• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 6 October, 2026

ব্রাজিল-ম্যাচের সেই লড়াই আর দেখা গেল না, উরুগুয়ের কাছে হাফ ডজন গোল খেল ভারত, দিল এক

পাঁচ গোল খাওয়ার পর অভিজ্ঞ গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সান্ধু মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান, তাঁর বদলে নামেন আলবিনো গোমস। কিন্তু ততক্ষণে ভারতীয় দলের যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গিয়েছে।

ব্রাজিল-ম্যাচের সেই লড়াই আর দেখা গেল না, উরুগুয়ের কাছে হাফ ডজন গোল খেল ভারত, দিল এক

India conceded six goals against Uruguay, lost by 1-6 (SNS)

তিন দিন আগে ব্রাজিল দিয়েছিল চার গোল। মঙ্গলবার সেই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনেই উরুগুয়ে দিয়ে গেল ছ’গোল। অবশ্য ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ভারত যা পারেনি, এ দিন তা পারল, একটি গোল করল। ১৯৮২-তে যেমন দিয়েছিল। তবে এ বার ব্যবধানটা এতটাই বেশি (৬-১) যে, অনিরুদ্ধ থাপার সেই গোলও ম্লান হয়ে যায়।

প্রথম এগারোয় পাঁচ বিশ্বকাপার নিয়ে নেমে উরুগুয়ে এ দিন ভারতকে বুঝিয়ে দিয়ে গেল যে, ১৩৮ ও ২০ নম্বরের ফারাকটা ঠিক কতটা। খেলার মাঝখানে প্রবল বজ্রপাত ও বৃষ্টির জন্য খেলা না হওয়ার সময়টুকু যা স্বস্তিতে ছিলেন ভারতীয় ফুটবলাররা। বাকি সময়টুকু পুরোটাই তাদের অস্বস্তির সময়। যুবভারতীর গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার ৩৭ দর্শকের কাছে বেশ অস্বস্তির একটা ম্যাচ হয়ে রইল মঙ্গলবারের ম্যাচ। বৃষ্টির পরই যেন স্যাঁতসেঁতে হয়ে যায় ভারতীয়দের যাবতীয় বারুদ।

গত শনিবার বরং ব্রাজিলের বিরুদ্ধে এর চেয়ে বেশি লড়াকু ফুটবল দেখিয়েছিল ভারত। কিন্তু উরুগুয়ের বিরুদ্ধে তারা প্রায় আত্মসমর্পণই করল বলা যায়। একটি দর্শনীয় গোল, কয়েকটি গোলে ভালো শট ছাড়া বলার মতো আর তেমন কিছুই ছিল না ভারতের পারফরম্যান্সে। এই ম্যাচটা ভুলতেই চাইবেন কোচ খালিদ জামিল। বরং মনে রাখতে চাইবেন পানামা ও ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচগুলি।

মঙ্গলবার যুবভারতীতে ১২ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি থেকে প্রথমে গোল করেন দারউইন নুনেজ। ২২ মিনিটের মাথায় সেই গোল শোধ করেন অনিরুদ্ধ থাপা। ২৯ মিনিটে ফের উরুগুয়েকে এগিয়ে দেন ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো। তিনি ফের গোল করেন দ্বিতীয়ার্ধে, ৫৯ মিনিটের মাথায়। রদ্রিগো জালাজার, হুয়ান ম্যানুয়েল সানাব্রিয়া ও সেবাস্তিয়ান আগুইরে বাকি গোলগুলি করেন।

প্রথম দশ মিনিটেই খেলা জমে ওঠে। শুরুতে উরুগুয়ে আক্রমণে উঠলেও পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ভারত। প্রথমে আনোয়ার আলি ও পরে এডমুন্ড লালরিন্ডিকা গোলের সুবর্ণ সুযোগও পান। ছ’মিনিটের মাথায় ডান দিক থেকে আকাশ মিশ্রj থ্রো-ইন উরুগুয়ের ডিফেন্ডাররা বল ক্লিয়ার করতে গেলে তা বক্সের বাইরে থাকা রায়ান উইলিয়ামসের কাছে পৌঁছয়। রায়ান শট নিলেও তা ব্লক হয়ে যায়। ফিরতি বলে অনোয়ার বক্সের বাইরে থেকে শট নেন, কিন্তু তাঁর শট বারের উপর দিয়ে চলে যায়।

এর তিন মিনিট পরেই বক্সের মধ্যে রায়ানের বাড়ানো বলে গোলের সুযোগ পেয়ে যান এডমন্ড। কিন্তু স্লাইড করে সেই বল আটকে দেন মোরিনো।

কিন্তু দশ মিনিটের মাথায় যে ঘটনাটি ঘটে, সেটা অপ্রত্যাশিতই ছিল। বক্সের মধ্যে গোলমুখী ফেদরিকো ভিনাসকে স্লাইডিং চ্যালেঞ্জ করতে গিয়ে ফাউল করে বসেন পরমবীর এবং পেনাল্টির বাঁশি বাজাতে দেরি করেননি উজবেকিস্তানের রেফারি রুস্তম লুৎফুলিন। সেই পেনাল্টি থেকে গোল করে উরুগুয়েকে এগিয়ে দেন দারউইন নুনেজ। এই গোলের মাত্র পাঁচ মিনিট পরে ফের গোলের সুযোগ পান নুনেজ। কিন্তু তাঁর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

