আইএসএফের নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে দায়ের হওয়া মামলার শুনানি শেষ হয়েছে। রায়দান স্থগিত রেখেছে বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ। শুনানি চলাকালীন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ফের একাধিক প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট।
বিচারপতি কৃষ্ণা রাও বলেন, কর্তৃপক্ষের কাজকর্ম নিয়ে আদালত উদ্বিগ্ন। এমনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত, যাতে পরবর্তীকালে কর্তৃপক্ষকে প্রশ্নের মুখে পড়তে না হয়। সেই সঙ্গে আদালতকেও হস্তক্ষেপ করতে না হয়। আইএসএফের আগের প্রতীক পাওয়া তাদের আইনগত অধিকার নাও হতে পারে, এ কথা উল্লেখ করে এদিন আদালত প্রশ্ন তোলে। আদালতের প্রশ্ন, সেই প্রতীক না দিয়ে অন্য একটি দলকে কীভাবে তা দেওয়া হল?
ঋতব্রত পন্থী পক্ষের আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী আদালতে জানান, সাধারণ নির্বাচন এবং উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আলাদা। তাঁর যুক্তি, কোনও একটি নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়ে গেলে সেই নির্বাচন শেষ হয়ে যায়। ফ্রি সিম্বল দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনই চূড়ান্ত কর্তৃপক্ষ এবং কোনও রাজনৈতিক দলেরই প্রতীকের উপর মালিকানা দাবি করার অধিকার নেই।
এরপর বিচারপতি প্রশ্ন করেন, ডেমোক্রেটিক তৃণমূল আবেদন করেছিল এবং কমিশন তাদের প্রতীক দিয়েছে, এটি আদালত বুঝতে পারছে। কিন্তু আইএসএফও আবেদন করেছিল এবং সেই আবেদন বিবেচনা করা হয়েছিল কি না, তার নথি কোথায়? কোন আইনি বিধানের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন প্রতীকটি ডেমোক্রেটিক তৃণমূলকে দিয়েছে, তা নিয়েও আদালত সন্তুষ্ট হতে চায়।
আদালতের পর্যবেক্ষণ, কর্তৃপক্ষ যদি আগেই কোনও অনিয়ম করে থাকে, পরে সেই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হলে প্রশ্ন থেকেই যায়। কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতার অভাব থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করে আদালত।
আরও পড়ুন: বার বার আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ, ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা হারিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক
আইনজীবী জিষ্ণু চৌধুরী ফের জানান, প্রতীক দেওয়ার অধিকার নির্বাচন কমিশনের। কোনও রাজনৈতিক দলের নয়। অন্যদিকে, আইএসএফের পক্ষে আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বক্তব্য, সেই ক্ষমতা একতরফাভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে না। নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগর কেন্দ্রে উপনির্বাচনের আগে তাদের পুরনো প্রতীক ‘খাম’ ধরে রাখতে পারবে কিনা এখন নির্ভর করছে আদালতের রায়ের উপরেই।




