রবিবার বিকেলে ঘটল ট্রেন দুর্ঘটনা। এই রেল দুর্ঘটনা ঘটেছে পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে। রবিবার বিকেল ৪টে নাগাদ নারায়ণগড় থানার রামপুরা এলাকায় লাইনচ্যুত হয়ে যায় একটি কয়লাবোঝাই মালগাড়ি। ওড়িশা থেকে খড়গপুরের দিকে যাওয়ার ডাউন লাইনে হঠাৎই ঘটে ট্রেন দুর্ঘটনা। লাইনের উপর লাইনচ্যুত হয়ে গেল একটি মালগাড়ির একাধিক ওয়াগন। তার জেরে বিপত্তি দেখা দিল। ট্রেন দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, মালগাড়ির দুটি বগি মারাত্মকভাবে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। আর চারটি বগি গড়িয়ে পড়ে যায়। এই রেল দুর্ঘটনার জেরে ওই শাখায় ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি স্তব্ধ হয়ে পড়ে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে রেল।
এই ট্রেন দুর্ঘটনায় মালগাড়ির মোট চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। তার মধ্যে দুটি বগি রেললাইন থেকে বেশ কিছুটা দূরে ছিটকে গিয়ে পড়ে। তার জেরে ঘটনাস্থলে ছড়িয়ে পড়ে কয়লা। ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেলের আধিকারিকরা। তারপর শুরু হয় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার কাজ। এই মালগাড়ি লাইনচ্যুত হওয়ায় ওই রুটে সমস্যা দেখা দেয়। একইসঙ্গে কী কারণে মালগাড়ি লাইনচ্যুত হল সেটা জানতে তদন্ত শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। নারায়ণগড় স্টেশন থেকে মালগাড়ি ছেড়ে বেনাপুরের দিকে যাওয়ার জন্য এগোচ্ছিল। তখনই বিপত্তি ঘটে। চলন্ত ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে বেশ কয়েকটি বগি ছেড়ে ট্রেনের কাপলিং হঠাৎ খুলে যায়। এই কারণে মাঝখানের দুটি বগি তীব্র ঝাঁকুনি দিয়ে লাইন থেকে ছিটকে বেলাইন হয়ে পড়ে।
এই ট্রেন দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর মেলেনি। তবে চারটি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কত সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। রেল সূত্রে খবর, প্রাথমিক কাজ শেষ হলে ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য সামনে আসবে বলে দাবি রেল কর্তৃপক্ষের। ট্রেন দুর্ঘটনার আঁচ পেতেই তৎক্ষণাৎ জরুরি ব্রেক কষেন মালগাড়ির চালক। তার ফলে বড় ধরনের কোনও ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান। তবে ঝাঁকুনির তীব্রতায় মাঝের দুটি বগি লাইনের ওপর কার্যত তালগোল পাকিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকেলে বিকট শব্দ শুনে তাঁরা ঘর ছেড়ে রেললাইনের দিকে ছুটে আসেন। তখন তাঁরা দেখতে পান মালগাড়ির বগিগুলি লাইনচ্যুত হয়ে বিপজ্জনকভাবে পড়ে গিয়েছে।
তাছাড়া প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেন দুর্ঘটনার অভিঘাত এতটাই জোরালো ছিল উপড়ে ও বেঁকে গিয়েছে রেললাইন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রেলের ওভারহেড বৈদ্যুতিক তারও। তার জেরে গোটা এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। খড়গপুর ডিভিশন থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছন রেলের পদস্থ আধিকারিক এবং ইঞ্জিনিয়ারদের বিশেষ উদ্ধারকারী দল। দুমড়ে যাওয়া বগিগুলি সরানো এবং রেললাইন ও ওভারহেড তারের মেরামতির কাজ শুরু হয়। তদন্ত শুরু করেছে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের খড়গপুর ডিভিশন।




