• facebook
  • twitter
  • youtube
Friday, 25 September, 2026

রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারত-চিনকে জলবায়ু বিষয়ে সহযোগিতার আহ্বান নেপালের প্রধানমন্ত্রীর

শুক্রবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ বলেন, এই বিপর্যয় গোটা বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা

রাষ্ট্রসঙ্ঘে ভারত-চিনকে জলবায়ু বিষয়ে সহযোগিতার আহ্বান নেপালের প্রধানমন্ত্রীর

Image: X

ভোটেকোশী-ত্রিশূলী নদীর ভয়াবহব বন্যা নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘে সতর্কবার্তা দিলেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহ (Balendra Shah)। বন্যার চার সপ্তাহ পর রাষ্ট্রসঙ্ঘের (UN) মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, এমন এক জলবায়ু সংকটের মুখোমুখি আমরা দাঁড়িয়ে আছি, তাকে আর দূরের কোনও সমস্যা হিসেবে দেখার কোনও সুযোগ নেই।

শুক্রবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের (UN) সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শাহ (Balendra Shah) বলেন, এই বিপর্যয় গোটা বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা। তাঁর কথায়, ‘হিমালয়ান সুনামি’, যা বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। বহু পরিবার এখনও নিখোঁজ পরিজনের অপেক্ষায় রয়েছে এবং কাদা-পাথরের স্তূপের মধ্যে মৃতদেহের সন্ধান চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

শাহ (Balendra Shah) বলেন, ‘ভোটেকোশী-ত্রিশূলী বিপর্যয় শুধু স্থানীয় একটি দুর্ঘটনা ছিল না। এটি বিশ্বের জন্য একটি সতর্কবার্তা। আমরা কি সত্যিই এই সতর্কবার্তা শুনতে চাইছি?’ তিনি আরও বলেন, নেপাল থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘে তিনি একটি এসেছেন এমন এক পরিস্থিতির কথা বলতে যার প্রভাব শুধু নেপালে  (Nepal) তাঁর দেশেই সীমাবদ্ধ নয়। গোটা বিশ্বই এর প্রভাবে আসতে পারে। শাহ (Balendra Shah) বলেন, ‘আমি হিমালয়ের কোলের একটি দেশ নেপাল থেকে আপনাদের সামনে এসেছি। সেই সঙ্গে এনেছি মানবজাতির জন্য অত্যন্ত কাছের একটি সতর্কবার্তা।‘

হিমালয়ের জলবায়ু সংকটের সতর্কবার্তা

শাহ (Balendra Shah) বলেন, ভোটেকোশি-ত্রিশূলী বন্যার ভয়াবহতা দেখিয়ে দিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি কত দ্রুত একটি দেশের উন্নয়নকে বিপর্যস্ত করতে পারে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে রাস্তা, সেতু, স্কুল, বাড়িঘর এবং মানুষের জীবিকা ভেসে গিয়েছে বলে জানান তিনি। শাহের দাবি, বিপর্যয়ের পর নেপালে অন্তত ১,৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৬,০০০-এরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ।

শাহ (Balendra Shah) বলেন, বিশ্বে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের (Nepal) অবদান ০.১ শতাংশেরও কম। অথচ উষ্ণায়নের প্রভাব দেশটিতে ইতিমধ্যেই ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। হিমবাহ গলছে, পাহাড়ের ঢাল ক্রমশ অস্থিতিশীল হচ্ছে এবং নদীগুলির গতিপ্রকৃতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। তাঁর কথায়, প্রতিটি বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় নেপালের উন্নয়নের কয়েক বছরের অগ্রগতি মুছে দিতে পারে। শাহ বলেন, ‘নেপালের কাছে জলবায়ু বিপর্যয় শুধু মানবিক সংকট নয়, এটি উন্নয়নের জরুরি পরিস্থিতি।’

আরও পড়ুন: আগের চেয়ে ভালো সম্পর্ক, ট্রাম্প-জিনপিং-এর উষ্ণতার বার্তা, হোয়াইট হাউসের বাইরে ‘ফ্রি তিব্বত’ স্লোগান বিক্ষোভকারীদের

গলতে থাকা হিমবাহ ও অস্থিতিশীল পাহাড় বাড়াচ্ছে বিপদের আশঙ্কা

ভোটেকোশী-ত্রিশূলী নদীতে যে বন্যা হয়েছে তাকে হিমালয় অঞ্চলের বৃহত্তর জলবায়ু ঝুঁকি বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শাহ (Balendra Shah)। তিনি বলেন, ‘উষ্ণায়ন হিমালয়ের ভঙ্গুর বাস্তুতন্ত্রকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে।‘ নেপালের (Nepal) প্রধানমন্ত্রী (Balendra Shah) বলেন, এই ঝুঁকি কোনও একটি উপত্যকা বা একটি দেশের মধঅযে সীমাবদ্ধ নয়। জল এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয় কোনও আন্তর্জাতিক সীমান্ত মেনে চলে না। তিনি আরও বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন সীমান্ত চেনে না। হিমবাহ এবং বন্যা পাসপোর্ট ভিসার ছাপ নিয়ে চলে না।‘ তাঁর স্পষ্ট বার্তা, হিমালয়ে বিপর্যয় মোকাবিলার পরিকল্পনা কোনও আন্তর্জাতিক সীমান্তে গিয়ে থেমে থাকতে পারে না।

