• facebook
  • twitter
  • youtube
Thursday, 8 October, 2026

শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষাকর্মীর প্রেমের সম্পর্কে স্কুলে সুনাম নষ্ট হচ্ছে, কোচবিহারে পড়ুয়াদের হাতে হেনস্থার অভিযোগ

কোচবিহারের মাথাভাঙা ১ নম্বর ব্লকের নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের পানিগ্রাম হাইস্কুলের বাংলা শিক্ষক মুরতাজা আল আমিন

শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষাকর্মীর প্রেমের সম্পর্কে স্কুলে সুনাম নষ্ট হচ্ছে, কোচবিহারে পড়ুয়াদের হাতে হেনস্থার অভিযোগ

Love Affairs Photo-SNS

দু’জনেই স্কুলে কাজ করেন। এই দু’জন শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীর মধ্যে কর্মসূত্রে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ। একসঙ্গে টিফিন খাওয়া থেকে শুরু করে বাড়ি ফেরা লেগেই ছিল। যুবক শিক্ষকের স্কুটিতে চেপে দিনের শেষে যুবতী শিক্ষাকর্মীর পথচলা দেখেছেন পড়ুযারা। এই নিয়ে নানা কথা চাউর হতে থাকে। স্কুলের কাজ শেষ করে কখনও কোনও পার্কে যাওয়া, একসঙ্গে ফুচকা খাওয়া, একে অপরের হাত ধরে অনেকটা হাঁটা এসব চলছিলই বলে অভিযোগ। আর তা অনেকেই দেখেছেন। এতে স্কুলের সুনাম নষ্ট হচ্ছে বলে পড়ুযাদের অভিযোগ। আর তার জেরে শিক্ষককে চরম হেনস্থার মুখে পড়তে হল। যা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষক-শিক্ষাকর্মী প্রেম করতেই পারেন। তাতে বাধা কোথায়? উঠেছে এমনও প্রশ্ন। শুধু তাই নয়, নাবালক পড়ুয়ারা এভাবে কি শিক্ষককে হেনস্থা করতে পারে? এই প্রশ্ন তুলেছেন স্বয়ং শিক্ষক। সহকর্মী শিক্ষাকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকায় কোচবিহারের স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন ওই শিক্ষক। শিক্ষাকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে স্কুলের সুনাম নষ্ট হচ্ছে অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার ওই শিক্ষককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখায় পড়ুয়ারা। ওই শিক্ষকের স্কুটি ভাঙচুর পর্যন্ত করা হয় বলে অভিযোগ। এমনকী শিক্ষকের অপসারণের দাবিতে তুলেছে নাবালক পড়ুয়ারা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোচবিহারের স্কুলে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

কোচবিহারের মাথাভাঙা ১ নম্বর ব্লকের নয়ারহাট গ্রাম পঞ্চায়েতের পানিগ্রাম হাইস্কুলের বাংলা শিক্ষক মুরতাজা আল আমিন। তিনি ওই স্কুলেরই যুবতী শিক্ষাকর্মীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। একে অপরকে ভালও লেগে যায়। দু’সপ্তাহ আগে এই প্রেমের কথা জানাজানি হয়ে যায়। তখন থেকে স্কুলে আসা বন্ধ হয়ে যায় ওই শিক্ষক ও তাঁর সহকর্মী যুবতীর। দু’সপ্তাহ পর বৃহস্পতিবার স্কুলে আসতেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে পড়ুয়াদের একাংশ। ওই শিক্ষককে স্কুল থেকে সরানোর দাবিতে সরব হয়ে এদিন দিনভর কার্যত হুলুস্থুল বেধে যায় স্কুল প্রাঙ্গণে। পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষকের স্কুটি পর্যন্ত ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, ঘটনাস্থলে আসতে হয় নয়ারহাট ফাঁড়ির পুলিশকে। স্কুলচত্বর থেকে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ওই শিক্ষক বলেন, ‘সব ভিত্তিহীন অভিযোগ। প্রাপ্তবয়স্ক একজন শিক্ষক কার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়াবেন, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলার এক্তিয়ার আদৌ আছে ছাত্রছাত্রীদের? যদি প্রেমের সম্পর্ক থাকেও সেটা নিয়ে স্কুলে এমন পরিস্থিতি বাঞ্চনীয় নয়। যারা স্কুটিতে হামলা চালিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।’