চলতি বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার ঠিক আগে নিজের পক্ষে ফের জোরালো সওয়াল করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ে তিনি দাবি করেন, তাঁর প্রশাসনের কূটনৈতিক উদ্যোগ ও বিভিন্ন সংঘাত নিরসনের জন্য স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া উচিত। তা না হলে আদতে নরওয়ের নোবেল কমিটিরই বড় অসম্মান হবে বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, নরওয়ের অসলোতে ঘোষণা হওয়ার কথা। পুরস্কার না-ও পেতে পারেন বলে স্বীকার করলেও ট্রাম্পের দাবি, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফেরার পর তিনি একাধিক সংঘাতের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। তিনি আটটি যুদ্ধ বা সংঘাত মীমাংসা করেছেন, যা তাঁর আগে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট করেননি।
ট্রাম্পের কথায়, ‘আমি এমন কিছু করেছি, যা আগে কেউ করেনি। আমি গর্ব করে বলছি না। শুধু তথ্য বলছি।’ ট্রাম্প প্রশাসন যে আটটি সংঘাতের কথা বারবার তুলে ধরেছে, তার মধ্যে রয়েছে কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড, আর্মেনিয়া-আজারবাইজান, ভারত-পাকিস্তান এবং ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো-রুয়ান্ডার মধ্যেকার সংঘাত। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের অনেক সংঘাতেও তাঁর প্রশাসনের কূটনৈতিক ভূমিকার কথা বলা হয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই দাবির ব্যাপ্তি ও স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কয়েকটি অঞ্চলে ফের সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও এখনও কোনও চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি হয়নি। নিজের দাবির পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে বারাক ওবামার ২০০৯ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ওবামা পুরস্কার পেলেও কিছুই করেননি। কেন তাঁকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল, সেটিও তিনি জানতেন না। ২০০৯ সালে নরওয়ের নোবেল কমিটি আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে ওবামার অসাধারণ প্রচেষ্টার জন্য তাঁকে শান্তি পুরস্কার দিয়েছিল।
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর কথাও উল্লেখ করেন। জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে সাক্ষাতের সময়ে মাচাদো তাঁর নোবেল পদক ট্রাম্পকে উপহার দিয়েছিলেন। তবে নোবেল পুরস্কার ব্যক্তিগতভাবে বিজয়ীরই থাকে এবং তা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না।
আরও পড়ুন: পুতিনের সঙ্গে শীঘ্রই ফোনালাপ করবেন ট্রাম্প, হবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সমাপ্তি?
চলতি বছরে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭টি মনোনয়ন জমা পড়েছে। এর মধ্যে ৭৯টি সংগঠন। মনোনীত ব্যক্তিদের নাম নোবেল প্রতিষ্ঠানগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন না। মনোনয়নের নথি ৫০ বছর পর্যন্ত গোপন রাখা হয়। তবে চলতি বছরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কারের ভাগীদার হতে পারেন কি না, এখন সেটাই দেখার।




