• facebook
  • twitter
  • youtube
Sunday, 27 September, 2026

বারবার দেখা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া-ব্রাজিল ম্যাচের ভিডিও, আনা হচ্ছে ‘বিশেষ ডেটা’, খালিদের দলে চলছে নীল-নকশা তৈরির কাজ

বিশ্বকাপ খেলা পানামা, যারা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯৮ ধাপ এগিয়ে, তাদের বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে ১-১ ড্র করে ভারত। রায়ান উইলিয়ামসের

বারবার দেখা হচ্ছে অস্ট্রেলিয়া-ব্রাজিল ম্যাচের ভিডিও, আনা হচ্ছে ‘বিশেষ ডেটা’, খালিদের দলে চলছে নীল-নকশা তৈরির কাজ

বিশ্বকাপ খেলা পানামা, যারা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৯৮ ধাপ এগিয়ে, তাদের বিরুদ্ধে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লড়াই করে ১-১ ড্র করে ভারত। রায়ান উইলিয়ামসের দুরন্ত গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে ওমর ভ্যালেন্সিয়ার দূরপাল্লার শটে সমতা ফেরায় পানামা।

শুক্রবার কান্তিরাভায় ভারতীয় দলের এই পারফরম্যান্স দেখার পর এ বার দেশের ফুটবলপ্রেমীরা আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন, ব্রাজিলের বিরুদ্ধেও তা হলে…।

যদিও কাজটা মোটেই সোজা না। কোথায় বিশ্বের ৪৪ নম্বর আর কোথায় বিশ্বের পাঁচ নম্বর। সম্প্রতি বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে এসেছে তারা। তাদের হারানো তো দূরের কথা, আটকানোও সোজা হবে না।

যদিও শুক্রবার ভারত মাঠে নামার আগে ব্রাজিলকে প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ৯৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০-য় এগিয়ে থাকার পর গোল করে হার বাঁচায় ব্রাজিল। সেই ম্যাচের ভিডিও বারবার দেখছেন খালিদ জামিল, তাঁর সাপোর্ট স্টাফ ও ফুটবলাররা। চেষ্টা করছেন, সেই ম্যাচ থেকে অনুপ্রেরণা ও পরিকল্পনা দুইই নেওয়ার।

অস্ট্রেলিয়া যে প্রক্রিয়ায় অস্ট্রেলিয়াকে আটকে ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত আটকে রেখে দিয়েছিল, গোল করতে দেয়নি। ভারতীয় দল সূত্রে খবর, সেই প্রক্রিয়া নিয়েও নীল-নকশা তৈরি হচ্ছে ভারতীয় দলে। জানা গিয়েছে, অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে খেলতে আসা রায়ানের যোগাযোগ কাচে লাগিয়ে অস্ট্রেলিয়া থেকে কিছু তথ্য আনা হচ্ছে, যে তথ্যগুলি ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ম্যাচে কাজে লাগিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ানরা।

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে বাজিমাত করতে গেলে যে পানামার চেয়েও কঠিন ও দ্রুত ফুটবল খেলতে হবে তাঁদের তা খুব ভাল করেই জানেন ভারতীয় ফুটবলাররা। সেই ভাবেই প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন খালিদ জামিলরা।

পানামার বিরুদ্ধে নিজেদের কোথায় খামতি ছিল, সেই বিশ্লেষণ তো হয়েছেই, সঙ্গে ব্রাজিলের কোথায় শক্তি, কোথায় দুর্বলতা, সেই বিশ্লেষণও চলছে ভারতীয় দলের ড্রেসিং রুমে। ভিনিসিয়াস, এন্দ্রিকদের সেই দুর্বলতাগুলি কী ভাবে কাজে লাগিয়ে বাজিমাত করা যায়, নীল-নকশায় থাকছে সেই প্ল্যানও।

শুক্রবারের ম্যাচের পরে ভারতীয় কোচ খালিদ জামিলের মুখে তাঁর ফুটবলারদের প্রশংসা শোনা যায় এবং গোলদাতা রায়ানের কথায় উঠে এসেছে দলগত সংহতির কথা।

