• facebook
  • twitter
  • youtube
Monday, 28 September, 2026

বার বার আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ, ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা হারিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক

প্রশাসনের বক্তব্য, নিরাপত্তার মাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস্তব ঝুঁকি এবং সরকারি নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশিকাই মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। অন্যদিকে অভিষেকের পক্ষের দাবি, অতীতে একাধিক বার আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা কমানো হলে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

বার বার আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ, ‘জেড প্লাস’ নিরাপত্তা হারিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক

Photo File

নিরাপত্তা নিয়ে এবার সরাসরি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ধাপে ধাপে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে সরকারি নিরাপত্তা। নেই জেড প্লাস নিরাপত্তার বলয়, নেই বিশেষ পাইলট কারও। বর্তমানে বাড়িতে হাতে গোনা কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী ছাড়া কার্যত বিশেষ কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই বলেই দাবি তাঁর।

সোমবার আদালতে অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য জানান, দীর্ঘদিন জেড প্লাস নিরাপত্তা পেতেন তাঁর মক্কেল। কিন্তু রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই ধাপে ধাপে সেই নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হয়েছে। আইনজীবীর দাবি, অভিষেক অতীতে একাধিক বার আক্রান্ত হয়েছেন। অথচ বর্তমানে তাঁর বাড়িতে কয়েকজন হাউস গার্ড ছাড়া উল্লেখযোগ্য নিরাপত্তা নেই।

নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে দ্রুত শুনানির আবেদন জানান অভিষেকের আইনজীবী। বিচারপতি কৃষ্ণ রাও মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন। আগামী ৬ অক্টোবর মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা। জেড প্লাস থেকে কয়েকজন রক্ষী, কেন কমল নিরাপত্তা?

অভিষেকের পক্ষের অভিযোগ, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই তাঁর নিরাপত্তা ধাপে ধাপে কমানো হয়েছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি বিশেষ পাইলট কারের সুবিধাও প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে দাবি।

অন্যদিকে প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, নিরাপত্তা সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা মেনেই নতুন করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে। একজন সাংসদ হিসাবে যে ধরনের নিরাপত্তা পাওয়ার কথা, সেই কাঠামোর মধ্যেই অভিষেকের নিরাপত্তা সীমিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেকের দপ্তরের সামনে অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা কমানো এবং তাঁর বাসভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের বিষয়টিও এর আগে আলোচনায় এসেছিল। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু সরঞ্জাম সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছিল।

অভিষেকের নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। প্রশাসনের বক্তব্য, নিরাপত্তার মাত্রা নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস্তব ঝুঁকি এবং সরকারি নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশিকাই মূল ভিত্তি হওয়া উচিত। অন্যদিকে অভিষেকের পক্ষের দাবি, অতীতে একাধিক বার আক্রান্ত হওয়ার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও নিরাপত্তা কমানো হলে তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

এখন প্রশ্ন, হাইকোর্টে অভিষেকের আবেদনের পর কী অবস্থান নেয় প্রশাসন? নিরাপত্তা কমানোর সিদ্ধান্তের পক্ষে কী যুক্তি দেখানো হয়? আর শেষ পর্যন্ত অভিষেকের নিরাপত্তার পরিধি কতটা থাকে?