আরও ঋণ নয়, অনুদানের দাবি নেপালের

জলবায়ু বিপর্যয়ের পরে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির উপর আর্থিক বোঝা নিয়েও রাষ্ট্রসঙ্ঘে সরব হন নেপালের (Nepal) প্রধানমন্ত্রী (Balendra Shah)। তিনি বলেন, জলবায়ুজনিত বিপর্যয়ের পর পুনর্গঠনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলিকে যেন আরও ঋণের বোঝা নিতে না হয়। ভোটেকোশী-ত্রিশূলী বিপর্যয়ের ভয়াবহতা দেখিয়ে দিয়েছে, আন্তর্জাতিক সাহায্য আরও শক্তিশালী এবং সহজলভ্য করা প্রয়োজন।

শাহ (Balendra Shah) বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বিপর্যয়ে যখন একটি দরিদ্র দেশের পরিকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়, তখন তার সমাধান শুধুমাত্র আরও একটি বড় ঋণ বা ছোট ছোট অনুদানের জোড়াতালি হতে পারে না।’ তাঁর দাবি, বিশ্বের কাছ থেকে পর্যাপ্ত অনুদানভিত্তিক সহায়তা প্রয়োজন।জলবায়ু তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ এবং দ্রুত করার আহ্বান জানান তিনি। শাহ বলেন, ‘বাড়িতে আগুন লাগলে আমরা পরিবারকে ৫০টি ফর্ম পূরণ করতে বলি না। আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নিই।’

ভারত-চিনকে নিয়ে নতুন হিমালয় জলবায়ু ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাব

রাষ্ট্রসঙ্ঘে (UN) নিজের বক্তব্যে ‘হিমালয়ান ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স মেকানিজম’ তৈরির প্রস্তাব দেন শাহ। নেপাল, ভারত ও চিনকে নিয়ে এই ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মাধ্যমে তিন দেশের মধ্যে জলবায়ু সংক্রান্ত বাস্তব সহযোগিতার উপর জোর দেওয়া হবে। এর মধ্যে থাকবে উপগ্রহের তথ্য এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা ভাগ করে নেওয়া, বিপজ্জনক হিমবাহ-হ্রদগুলির উপর নজরদারি, যৌথ আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা উন্নত করা এবং সীমান্ত পেরিয়ে বিপর্যয় মোকাবিলায় সমন্বয় গড়ে তোলা।

শাহ (Balendra Shah)বলেন, হিমালয় এমন একটি অঞ্চলে পরিণত হওয়া উচিত, যেখানে দেশগুলি জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করবে এবং তথ্য আলাদা আলাদা ব্যবস্থায় আটকে থাকবে না।তাঁর কথায়, হিমালয়কে ‘আন্তর্জাতিক সহযোগিতার গবেষণাগার’ হয়ে উঠতে হবে।

আরও পড়ুন: শুক্রবারও দক্ষিবঙ্গে বৃষ্টির পূর্বাভাস, উত্তরেও কি হবে বৃষ্টি?

হিমালয়ের উপর নির্ভরশীল প্রায় ২০০ কোটি মানুষ

রাষ্ট্রসঙ্ঘের (UN) সাধারণ পরিষদকে শাহ (Balendra Shah) মনে করিয়ে দেন, হিমালয় শুধু নেপাল (Nepal) ও তার প্রতিবেশী দেশগুলির একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়। শাহের বক্তব্য অনুযায়ী, হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চল প্রায় ২০০ কোটি মানুষের আবাসস্থল। এই পর্বতমালা বিস্তীর্ণ অঞ্চলের জল সরবরাহ, বাস্তুতন্ত্র, কৃষি এবং মানুষের জীবিকাকে সমর্থন করে।

তিনি বলেন, ‘হিমালয় পৃথিবীর প্রান্তিক কোনও অঞ্চল নয়। এটি পৃথিবীর জীবনধারণ ব্যবস্থারই একটি অংশ।’ তাই হিমালয়ের জলবায়ু ঝুঁকি শুধু পাহাড়ি দেশগুলির সমস্যা নয়, বরং তা আন্তর্জাতিক উদ্বেগের বিষয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

জলবায়ু উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন শাহ

অন্য দেশগুলির কাছ থেকে আরও সহায়তা চাওয়ার পাশাপাশি নেপালের (Nepal) নিজস্ব জলবায়ু মোকাবিলার উদ্যোগগুলিও তুলে ধরেন শাহ (Balendra Shah)। তিনি জানান, বর্তমানে নেপালের প্রায় অর্ধেক এলাকা বনাঞ্চলে ঢাকা। জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি, বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার এবং স্থানীয় স্তরে জলবায়ু অভিযোজনের মতো পদক্ষেপও নিয়েছে তাঁর দেশ।তবে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু ঝুঁকি একা নেপালের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

শাহের (Balendra Shah) বক্তব্য, যেসব দেশের গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বেশি এবং যাদের মোকাবিলার ক্ষমতাও বেশি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সামলাতে তাদের আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রসঙ্ঘের নথিতে জলবায়ু ন্যায়বিচার শুধু একটি সুন্দর শব্দবন্ধ হয়ে থাকা উচিত নয়।’

দেখুন: ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইস্তফা না দিলে দেশজুড়ে প্রতিবাদ’, জ্ঞানেশকে হুঁশিয়ারি সিজেপি