• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 2 October, 2026

‘আগে নামেই টাইগার রিজার্ভ ছিল, কোনও টাইগার ছিল না’, আগের সরকারকে তোপ শুভেন্দুর

তাছাড়া ২ অক্টোবর বক্সা টাইগার রিজার্ভে বাঘ ছাড়ার প্রস্তুতি ঘিরে তৈরি হয়েছিল তুমুল কৌতূহল। রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ

‘আগে নামেই টাইগার রিজার্ভ ছিল, কোনও টাইগার ছিল না’, আগের সরকারকে তোপ শুভেন্দুর

CM Suvendu Adhikari Photo-SNS

গান্ধী জয়ন্তীর দিন আলিপুরদুয়ারের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে নতুন করে সাজাতে উদ্যোগ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে আনা বাঘিনীকে বক্সার গভীর অরণ্যে ছেড়ে দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী আগের সরকারের তুমুল সমালোচনা করলেন। আগের সরকার যে এখানে সেভাবে কাজ করেনি সেই খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। বক্সায় বহু বছর ধরে স্থায়ী বাঘের উপস্থিতি নেই। ২০১৮ সালের গণনাতেও বাঘের অস্তিত্ব মেলেনি৷ তবে বহুদিন পরে আবার বক্সায় শোনা যাবে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের গর্জন। ২ অক্টোবর বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘ ছাড়ার কথা জানিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই কথা রেখেই বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে আনা বাঘিনী ছাড়া হল বক্সায়।

শুক্রবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের উপস্থিতিতে নিয়ে আসা বাঘকেই এনক্লোজার থেকে মুক্ত করে জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। আর তারপরই মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, নামেই যা এতদিন ‘টাইগার রিজার্ভ’ হয়ে বাঘশূন্য অবস্থায় পড়ে ছিল। এখন রাজ্য সরকারের মেহনত এবং স্বচ্ছতায় সেই জঙ্গল আবার নিজের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরে পাচ্ছে। উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ, আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন ক্ষেত্র তৈরি এবং চা-বাগানের স্তব্ধ অর্থনীতি চাঙ্গা করতে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক কাজের কথা তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমায় বাঘ ছাড়ার জন্য বলা হয়েছিল। আমি বলেছিলাম, ওই দিন গান্ধীজিরও জন্মদিন। তাই একসঙ্গে বাঘ ছাড়ব, গান্ধীজিকে শ্রদ্ধা জানাব এবং স্বচ্ছ ভারত অভিযানে যোগ দেব। এটা তো সবে শুরু। উত্তরের বন ও পরিবেশকে নিয়ে আরও অনেক কিছু হবে।’

CM Suvendu Adhikari Alipurduar Photo-SNS
CM Suvendu Adhikari Alipurduar Photo-SNS

এই কর্মসূচিতেই বক্সায় পশ্চিমবঙ্গের প্রথম সংগঠিত ব্যাঘ্র সংরক্ষণ প্রকল্প শুরু হল। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বনকর্মী এবং আধিকারিকদের অনুরোধে জঙ্গলের দুই হস্তিশাবকের নামকরণও করেছেন। পুরুষ হাতির নাম রেখেছেন চৈতন্য। আর মহিলা হস্তিশাবকের নাম রাখা হয়েছে সুলক্ষণা। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমাকে অনেক করে বলল হাতি দুটোর নামকরণ করতে। আমি ওঁদের প্রথমে পুরুষ হাতির মায়ের নাম জিজ্ঞেস করলাম। ওরা জানান, মায়ের নাম চৈতি। তখন আমি বললাম, তা হলে ব্যাটার নাম চৈতন্য। আর মহিলা শাবক হাতির মায়ের নাম সুমঙ্গলা। তাই বেটির সুলক্ষণা।’ বক্সা ও সংলগ্ন বনাঞ্চলকে বিশ্ব-মানচিত্রে নিয়ে যেতে কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রকের সহায়তায় বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় বনমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, জয়ন্তী এবং মানস লাগোয়া গভীর অরণ্যের প্রায় ২,০০০ একর জমিতে বিশ্বমানের অরণ্য পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। হলং বনবাংলোকে নতুন ও আধুনিক রূপ দেওয়ার কাজ চলছে। বক্সার জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিশ্রুতি, আগামী দুই মাসের মধ্যে এখানে আরও তিনটি বাঘ ছাড়া হবে।

তাছাড়া ২ অক্টোবর বক্সা টাইগার রিজার্ভে বাঘ ছাড়ার প্রস্তুতি ঘিরে তৈরি হয়েছিল তুমুল কৌতূহল। রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ নিজের সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে বাঘকে স্বাগত জানিয়ে ছবি পোস্ট করেন। পোস্ট ঘিরে ছড়িয়ে পড়ে একের পর এক শুভেচ্ছার মন্তব্য। তবে এখানে এদিন গত সরকারকে বিঁধেছেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর তোপ, ‘নামেই টাইগার রিজার্ভ ছিল। টাইগার ছিল না। আগের সরকারের এসবের কোনও মানসিকতা ছিল না। এই সরকার কী ভাবে কাজ করে দেখবেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছেন, জয়ন্তী-মানস লাগোয়া ২০০০ একর জায়গা চিহ্নিত করুন। ওয়ার্ল্ড ক্লাস ফরেস্ট ডেস্টিনেশন বানাব। আমরা শীঘ্রই সেই কাজ শুরু করে দেব। হলংয়ে বনবাংলো তৈরি হচ্ছে। বন্ধ চা-বাগান খোলারও ব্যবস্থা হচ্ছে। চা শ্রমিকদের জন্য অর্থ বরাদ্দ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।’