• facebook
  • twitter
  • youtube
Tuesday, 22 September, 2026

খুন করে দে: সৎ ফরেস্ট অফিসারকে পিষে দিল মাফিয়াদের ডাম্পার, অবৈধ খনন রুখতে গিয়ে রাজস্থানে রক্তারক্তি

শুধু রাজস্থান নয়, গোটা দেশেই অবৈধ খনন রুখতে গিয়ে আধিকারিক খুনের নজির রয়েছে একাধিক। হরিয়ানার নুহ জেলায় ডিএসপি (DSP) সুরেন্দ্র সিংকে ডাম্পার দিয়ে পিষে মারার অভিযোগ উঠেছিল। মধ্যপ্রদেশের মোরেনায় তরুণ আইপিএস (IPS) অফিসার নরেন্দ্র কুমারও একই ভাবে খুন করা হন খনি-মাফিয়াদের হাতে।

খুন করে দে: সৎ ফরেস্ট অফিসারকে পিষে দিল মাফিয়াদের ডাম্পার, অবৈধ খনন রুখতে গিয়ে রাজস্থানে রক্তারক্তি

Decorated forest officer crushed by mining mafia in Rajasthan (Representative Image: @Pexels/Pixabay)

অবৈধ খনন (Illegal Mining) রুখতে গিয়ে প্রাণ গেল রাজস্থানের এক সৎ এবং দক্ষ বনকর্তার। ভয়ঙ্কর এই ঘটনার জেরে নতুন করে উঠে এসেছে খনি মাফিয়া (Mining Mafia), প্রশাসন আর রাজনীতির লড়াইয়ের বহু পুরনো প্রশ্ন।

রাতের অন্ধকারে অভিযান

ঘটনাটি রাজস্থানের (Rajasthan) প্রতাপগড় (Pratapgarh) জেলার ছোটিসাদরি (Chhoti Sadri) এলাকার। সোমবার রাতে খবর আসে, জঙ্গল লাগোয়া একটি এলাকায় বেআইনি ভাবে মাটি কাটা চলছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছোটেন রেঞ্জার (Forest Ranger) প্রতাপ সিং চুন্ডাওয়াত। সঙ্গে ছিলেন এক বনরক্ষীও। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, যেভাবে হোক অবৈধ খনন বন্ধ করা।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি বোঝাই একটি ডাম্পার (Dumper) আটকানোর চেষ্টা করেন চুন্ডাওয়াত। অভিযোগ, তাঁকে দেখেই গাড়িটি বেপরোয়া ভাবে ছুটতে শুরু করে। মাফিয়াদের নির্দেশে বাইক সওয়ার রেঞ্জারকে সরাসরি গাড়িটি ধাক্কা মারে বলে দাবি। শুধু তাই নয়, তাঁর মোটরবাইক-সহ তাঁকে বেশ কয়েক মিটার টেনে নিয়ে যাওয়া হয় বলেও জানাচ্ছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তার পরেই গাড়িটি চম্পট দেয়।

শেষরক্ষা হল না

গুরুতর জখম অবস্থায় প্রতাপ সিংকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাঁকে রেফার করা হয় নিমবাহেড়ার (Nimbahera) জেলা হাসপাতালে। চিকিৎসা চলাকালীনই মঙ্গলবার মৃত্যু হয় তাঁর। ডিভিশনাল ফরেস্ট অফিসার (Divisional Forest Officer) সুরেশ চন্দ্র আগরওয়াল জানিয়েছেন, অবৈধ খননের খবর পেয়েই দল পাঠানো হয়েছিল ওই এলাকায়।

রাজনীতির আঁচ

ঘটনার পরে যথারীতি রাজ্য রাজনীতি সরগরম। রাজস্থান কংগ্রেসের (Congress) রাজ্য সভাপতি গোবিন্দ সিং দোতাসরা এই মৃত্যুকে নিছক দুর্ঘটনা বলে মানতে নারাজ। তাঁর দাবি, এটা শুধু এক জন আধিকারিকের খুন নয়, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার সামনে খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, রাজ্যে খনি মাফিয়ারা এতটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে যে, সরকারি আধিকারিকের প্রাণ নিতেও পিছপা হচ্ছে না তারা। এটা পিছনে বড় খুঁটির জোর না থাকলে সম্ভব নয়। এই বিজেপি সরকারের অগ্রাধিকার শুধু ক্ষমতা ধরে রাখা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বা মাফিয়াদের রাশ টানা নয়। যদিও রাজ্য বিজেপি এই বিষয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেনি।

রাজস্থানে মাফিয়ারাজ

রাজস্থানে আরাবল্লি (Aravalli) পাহাড় ঘিরে অবৈধ খননের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ২০১৮ সালে ক্যাগের (CAG) রিপোর্টেই উঠে এসেছিল, রাজ্যের পাঁচটি জেলায় প্রায় ৯৮ লক্ষ টন খনিজ বেআইনি ভাবে তোলা হয়েছে, যার বাজারদর প্রায় ২০৪ কোটি টাকা। সুপ্রিম কোর্টের একাধিক নির্দেশ সত্ত্বেও আরাবল্লিতে পাহাড় কেটে সাফ করে দেওয়ার অভিযোগ বারবার উঠেছে। রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের একাংশের সঙ্গে মাফিয়াদের আঁতাতের অভিযোগও নতুন নয়।

আগেও প্রাণ গিয়েছে

শুধু রাজস্থান নয়, গোটা দেশেই অবৈধ খনন রুখতে গিয়ে আধিকারিক খুনের নজির রয়েছে একাধিক। হরিয়ানার নুহ জেলায় ডিএসপি (DSP) সুরেন্দ্র সিংকে ডাম্পার দিয়ে পিষে মারার অভিযোগ উঠেছিল। মধ্যপ্রদেশের মোরেনায় তরুণ আইপিএস (IPS) অফিসার নরেন্দ্র কুমারও একই ভাবে খুন করা হন খনি-মাফিয়াদের হাতে। প্রতাপ সিং চুন্ডাওয়াতের মৃত্যু সেই তালিকাতেই নতুন সংযোজন, যা ফের প্রশ্ন তুলে দিল খনি মাফিয়াদের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে।

অতঃপর

ঘটনার পরে দোষীদের খোঁজে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ডাম্পারের মালিক এবং এই চক্রের (Nexus) সঙ্গে আর কারা যুক্ত, তা নিয়েও চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে চলছিল মাটি ও পাথর খনন।  মাফিয়াদের বাড়বাড়ন্তের পিছনে রাজনৈতিক মদত রয়েছে বলেই তাঁদের দাবি।