• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 28 September, 2026

সন্ত্রাসবাদের শীর্ষে পাকিস্তান, অতীত নীতিকে দায়ী করে সাপের কামড়ের সঙ্গে তুলনা প্রাক্তন পাক কূটনীতিকের

পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালে সন্ত্রাসবাদের প্রভাবের নিরিখে প্রথমবারের মতো তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তান। ৮.৫৭৪ স্কোর নিয়ে তারা ছাপিয়ে গিয়েছে বুর্কিনা ফাসোকেও।

সন্ত্রাসবাদের শীর্ষে পাকিস্তান, অতীত নীতিকে দায়ী করে সাপের কামড়ের সঙ্গে তুলনা প্রাক্তন পাক কূটনীতিকের

Photo: File Photo

বিশ্বের দরবারে উঠে এল পাকিস্তানের সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র। গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০২৬ (GTI)-এর সন্ত্রাসবাদের প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে উঠে এসেছে পাকিস্তান। তারপরেই এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের প্রাক্তন কূটনীতিক হুসেইন হাক্কানি। তাঁর দাবি, অতীতে উগ্রপন্থী সংগঠনগুলিরক প্রতি পাকিস্তানের নীতিরই পরিণতি এখন দেশটিকে ভোগ করতে হচ্ছে।

সমাজমাধ্যম এক্স হ্যান্ডলে সূচকের একটি গ্রাফিক্স শেয়ার করে হাক্কানি লেখেন, ‘বাড়ির পিছনের উঠোনে সাপ পুষলে একদিন সেই সাপের কামড় পরিবারের সদস্যদেরও খেতে হয়।’ তাঁর আরও দাবি, পাকিস্তান প্রায় ৫০ বছর আগে উগ্রপন্থী জিহাদিদের অস্ত্র দেওয়া শুরু করেছিল। এখন দেশটিই সন্ত্রাসী হামলার শিকার দেশগুলির তালিকার শীর্ষে। তাঁর প্রশ্ন, ‘কেউ কি এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিতে প্রস্তুত?’

ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (IEP) প্রকাশিত জিটিআই ২০২৬ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পাকিস্তানে ১ হাজার ৪৫টি সন্ত্রাসী হামলায় ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদের ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালে সন্ত্রাসবাদের প্রভাবের নিরিখে প্রথমবারের মতো তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তান। ৮.৫৭৪ স্কোর নিয়ে তারা ছাপিয়ে গিয়েছে বুর্কিনা ফাসোকেও। এর আগে প্রতিটি সংস্করণেই পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি দেশের মধ্যে ছিল।

২০২৫ সালে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদে মৃত্যুর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে হামলার সংখ্যা ২০২৪ সালের ১ হাজার ৯৮ থেকে কমে ১ হাজার ৪৫ হয়েছে। তবে অপহরণ করার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ১০১ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫৫-তে।

আইইপি-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের মোট সন্ত্রাসী হামলার ৭৪ শতাংশের বেশি এবং মৃত্যুর ৬৭ শতাংশ ঘটেছে বালুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায়। আফগানিস্তানে তালিবান ক্ষমতায় ফেরার পর পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধিকেও এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) ২০২৫ সালে পাকিস্তানের সবেচয়ে প্রাণঘাতী জঙ্গি সংগঠন ছিল। সংগঠনটির সঙ্গে ৫৯৫টি হামলা এবং ৬৩৭টি মৃত্যুর যোগসূত্র পাওয়া গিয়েছে। এটা পাকিস্তানের মোট সন্ত্রাসবাদের ঘটনায় মৃত্যুর ৫৬ শতাংশ।

আরও পড়ুন: পর পর বন্দুকবাজের হামলা, দক্ষিণ আফ্রিকায় নিহত অন্তত ২৭

প্রতিবেদনে বালুচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA)-র কর্মকাণ্ডেরও উল্লেখ রয়েছে। ২০২৫ সালে কোয়েটার কাছে একটি যাত্রীবাহী ট্রেন দখলের ঘটনাকে পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্বব্যাপী ২০২৫ সালে সন্ত্রাসবাদে মৃত্যু ২৮ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৫৮২-তে নেমেছে। হামলার সংখ্যাও প্রায় ২২ শতাংশ কমেছে। আইইপি জানিয়েছে, ওই বছর ৮১টি দেশে সন্ত্রাসবাদের পরিস্থিতির উন্নতি হলেও ১৯টি দেশে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।