একদিকে হড়পা বান, অন্যদিকে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস — প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিপর্যস্ত কেরল। রবিবার মালাপ্পুরম ও ইডুক্কি জেলায় এই দুই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। শেষ পাওয়া খবরে নিখোঁজ রয়েছেন বেশ কয়েকজন। তাঁদের খোঁজে রবিবার রাত থেকে তল্লাশি চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। টানা বৃষ্টি এবং দুর্গম এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজেও সমস্যা হচ্ছে। বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে থাকায় মুখ্যমন্ত্রী ভিডি সতীশন সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রতি ঘণ্টায় পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে এবং যেখানে যেখানে প্রয়োজন সেই সময় জায়গা থেকে অবিলম্বে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
রবিবার বিকেলে কেরলের মালাপ্পুরম জেলার নীলাম্বুর এলাকার কোট্টাপুঝা নদীতে আচমকাই জলস্তর বেড়ে গিয়ে হড়পা বান আসে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে মালাপ্পুরমের নীলাম্বুর ও আমরাম্বালম এলাকায়। কোট্টাপুঝার নদীতীরবর্তী অঞ্চল উলারভাট্টম ক্যানাল থেকে টিকে কলোনি পর্যন্ত স্থানীয়দের পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও জনপ্রিয়। রবিবার ছুটির দিন হওয়ায় সেখানে ভিড়ও ছিল। আচমকা জল বেড়ে যাওয়ায় অন্তত ৯ জন স্রোতে ভেসে যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়।
এদিকে হড়পা বানের সময় নদীর মধ্যে আটকে পড়েছিলেন প্রায় ২৭ জন। কেউ পাথরের উপরে, কেউ গাছ আঁকড়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেন। স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবী এবং উদ্ধারকারীরা তাঁদের অনেককেই নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে আসেন। পরে নদী থেকে উদ্ধার হয় একাধিক দেহ। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাস্থলের আশেপাশে তখন তেমন বৃষ্টি হয়নি। জঙ্গল ও পাহাড়ি এলাকায় প্রবল বৃষ্টির জেরেই আচমকা নদীর জল বেড়ে থাকতে পারে বলে অনুমান।
অন্যদিকে, ইডুক্কির কোট্টাকাম্বুরে বিকেল থেকে প্রবল বৃষ্টি নামে। সেইসঙ্গে নামে ভূমিধস। সেই সময় রসুনের ক্ষেতে কাজ করছিলেন বছর ৪০-এর বালাকৃষ্ণন ও ৩৬ বছরের চিন্না। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে তাঁরা একটি টিনের শেডে আশ্রয় নিয়েছিলেন। আচমকাই পাহাড়ের মাটি ও পাথর নেমে এসে শেডের উপর পড়ে এবং সেটি চাপা পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের। গুরুতর জখম হন বালাকৃষ্ণনের স্ত্রী মারিয়াম্মা। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
দুর্যোগের খবর পেয়ে প্রশাসনের তরফে জোরকদমে উদ্ধারকাজ শুরু হয়। বিপজ্জনক এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কমিশনার বিঘ্নেশ্বরী পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে ইডুক্কি ও কোট্টায়াম জেলার কালেক্টরদের সঙ্গে বৈঠক করেন। দুই জেলাতেই এসএমএসের মাধ্যমে আবহাওয়া সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজন হলে বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কালেক্টরদের।
নদী ও পাহাড়ি এলাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় হড়পা বান ও ভূমিধসের আশঙ্কায় নজরদারি বাড়িয়েছে প্রশাসন।




