ইউক্রেনজুড়ে বুধবার রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছে ৫টি শিশু। উত্তর ইউক্রেনের চেরনিহিভ অঞ্চলের প্রিলুকিতে একটি আবাসিক ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুদের মৃত্যু হয়।
ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রিলুকির পাঁচতলা ভবনের প্রায় অর্ধেক অংশ বিস্ফোরণে ধসে পড়েছে। পুরো ভবনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, নিহত শিশুদের মধ্যে তিনজনের বয়স মাত্র এক বছর। অন্য একজনের বয়স আট বছর। সন্ধ্যায় ধ্বংসস্তূপ থেকে আরও এক শিশুর দেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই হামলায় মোট ২০ জন নিহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আরও সাত শিশু রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোর সাড়ে ৬টার দিকে হামলাটি চালানো হয়। ৪০ বছর বয়সী ওলেনা সায়ুন জানান, বিস্ফোরণের সময়ে তিনি পরিবারের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। বিস্ফোরণের সময়ে জানলা ভেঙে যায়। সন্তানকে নিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেন তিনি ও তাঁর স্বামী। আতঙ্কে শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়ে।
জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের বাসভবনে ইচ্ছাকৃতভাবে হামলা চালানোর অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, সচেতনভাবে সাধারণ মানুষ ও শিশুদের উপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, বুধবার রাতে রাশিয়া অন্তত ৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১৩০টি ড্রোন ছুঁড়েছে। ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক, কিয়েভ, খারকিভ ও পোলতাভা-সহ বিভিন্ন অঞ্চল হামলার লক্ষ্য ছিল।
বিমানবাহিনীর দাবি, বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও শতাধিক ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে। তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। মধ্য ইউক্রেনের ক্রেমেনচুকে একটি বহুতল ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২ জন ও ওলেক্সান্দ্রিয়ায় আরও ২ জন নিহত হন। রাজধানী কিয়েভে দারনিতস্কি এলাকায় হামলার সময়ে আগুন ধরে যায়। সেখানে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। পরবর্তী হামলায় আরও ২জন নিহত হয়েছেন বলে মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ‘আমাকে নোবেল না দিলে কমিটিরই অসম্মান’, ফের সওয়াল ট্রাম্পের
হামলার আশঙ্কায় কিয়েভের বাসিন্দাদের অনেকে মেট্রো স্টেশনে রাত কাটিয়েছেন। বিদ্যুৎ ও পানীয় জল সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটে। শীতের আগে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ পরিকাঠামোয় রুশ হামলা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের খেরসন ও দোনেৎস্ক অঞ্চলেও ড্রোন হামলায় কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রুশ হামলার জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন তেল স্থাপনা ও সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে।




