• facebook
  • twitter
  • youtube
Wednesday, 7 October, 2026

দেশের ১০ রাজ্যে তল্লাশি জারি কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেলের, সন্দেহের তালিকায় বহু নৌসেনাকর্মী

এখানেই শেষ নয়, দেশের তথ্য কারা পাচার করছে তার জন্য বাড়ানো হয়েছে কড়া নজরদারি। আর তাই অন্ধ্রপ্রদেশে তো কড়া নজর রেখে

দেশের ১০ রাজ্যে তল্লাশি জারি কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেলের, সন্দেহের তালিকায় বহু নৌসেনাকর্মী

Indian Navy Officer Arrested File Photo

পাকিস্তানের হাতে দেশের প্রতিরক্ষার তথ্য পৌঁছে যাচ্ছে। যা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় বিপদ। আর তা পৌঁছে দিচ্ছেন দেশের নৌসেনাকর্মীরা বলে অভিযোগ। কদিন আগেই বাঙালি নৌসেনাকর্মী ধরা পড়েছে। সেখানে অবশ্য হানিট্র্যাপের ফাঁদ ছিল। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তামিলনাড়ু থেকে। কিন্তু বিষয়টি এখানেই থেমে থাকছে না। এমন আরও বেশ কিছু নৌসেনাকর্মী আছেন যাঁরা তথ্য পাচারের কাজে জড়িত বলে সন্দেহ করছে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল। শুধু একজন দু’জন নৌসেনাকর্মীই নন, গোয়েন্দাদের সন্দেহের তালিকায় উঠে এসেছে আরও ১৮ জনের নাম। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনই নৌসেনাকর্মী।

এই ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশের গোয়েন্দারাও। কারণ কোন তথ্য ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের কাছে পৌঁছে গিয়েছে তা সবটা এখনও জানা সম্ভব হয়নি। সামনে শীতকাল আসছে। সেই সময় পাকিস্তান ভারতের বিরুদ্ধে নাশকতার ছক কষতে পারে বলে জানতে পেরেছে দেশের গোয়েন্দারা। আর তাই এখন থেকেই কড়া পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত খবর পাক গোয়েন্দা সংস্থার হাতে কারা পৌঁছে দিচ্ছেন সেটা জানতে অভিযানে নেমেছে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল। আর এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ফায়ারওয়াল ২০২৬’। ১২টি দলে ভাগ হয়ে তা শুরু করা হয়েছে। দেশের ১০ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে তল্লাশি চালাতে শুরু করেছে তারা। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম থেকে চরবৃত্তির অভিযোগে নৌসেনাকর্মী গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই তল্লাশি আরও কড়াভাবে শুরু হয়েছে।

এখানেই শেষ নয়, দেশের তথ্য কারা পাচার করছে তার জন্য বাড়ানো হয়েছে কড়া নজরদারি। আর তাই অন্ধ্রপ্রদেশে তো কড়া নজর রেখে অভিযান করা হচ্ছেই। এই রাজ্য ছাড়াও তল্লাশি চালানো হচ্ছে কেরল, কর্নাটক, মহারাষ্ট্র, গোয়া, নয়াদিল্লি, গুজরাত, তামিলনাড়ু, বিহার এবং ছত্তিশগড় রাজ্যে। এমনকী ‘এনক্রিপ্টেড’ প্ল্যাটফর্মগুলির মাধ্যমে পাক হ্যান্ডলার বা গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা রাখছে সেটা জন্য কাজ শুরু হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে খবর। সন্দেহভাজনদের মধ্যে দু’জনকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তালিকা বেশ দীর্ঘ। এই তালিকা ধরে ধরে কাজ চলছে বলে জানা গিয়েছে। অপারেশন সিঁদুরে কোণঠাসা হয়ে পড়া পাকিস্তান এখন এভাবেই ভারতের উপর আঘাত হানতে ছক কষেছে বলে গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন।

তাছাড়া নৌসেনা অফিসার, সন্ত্রাসদমন শাখা এবং স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় ১৮ জন সন্দেহভাজনের ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে বেশ কিছু নথি, ইলেকট্রনিক গ্যাজেটস এবং মোবাইল বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। নৌসেনাকর্মী প্রদীপ মুখোপাধ্যায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে এই অভিযান সক্রিয় হয়েছে। সেই কাজ করছে কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সেল। নৌসেনাকর্মী প্রদীপ মুখোপাধ্যায় ছাড়াও গ্রেফতার হয়েছেন নৌসেনা অফিসারদের গাড়ির চালক আন্নাম সাই ভারা প্রসাদ। দু’জনেই মোটা টাকার বিনিময়ে পাকিস্তানে তথ্য পাচার করেছেন বলে অভিযোগ।