পানামার মতো বিশ্বকাপ খেলা দলের বিরুদ্ধে এমন পারফরম্যান্সের পরে ফুটবলারদের প্রশংসা করে খালিদ বলেন, ‘সবাই খুব ভাল খেলেছে। সব ফুটবলার এবং কোচেরা খুব পরিশ্রম করেছেন। আমাদের এই আত্মবিশ্বাসটা ধরে রাখতে হবে, এ ভাবেই এগিয়ে যেতে হবে’।

খালিদের মতে, এই ধরনের পারফরম্যান্সই বার বার দেখতে চান তিনি। তবে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে আরো ভাল পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। তাঁর কথায়, ‘আমাদের প্রতি ম্যাচেই এই ধরনের পারফরম্যান্স দরকার। এমন খেলতে পারলে অনেক কিছুই সহজ হয়ে যাবে। আমাদের ফুটবলাররা যথেষ্ট পরিণত। ওদের আরও সমর্থন এবং ইতিবাচক পরিবেশ দরকার’।

রায়ান বলেছেন, ‘আমাদের দলে খুব ভাল একটা পরিবেশ রয়েছে। মাঠে এমন এক জন ফুটবলারও ছিল না যে নিজের সবটা দেয়নি। (ব্রাজিলের বিরুদ্ধেও) আমাদের এটাই করতে হবে’।

পানামার বিরুদ্ধে তাঁর গোলের কৃতিত্ব একা নিতে নারাজ রায়ান। তাঁর মতে, মনবীর সিং-এর মুভ-ই তাঁকে গোলের জায়গা তৈরি করে দিয়েছিল। বলেন, ‘মনবীর নীচে নেমে ওই ডিফেন্ডারকে নিজের দিকে টেনে না নিলে আমি গোলটা করতে পারতাম না। অনুশীলনে আমরা কিছু বিষয় নিয়ে কাজ করেছিলাম, তার মধ্যে এটাও ছিল। পরিস্থিতি অনুযায়ী মনে হয়েছিল বলটা ওই জায়গায় দেওয়া উচিত। তাই কৃতিত্ব সবাইকে দিতে হবে’।

রায়ানের মতে, গোলটি তাঁর একটি বিশেষ দক্ষতার ফলও। তিনি বলেন, ‘সময় বুঝে দৌড় শুরু করা আমার অন্যতম শক্তি। হয়তো পাঁচ বার দৌড়লে এক বার সুযোগ পাওয়া যায়। এক দৌড়ে বলটা পাই এবং গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বলটা গোলে পাঠাই’।

রায়ান বলেন, ‘আমরা জানি আমাদের সবচেয়ে ভাল দিকগুলি কী। আমরা সেগুলিই কাজে লাগিয়েছি। পুরো ৯০ মিনিট নিয়ে ভাবিনি, বরং প্রতিটি মুহূর্তে নিজেদের কাজটা ঠিক ভাবে করার চেষ্টা করেছি। একটি একটি করে সেই মুহূর্তগুলো যোগ হতে থাকে, আত্মবিশ্বাসও বাড়তে থাকে’।

এ বার সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা। পরবর্তী আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলিতে ব্রাজিল এবং উরুগুয়ের মতো দলের মুখোমুখি হবে ভারত। পানামার বিরুদ্ধে পারফরম্যান্সকেই এই ম্যাচগুলিতে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা হিসাবে দেখছেন রায়ান।

তিনি বলেন, ‘প্রস্তুতি শিবিরটা খুব ভাল হয়েছে আমাদের। সবাই খুব স্বাধীন ভাবে, খুশি মনে এবং ইতিবাচক পরিবেশের মধ্যে ছিলাম। এখন এই পরিবেশটা পরের প্র্যাকটিসগুলোতেও ধরে রাখতে হবে। আমার মনে হয় আমরা সঠিক পথেই এগোচ্ছি’।

সত্যিই সঠিক পথে এগোচ্ছেন কি না, তা বোঝা যাবে আগামী শনিবার যুবভারতীতে। ব্রাজিলকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারেন কি না ভারতীয় ফুটবলাররা। যদি পারেন, তা হলে বুঝতে হবে রায়ানের কথাই ঠিক। সঠিক পথেই এগোচ্ছে ভারতীয় দল।