বিজেপির আদি-নব্য দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল খড়্গপুর গ্রামীণ বিধানসভার অন্তর্গত মেদিনীপুর সদর ব্লকের হাতিহল্কা এলাকা। শনিবার দু’পক্ষের সংঘর্ষে মৃত্যু হয় এক বিজেপি কর্মীর। মৃতের নাম শামসের বিশ্বাস (৩১)। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন বেশ কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে তিনজন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দফায় দফায় সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। এই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশ্যে এসেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বিশাল পুলিশবাহিনী। বিজেপি নেতাকে পিটিয়ে খুনের তদন্ত শুরু করেছে কোতোয়ালি থানার পুলিশ। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে বিজেপি।
এদিকে বিজেপি নেতা শামসের বিশ্বাসকে বাঁশ, লাঠি দিয়ে দফায় দফায় পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনার ভয়াবহ সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। মৃত বিজেপি নেতার নাম শামসের বিশ্বাসের উপর কে বা কারা হামলা চালিয়েছে সেটা এখনও জানা যায়নি। শুক্রবার বিকেলে মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি পদে রদবদল হয়। নতুন জেলা সভাপতি হিসেবে সৌমেন তিওয়ারির নাম ঘোষণার পরই হাতিহল্কা এলাকায় মিছিল করেন আদি বিজেপির কর্মীরা। ওই মিছিলকে কেন্দ্র করেই নব্য বিজেপির সদস্যদের সঙ্গে তাঁদের বচসা শুরু হয়। পরে জেলা নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে সাময়িক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও শনিবার সকালে আদি বিজেপির কর্মীদের উপর হামলা চালায় প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন সকালে ভাগ্নে জাফরকে নিয়ে হাতিহল্কার কদমতলা বাজারে চা পান করতে গিয়েছিলেন শামশের। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির কয়েকজন কর্মীও। চায়ের সঙ্গে আড্ডা দিচ্ছিলেন তাঁরা। হঠাৎই লাঠি, রড নিয়ে হামলা চালাতে শুরু করে একদল লোকজন। প্রথমেই শামসেরকে ঘিরে ফেলে চায়ের দোকান থেকে টেনেহিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে আসা হয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, একদল লোক বাঁশ, লাঠি নিয়ে একাধিকবার হামলা করছে। তাতেই ওই বিজেপি কর্মীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।
তাছাড়া টাঙ্গির আঘাতে গুরুতর জখম হন বেশ কয়েকজন। তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত্যু হয় শামসের বিশ্বাসের। বাকি তিনজন চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার পর শনিবার সকাল থেকেই নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। লাঠি এবং টাঙ্গি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সংঘর্ষের জেরে হাতিহল্কা এলাকায় এখনও থমথমে পরিবেশ। নতুন করে অশান্তি এড়াতে এলাকায় পুলিশ নজরদারি বাড়িয়েছে। মামাকে এমন অবস্থায় দেখে বাঁচাতে যান শামসেরের ভাগ্নে জাফর। ছুটে যান বিজেপি কর্মীরাও। কিন্তু তাঁদেরও মারতে শুরু করে দুষ্কৃতীরা। ভয়ে পালিয়ে যান তাঁরা। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, রাস্তার মাঝখানে বসে আছেন সামশের। তাঁকে ঘিরে ধরে এলোপাথাড়ি পেটাচ্ছে প্রায় ১৫-২০ জনের একটা দল। তাতেই রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন শামসের বিশ্বাস।




