এক দিনেই চার পদক। শুটিংয়ে রুপো ও ব্রোঞ্জের জোড়া সাফল্য, মিক্সড মার্শাল আর্টসে (MMA) ঐতিহাসিক ব্রোঞ্জ। তার সঙ্গে হকিতে ১৭ গোলের ঝড়, কাবাডিতে জাপানকে হারিয়ে দাপুটে শুরু। এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় দিনটা ভারতেরই হয়ে রইল।
দিনের শুরুতেই শুটিংয়ে এল রুপো। পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল দলগত বিভাগে হিমাংশু ধিল্লোঁ, পার্থ মানে এবং রুদ্রাঙ্ক্ষ পাটিলের ভারতীয় দল রুপো জেতে। পার্থ ব্যক্তিগত ফাইনালে উঠতে পারেননি, তবে রুদ্রাঙ্ক্ষ ও হিমাংশু ব্যক্তিগত ইভেন্টের ফাইনালে জায়গা করে নেন।
তার পর ব্যক্তিগত ফাইনালে আরও বড় সাফল্য। হিমাংশু ধিল্লোঁ রুপো এবং প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রুদ্রাঙ্ক্ষ পাটিল ব্রোঞ্জ জিতে নেন। অর্থাৎ পুরুষদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে একসঙ্গে দু’টি ব্যক্তিগত পদক এল ভারতের ঘরে।
India’s first Asian Games medal in MMA!
Congratulations to Suchika Tariyal on winning the Bronze Medal in the Women’s Traditional-60 kg category at the #AsianGames2026.
With MMA making its debut at the Asian Games, Suchika has etched her name in history as India’s first Asian Games medallist in MMA.
#Cheer4Bharat
— Kiren Rijiju (@KirenRijiju) September 21, 2026
সুচিকার চোখে জল, নিয়মে হাতছাড়া রুপো
MMA-তে ইতিহাস তৈরি করেও শেষটা হল হৃদয়বিদারক। মহিলাদের ট্র্যাডিশনাল ৬০ কেজি বিভাগে সিঙ্গাপুরের ভিক্টোরিয়া তেও-র বিরুদ্ধে সেমিফাইনালে লড়াই করেন সুচিকা তারিওয়াল। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর বিচারকদের সিদ্ধান্তে তেও ফাইনালে ওঠেন। সুচিকা পান ব্রোঞ্জ।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। ভারতীয় শিবির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। সুচিকার কোচ বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করেছি। লড়াইটি ড্র হয়েছিল এবং অতিরিক্ত সময়েও গিয়েছিল। সেই অতিরিক্ত সময় ছিল মাত্র এক মিনিট। তার পর ফল সিঙ্গাপুরের পক্ষে দেওয়া হয়, সেটাই আমরা চ্যালেঞ্জ করেছি।’
আরবিট্রেশন প্যানেল পরে লড়াইটিকে ড্র ঘোষণা করে। কিন্তু প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী ড্র হলে কম ওজনের খেলোয়াড়কে জয়ী ঘোষণা করা হয়। সুচিকার ওজন প্রতিপক্ষের চেয়ে ৭০০ গ্রাম বেশি হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তেও-ই ফাইনালে যান। ফলে সুচিকাকে ব্রোঞ্জেই থামতে হয়।
ফল ঘোষণার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন সুচিকা। তাঁর কোচ এগিয়ে এসে তাঁকে সান্ত্বনা দেন। তবে এই ব্রোঞ্জই এশিয়ান গেমসে MMA-তে ভারতের ঐতিহাসিক প্রথম পদক।
হকিতে গোলের বন্যা
পদকের পাশাপাশি দলগত খেলাতেও দাপট ভারতের। মহিলাদের হকিতে ইন্দোনেশিয়াকে ১৭-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় ভারতীয় দল। সুনেলিতা টোপ্পো, দীপিকা, লালরেমসিয়ামি এবং রুতুজা পিসাল—একাধিক খেলোয়াড় জোড়া গোল করেন।
কাবাডিতেও শুরুটা দুরন্ত হয়। পুরুষদের গ্রুপ ‘এ’-তে জাপানকে ৪৯-২৪ পয়েন্টে হারিয়ে অভিযান শুরু করেছে ভারত। অন্য দিকে মহিলাদের টেবিল টেনিসে পাকিস্তানকে ৩-০ হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ভারতীয় দল।
সাঁতারে ৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোকে ফাইনালে উঠেছেন শ্রীহরি নটরাজ। অন্য দিকে ৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল এবং ১০০ মিটার ব্রেস্টস্ট্রোকে ভারতীয়রা ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারেননি। সফট টেনিসে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে হারলেও ১৬ দলের রাউন্ডে উঠেছে আধ্যা তিওয়ারি ও জয় মিনার জুটি।
দিনের শেষে তাই ভারতের পদক সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ছয়—চারটি রুপো ও দুটি ব্রোঞ্জ। শুটিংয়ের সাফল্য এবং সুচিকার ঐতিহাসিক পদকের পাশাপাশি হকি-কাবাডির দাপট—এশিয়ান গেমসে ভারতের অভিযান যে ক্রমশ জমে উঠছে, দ্বিতীয় দিনেই তার বড় প্রমাণ মিলল।




