• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 13 October, 2026

খড়্গপুরে পুরপ্রধান নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ, পাঁচ বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

পুরপ্রধান নির্বাচন ঘিরে খড়্গপুর পুরসভার সামনে পুলিশ ও বিজেপি কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ জনের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত

খড়্গপুরে পুরপ্রধান নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ, পাঁচ বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র

পুরপ্রধান নির্বাচন ঘিরে খড়্গপুর পুরসভার সামনে পুলিশ ও বিজেপি কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ জনের বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করল খড়্গপুর টাউন পুলিশ। সোমবার পুরভবনের গেটে তালা ঝুলিয়ে বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভ, তৃণমূল কাউন্সিলরদের গাড়িতে ভাঙচুর এবং পুলিশের লাঠিচার্জে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংঘর্ষে দু’পক্ষের কয়েক জন আহত হন। শেষ পর্যন্ত চেয়ারম্যান নির্বাচন স্থগিত করে দেওয়া হয়।
পুলিশের মামলায় অভিযুক্ত পাঁচ বিজেপি কর্মী হলেন সৌরভ ঝা, বাদল দাস, বালকৃষ্ণ গোলে, টিংকু যাদব ও শ্রী রাও। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের বচসা ও ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এক পর্যায়ে সৌরভ ঝা এক পুলিশকর্মীকে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ। এর পরেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ ঘোষের নেতৃত্বে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। বিজেপি কর্মীরাও পাল্টা প্রতিরোধ করেন।
প্রসঙ্গত, গত ৬ অক্টোবর অনাস্থা ভোটে কল্যাণী ঘোষ পুরপ্রধানের পদ হারান। এর পর উপপ্রধান তৈমুর আলী খান ১২ অক্টোবর সকাল ১০টায় নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচনের দিন ধার্য করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগেই বিজেপি কর্মীরা পুরসভার দুই গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তৃণমূল কাউন্সিলররা গাড়িতে করে সেখানে পৌঁছলে তাঁদের গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং ডিম ছোঁড়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ফের কাউন্সিলরদের গাড়ি লক্ষ্য করে ইট ও ডিম ছোঁড়া হয় বলে অভিযোগ।
তৃণমূল কাউন্সিলর প্রদীপ সরকার জানিয়েছেন, তাঁদের পুরসভায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি এবং কাউন্সিলরদের উপর হামলা হয়েছে। তাঁর দাবি, কাউন্সিলর ফিদা হোসেনের মাথা ফেটেছে। প্রশাসনের নিরাপত্তা না পেলে তাঁরা ভোটাভুটিতে অংশ নেবেন না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, বিজেপি কাউন্সিলর অভিষেক আগরওয়াল বলেন, শহরের উন্নয়ন থমকে যাওয়ায় মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে; এর সঙ্গে বিজেপির কোনও যোগ নেই। জেলা বিজেপি সভাপতি সৌমেন তিওয়ারির বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে মানুষ বিরক্ত। পুলিশকে মারধরের বিষয়ে তাঁর কাছে কোনও খবর নেই বলে দাবি করেছেন তিনি।
উপপ্রধান তৈমুর আলী খান জানিয়েছেন, নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে সরকারের নির্দেশের অপেক্ষা করা হচ্ছে। বিদায়ী পুরপ্রধান কল্যাণী ঘোষ বলেন, অন্যদের মতো তিনিও ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যম ও টেলিভিশনে দেখেছেন।