তবে গোল খেয়েও দমে যায়নি ভারত। পাল্টা আক্রমণের ঝড় তোলে তারাও। এমনই এক পাল্টা আক্রমণে গোল শোধ করে দেয় ভারত। মাঠের মাঝখান থেকে যখন বল কেড়ে নেন রায়ান উইলিয়ামস, তখন তাঁর সামনে বেশ কিছুটা জায়গা ফাঁকা ছিল। নিজেই শট নেন তিনি। উরুগুয়ের গোলরক্ষক কারদোসো সেই শট বাঁচালেও, বল তাঁর হাত থেকে ছিটকে আসে ওত পেতে থাকা অনিরুদ্ধ থাপার কাছে। ফিরতি বল জালে জড়িয়ে দেন মোহনবাগানের মিডফিল্ডার।

ভারতের গোলের সঙ্গে সঙ্গে যুবভারতী স্বাভাবিক ভাবেই গর্জনে ফেটে পড়ে। কিন্তু সেই সময় গর্জন শুরু হয় প্রকৃতিরও। ঘন ঘন বাজ পড়তে শুরু করে। ফলে ম্যাচ সাময়িক বন্ধ করে দেন রেফারি। তখন ম্যাচের বয়স ২৮ মিনিট হয়েছে।

মিনিট ৩৫ খেলা বন্ধ থাকার পর যখন খেলা শুরু হয়, তখনই উরুগুয়েকে দ্বিতীয় গোলটি এনে দেন ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহো। ভারতীয়রা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ডান উইং দিয়ে উঠে তাঁকে গোলের সামনে বল প্রায় সাজিয়ে দেন নাহিতান নানদেজ। আরাউহোকে হয়তো আটকাতে পারতেন আনোয়ার আলি। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন। গোললাইনের সামনে থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন আরাউহো।

ম্যাচের ৩৭ মিনিটের মাথায় ফের গোলের সুযোগ পান দারউইন নুনেজ। ভারতের গোলের সামনে একেবারে ফাঁকায় বল পেয়ে যান তিনি। সামনে শুধু ছিলেন গুরপ্রীত ও সঙ্গে আনোয়ার। কিন্তু বল গোলে না মেরে গুরপ্রীতের গায়ে মারেন নুনেজ।

বিরতির পর ফের গোল করে উরুগুয়ে। অনেকক্ষণ ধরে যিনি গোলের চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন, সেই রদ্রিগো জালাজারের চেষ্টা সফল হয় ৫৩ মিনিটের মাথায়। তোরেইরা দারুণ একটি বল বাড়ান নুনেজের উদ্দেশে। হেড করে নুনেজ বল নামিয়ে দেন বক্সের ঠিক বাইরে থাকা জালাজারের কাছে। জালাজার এক টাচে বল সামনে এগিয়ে নিয়ে জোরালো শট নেন। তাঁর শট গুরপ্রীতকে পরাস্ত করে প্রথম পোস্টের ভিতর দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। উরুগুয়ে এগিয়ে যায় ৩-১-এ।

৫৯ মিনিটের মাথায় ৪-১-এ এগিয়ে যায় বিশ্বের ২০ নম্বর দল। আরাউহো তাঁর দ্বিতীয় গোলটি পেয়ে যান। ভারতের অর্ধে বল পেয়ে ভিনাস দুর্দান্ত একটি থ্রু বল বাড়ান আরাউহোর উদ্দেশে। আরাউহো এক টাচে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। এক্ষেত্রেও ভারতীয় রক্ষণ আরও ভাল করতে পারত। আরাউহোকে দৌড়ে বক্সের ভিতরে ঢুকে পড়ার সুযোগ না দিলে হয়তো গোলটা হত না।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বিজয় ভার্গিস ও সহাল আব্দুল সামাদকে নামানোর পর ৬৫ মিনিটের মাথায় মহম্মদ সনন ও ভালপুইয়াকে নামায় ভারত। মাঠে নেমেই দুর্দান্ত একটি দূরপাল্লার শট নেন সনন, যা কোনোরকমে বারের ওপর দিয়ে বার করে দেন গোলকিপার কার্দোজো। তার কিছুক্ষণ আগে একই ভাবে বক্সের বাইরে থেকে অসাধারণ একটি শট নেন আপুইয়াও। সেটিও বারের ওপর দিয়ে বার করে দেন উরুগুয়ের গোলকিপার।

সননের সেই স্মরণীয় শটের পরেই ফের গোল খায় ভারত। এই নিয়ে পাঁচ। কর্নারের পর পাল্টা আক্রমণে ওঠে উরুগুয়ে। আগুয়েরে থ্রু বাড়ান ডান দিকে থাকা পেলিস্ত্রির উদ্দেশে। বল পেয়ে কিছুটা সময় নিয়ে তিনি বক্সের ভিতরে থাকা সানাব্রিয়াকে বাড়ান। পরিবর্ত হিসেবে নামা সানাব্রিয়া কাছ থেকে কোনও ভুল না করে বল জালে জড়িয়ে দেন।

পাঁচ গোল খাওয়ার পর অভিজ্ঞ গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সান্ধু মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান, তাঁর বদলে নামেন আলবিনো গোমস। কিন্তু ততক্ষণে ভারতীয় দলের যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গিয়েছে।

নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার চার মিনিট আগে শেষ গোল রদ্রিগো আগুইরের। উরুগুয়ের কাছে তখন গোল করাটাই অভ্যাসে দাঁড়িয়েছে। পেলিস্ত্রি বল নিয়ে ড্রিবল করে ভারতের ফাইনাল থার্ডে ঢুকে পড়েন। তার পর বক্সের ঠিক বাইরে থাকা আগুইরের দিকে বল বাড়ান। আগুইরে প্রথম টাচেই বল নিয়ন্ত্রণ করে বাঁকানো শটে তা জড়িয়ে দেন জালে।

এই গোলের পরে ভারতের আর জবাব দেওয়ার মতো কিছুই ছিল না। বরং তাঁরা অপেক্ষায় ছিল কখন রেফারি খেলা শেষের বাঁশি বাজাবেন।