঘুচিয়ে আবার বাংলার মাটিতে বেশি করে ফিরতে চান লেখিকা তসলিমা নাসরিন। কলকাতা বইমেলায় আসার ইচ্ছা তো রয়েছেই, সেই সঙ্গে বাংলায় থেকে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতেও চান তিনি। নতুন সরকারের আমলে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার মহাজাতি সদনে ‘ স্টেটসম্যান’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তসলিমা বলেন, “নতুন সরকারের আমলে ভাল আছে রাজ্য। অনেকেই আমাকে বলেছেন। আমারও ভাল লাগছে। এক সরকার তাড়িয়েছিল। এক সরকার আসতে দেয়নি। আরেক সরকার আমাকে নিয়ে এল। অনেক পার্থক্য।”
বাংলার সঙ্গে তসলিমার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। কিন্তু সেই বাংলাতেই দীর্ঘ সময় ধরে কার্যত ব্রাত্য থেকেছেন তিনি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নানা বিতর্কের জেরে রাজ্যে তাঁর থাকা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। এ বার কলকাতা বইমেলায় আসার পাশাপাশি বাংলায় থাকা এবং বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করলেন নির্বাসিত লেখিকা। তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার মহাজাতি সদনে ‘লে রিদম’ ও ‘দিশাশক্তি নিউজ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিকল ভাঙার গল্প’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তসলিমা। সেখানে নিজের লেখা একাধিক কবিতা পাঠ করেন তিনি। ‘মায়ের কাছেও চিঠি’সহ তাঁর কয়েকটি কবিতায় উঠে আসে নারীর যন্ত্রণা, প্রেম এবং মুক্তির আকাঙ্ক্ষা। তাঁর কবিতা অবলম্বনে গান পরিবেশন করেন তিন শিল্পী।
নিজের কবিতার প্রসঙ্গ তুলে তসলিমা বলেন, “নারীর বেদনা, প্রেম আর মুক্তির গান নিয়েই আজকের এই অনুষ্ঠান।” অনুষ্ঠানের মূল ভাবনাতেও ছিল নারীর লড়াই, আত্মপ্রকাশ এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, স্বামী কৃপাকরানন্দ মহারাজ, জাদুকর পি সি সরকার জুনিয়র, পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ এবং পি সি চন্দ্র গোষ্ঠীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর অরুণকুমার চন্দ্র ও জয়েন্ট ডিরেক্টর শুভ্র চন্দ্র। বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাপস রায় বলেন, “আজকের এই অনুষ্ঠানে এসে ভাল লাগছে। মায়েদের, দিদিদের পেলাম। সকলেই জীবন্ত দুর্গা।”
এ দিন অনুষ্ঠানে সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য কৃতী মহিলাদের ‘ঊমা সম্মান’ দেওয়া হয়। এই সম্মানপ্রাপকদের তালিকায় ছিলেন তসলিমা নাসরিন, অভিনেত্রী ও বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, অভিনেত্রী ও বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী, আউশগ্রামের বিধায়ক কলিতা মাঝি, পানিহাটির বিধায়ক রত্না দেবনাথ, জাদুকরী মানেকা সরকার, অভিনেত্রী ও প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, সমাজকর্মী মহুয়া ধর, মায়া বাগ এবং নৃত্যপরিচালক মৈত্রেয়ী পাহাড়ী-সহ আরও অনেকে।
পাশাপাশি প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী রিনি মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিতে কয়েক জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকে ‘রিনি মুখোপাধ্যায় লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। এই সম্মান পেয়েছেন পি সি চন্দ্র গোষ্ঠীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর অরুণকুমার চন্দ্র, জাদুকর পি সি সরকার জুনিয়র, বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ও সমাজসংস্কারক অলকানন্দা রায় এবং রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার। সদ্যপ্রয়াত রবীন্দ্রসঙ্গীতশিল্পী বিভা সেনগুপ্তকেও মরণোত্তর সম্মান জানানো হয়। তাঁর পরিবারের সদস্যদের হাতে সেই সম্মান তুলে দেওয়া হয়। দ্বিতীয় পর্বে সম্মানিতদের তালিকায় রয়েছেন প্রবীণ ক্রীড়া সাংবাদিক দেবাশিস দত্ত এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও পদার্থবিদ্যার গবেষক শ্যামল বিশ্বাস।
দিল্লিভিত্তিক অলাভজনক সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা ‘লে রিদম’ ভারতীয় শিল্প-সংস্কৃতির প্রসার, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিয়ে কাজ করে। সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা রাজীব মুখার্জির নেতৃত্বে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মসূচি পরিচালিত হয়। ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলার প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রান্তিক পরিবারের শিশু, যুবসমাজ এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম শিশুদের নিয়েও কাজ করে সংস্থাটি।
তবে এ দিনের অনুষ্ঠানে সম্মানপ্রাপ্তির পাশাপাশি তসলিমা নাসরিনের কলকাতা বইমেলায় আসার ইচ্ছা প্রকাশই বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছে। বাংলায় থাকা এবং বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানোর আকাঙ্ক্ষার কথাও জানিয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিনের দূরত্ব পেরিয়ে তাঁর সেই ইচ্ছা বাস্তবে কতটা পূরণ হয়, এখন সেদিকেই নজর থাকবে।